
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে উচ্চমূল্যের পুষ্টিকর সবজি ক্যাপসিকাম। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ, বাজারে ভালো দাম এবং পুষ্টিগুণের কারণে কৃষকদের কাছে এটি এখন সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসলে পরিণত হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এক কৃষক মাঠ দিবসে সেই সম্ভাবনারই বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে।
উপজেলার পাজালকান্দি গ্রামের কৃষক আল আমীন খানের বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয় ক্যাপসিকাম প্রদর্শনীর ওপর কৃষক মাঠ দিবস। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় দেড়শতাধিক কৃষক-কৃষাণি অংশ নেন। এ সময় কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, ফলন বৃদ্ধির কৌশল, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং ক্যাপসিকামের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়।
শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফরিদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ খয়ের উদ্দিন মোল্লা। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএই শরীয়তপুরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম এবং গোসাইরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন।
পুষ্টিবিদদের মতে, সবুজ, লাল, হলুদ ও কমলা বিভিন্ন রঙের ক্যাপসিকামে রয়েছে ভিন্নমাত্রার পুষ্টিগুণ। সব ধরনের ক্যাপসিকামেই প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন ই, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পটাশিয়াম ও ফোলেট বিদ্যমান। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি এটি দেহের পুষ্টির ঘাটতি পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমানে সালাদ, স্যুপ, নুডলস, পাস্তা, ভাজি ও স্যান্ডউইচসহ নানা খাবারে ক্যাপসিকামের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে শহরাঞ্চলের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও এর চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রদর্শনীর কৃষক মো. আল আমীন খান জানান, তিনি ২০ শতক জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে সবুজ ক্যাপসিকামের আবাদ করেছেন। এতে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। এরইমধ্যে তিনি ২০ হাজার টাকার ক্যাপসিকাম বিক্রি করেছেন। কোনো বড় ধরনের সমস্যা না হলে আরও ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকার ক্যাপসিকাম বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি। বাজারজাত ব্যবস্থা আরও ভালো হলে একই জমি থেকে লাখ টাকারও বেশি আয় সম্ভব। আমার ক্যাপসিকামের ভালো ফলন দেখে এখন এলাকার অনেক কৃষকই এখন আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
মাঠ দিবসে অংশ নেওয়া কৃষক জাকির হোসেন মুন্সী বলেন, আগে ক্যাপসিকামকে বিলাসী সবজি মনে করে চাষ করতে ভয় পেতাম। কিন্তু আল আমীনের সফলতা আমাদের এখন সেই ভীতিমুক্ত করেছে। কৃষি কর্মকর্তাদের বর্ণনা অনুযায়ী এটি যেমন পুষ্টিকর, তেমনি রোগ প্রতিরোধেও কার্যকর। আগামী মৌসুমে আমিও ক্যাপসিকাম চাষ করব ইনশাআল্লাহ।