ঢাকা সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

অস্ত্রোপচারের পর কলেজছাত্রীর মৃত্যু, চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে বিক্ষোভ

অস্ত্রোপচারের পর কলেজছাত্রীর মৃত্যু, চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে বিক্ষোভ

ফরিদপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচারের পর আয়েশা আফরিন লাজমনি নামে এক কলেজছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় চিকিৎসকের ভুল ও চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ তুলে হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। অভিযোগের বিষয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

আয়েশা আফরিন লাজ সদরপুর উপজেলার আকোটের চর (কালিখোলা বাজারসংলগ্ন) এলাকার প্রবাসী লিয়াকত হোসেন লিটনের মেয়ে এবং আলেয়া আক্তারের সন্তান। তিনি ফরিদপুর সরকারি ইয়াসিন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকালে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে আয়েশাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তার অ্যাপেন্ডিসাইটিস শনাক্ত করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার অস্ত্রোপচার করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর থেকেই আয়েশার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। পরিস্থিতির অবনতি হলে রাত প্রায় ৩টার দিকে তাকে টেপাখোলা-সিএনবি ঘাট এলাকার রেজোয়ান মোল্লা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহতের মা আলেয়া আক্তার অভিযোগ করেন, সাধারণ একটি অ্যাপেন্ডিসাইটিস অস্ত্রোপচারের জন্য সুস্থ অবস্থায় মেয়েকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকের ভুল ও অবহেলার কারণে তাকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

স্বজনদের দাবি, অস্ত্রোপচারটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আতিকুল আহসান সম্পন্ন করেন। ঘটনার পর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেন। তারা চিকিৎসা অবহেলার বিচার, হাসপাতালের কার্যক্রম তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নিহতের স্বজনরা একটি পোস্টে দাবি করেন, অ্যাপেন্ডিসাইটিসের মতো সাধারণ অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে তাদের প্রিয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, ফরিদপুরে গড়ে ওঠা কিছু বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে দক্ষ জনবলের অভাব এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কঠোরভাবে তদারকি এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে লাইসেন্স বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

তবে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালটির এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, হাসপাতালের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অবহেলা করা হয়নি। রোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, হাসপাতালের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় কোনো ত্রুটি ছিল না।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্যের বিষয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে চিকিৎসা অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ ঘটনাকে চিকিৎসা অবহেলার ফল বলে নিশ্চিতভাবে মন্তব্য করার সুযোগ নেই। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত