
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় তিতাস নদীতে দেড় শতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি অবৈধভাবে জালের বেড়া দিয়ে মাছ শিকার করছেন। এ কারণে নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং সাধারণ জেলেরা মাছ শিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জালের বাঁধ দিয়ে প্রভাবশালীরা মাছ শিকার করলেও, প্রশাসন বা মৎস্য অফিস সাধারণত জেলেদের জন্য সেই বাঁধ অপসারণে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবছরের মতো এবারও মে মাস থেকে তিতাস নদীতে মাছ শিকারের নামে অবৈধভাবে জালের বেড়া দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ তিতাস নদীর দুই শতাধিক স্থানে এই জাল পাতা হয়েছে। বিশেষত তিতাস মোহনার ঢোলভাঙ্গা নদীর বিভিন্ন স্থানে আড়াআড়িভাবে ২৫০-৩০০ ফুট লম্বা জাল দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, তাতুয়াকান্দি, ভুড়ভুড়িয়া,পাইকারচর, চরশিবপুর, ইছাপুর, গলাচিপা, শান্তিপুর, নীলখী, সাহেবনগর এবং আছাদনগরের মতো এলাকার নদীপথে জালের বেড়ার কারণে নৌযান চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে দুর্ঘটনাও ঘটছে।
সাধারণ জেলেরা জানায়, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নদীর সম্পদ দখল করে মাছ শিকার করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। চরশিবপুর গ্রামের সোহেল মিয়া নামে জনৈক জেলে বলেন, ‘আমরা তো মাছ ধরতে পারি না। যারা টাকা-পয়সাওয়ালা, তারাই সব দখল করে নিয়েছে। ক্ষমতা ও টাকা যার, নদীর মাছ তার। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আক্কাস আলী জানান, নদীতে জালের বেড়া দিয়ে মাছ শিকার সম্পূর্ণ অবৈধ। তবে কতোটি মাছের ঘেরে মাছ শিকার চলছে এ তথ্য আমার কাছে আপাতত নেই। আমি ছুটিতে আছি। বিষয়টি জেনে খুব শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা অপরাধ। মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।