ঢাকা শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

রিয়াদের উচ্চাভিলাষ ও ওয়াশিংটনের কারাকাস মিশন

ইব্রাহীম খলিল (সবুজ)
রিয়াদের উচ্চাভিলাষ ও ওয়াশিংটনের কারাকাস মিশন

ভেনেজুয়েলা সংঘাতের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বিস্ফোরক সত্য, যা প্রচলিত খবরের বাইরে। বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে পুরোনো সমীকরণ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। কয়েক দশকের ‘তেলের বদলে নিরাপত্তা’ নীতি এখন খাদের কিনারায়। সম্প্রতি পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, রিয়াদ পাকিস্তানের কাছ থেকে ‘অফ-দ্য-শেল্ফ’ পরমাণু অস্ত্র সংগ্রহের পথে হাঁটছে। সহজ কথায়, সৌদি আরব আক্রান্ত হলে পাকিস্তান তার পারমাণবিক শক্তি দিয়ে রিয়াদকে রক্ষা করবে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ নিজেই এই সম্ভাবনার কথা স্পষ্ট করেছেন। এটি শুধু ইরান নয়, বরং ইসরায়েলের একচ্ছত্র আধিপত্যের জন্য বড় হুমকি। ওয়াশিংটন এই পরিবর্তন দেখছে অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে। কারণ ইসরায়েলের নিরাপত্তা রক্ষার দায়বদ্ধতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অলঙ্ঘনীয়। কিন্তু সৌদি আরবের তেলের উপর অতিনির্ভরশীলতা এত দিন ওয়াশিংটনের হাত বেঁধে রেখেছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে সেই চিত্র পাল্টে গেছে। সৌদি আরবের এই পরমাণু উচ্চাভিলাষ রুখতে যুক্তরাষ্ট্র এখন রিয়াদের বিকল্প তেলের বাজার তৈরির মিশনে নেমেছে। আর সেই মিশনের কেন্দ্রবিন্দু এখন ভেনেজুয়েলা। ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক টালমাটাল পরিস্থিতি ও মার্কিন হস্তক্ষেপ সেই মহাকৌশলেরই প্রথম ধাপ।

খেলার শুরুটা হয়েছে রিয়াদের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি থেকে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এখন আর শুধু ওয়াশিংটনের হুকুম মানতে রাজি নন। তিনি চীনের সাথে ঘনিষ্ঠ হচ্ছেন। রাশিয়ার সাথে মিলে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ হল পাকিস্তানের পারমাণবিক বোমা। সৌদি আরবের অর্থায়নে পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচি পূর্ণতা পেয়েছিল। এখন সেই বিনিয়োগের সুফল পেতে চায় রিয়াদ। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলই ছিল একমাত্র অঘোষিত পরমাণু শক্তি। সৌদি আরব যদি পাকিস্তানের মাধ্যমে এই সক্ষমতা পায়, তবে ইসরায়েলের শ্রেষ্ঠত্ব ধূলিসাৎ হবে। যুক্তরাষ্ট্র এটা কোনোভাবেই হতে দিতে পারে না। কিন্তু রিয়াদের ওপর তেলের জন্য নির্ভরশীল থেকে তাদের শাসন করা অসম্ভব। তাই ওয়াশিংটন তেলের নতুন উৎস খুঁজছে। আর সেই উৎস হল ভেনেজুয়েলা। ভেনেজুয়েলায় রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম তেলের মজুদ। প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেল সেখানে মাটির নিচে পড়ে আছে। এটি সৌদি আরবের মজুদের চেয়েও বেশি। ভেনেজুয়েলার তেল খনিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের আর সৌদি আরবের ওপর জ্বালানি নির্ভরতা থাকবে না।

ইব্রাহীম খলিল (সবুজ)

শিক্ষার্থী, আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদ

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত