ঢাকা রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ ও সড়কে শৃঙ্খলা : মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান বাস্তবায়ন জরুরি

যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ ও সড়কে শৃঙ্খলা : মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান বাস্তবায়ন জরুরি

রাজধানী ঢাকা ও যানজট যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। নগরবাসীর প্রতিদিনের জীবনে সবচেয়ে বড় ভোগান্তি এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিসাধনের বড় কারণ স্থবির ট্রাফিক ব্যবস্থা। এ সংকট সমাধানে অতীতে বহু উদ্যোগের কথা শোনা গেছে। গ্রহণ করা হয়েছে নানামুখী পরিকল্পনা। কিন্তু যানজটের মূল উৎসগুলোর স্থায়ী সমাধান থেকেছে অধরাই। এ বাস্তবতায় এখানকার যানজট নিরসন, যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করা ও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার ‘মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান’ বা বহুমাধ্যমভিত্তিক পরিবহন পরিকল্পনার দিকে এগোচ্ছে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) অধীনে প্রণীত ‘নগর রেল পরিবহন কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৬-২০৪৫’ অনুযায়ী মেট্রোরেল, রেল, বাস, মনোরেল ও নৌপথকে এক সুতোয় বাঁধার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কমলাপুর, বিমানবন্দর ও গাবতলীকে প্রধান মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি একটিমাত্র স্মার্ট কার্ডে সব বাহনে ভ্রমণের সুযোগ তৈরি করার যে উদ্যোগ, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে বলা বাহুল্য, বিশাল এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। রাজধানী ঢাকার পরিবহনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মুখরোচক নীতি ও মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে আমাদের ঘাটতি কখনোই ছিল না। ঘাটতি শুধু বাস্তবায়নে। গত এক দশকে মেট্রোরেল চালুর মতো দৃশ্যমান অগ্রগতি হলেও সার্বিক গণপরিবহনের চিত্র বেশ হতাশাব্যঞ্জক। ইউআরএসটিপির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় দৈনিক যাতায়াতে গণপরিবহনের ব্যবহার ২০১৪ সালে ছিল ২২ দশমিক ৮ শতাংশ। সেটা কমে ২০২৩ সালে নেমেছে মাত্র ৮ দশমিক ৯ শতাংশে। বিপরীতে যা হওয়ার তাই হয়েছে। সড়কে আধিপত্য বেড়েছে অনিয়ন্ত্রিত ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল, থ্রি-হুইলারের। বড় বড় অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। কিন্তু সমন্বয়হীনতার কারণে নগরবাসী গণপরিবহনমুখী হতে পারেনি। মনে রাখতে হবে, একটি আধুনিক ও কার্যকর মাল্টিমোডাল হাব শুধু কতগুলো মেট্রোরেল লাইন বা ফ্লাইওভার থাকলেই হয় না। পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ জন্য প্রয়োজন নিরাপদ পথচারী সংযোগ, ফিডার বাস, বাস রুট রেশনালাইজেশনের পাশাপাশি কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা। কিন্তু রাজধানীর সড়কের বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ফলে এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে যাত্রীদের রূপান্তর সহজ নয়।

আমরা জানি, এমন উদ্যোগের কথা অতীতে শোনা গেছে। কিন্তু বাস্তবায়নের পথ থেকে গেছে রুদ্ধ। এ ক্ষেত্রে সর্বদাই যেটা প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা হচ্ছে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যকার সমন্বয়হীনতা। ডিটিসিএ, ডিএমটিসিএল, বাংলাদেশ রেলওয়ে, রাজউক, বিআরটিএ এবং সিটি কর্পোরেশনের মতো বহু প্রতিষ্ঠান আলাদা আলাদা প্রকল্প নিয়ে কাজ করে। ফলে সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কাজ শেষ করা কঠিন। ফলে অনুমান করা যায়, এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নেরও সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে উঠবে ওই একই বিষয়। আমরা মনে করি, রাজধানী ঢাকার যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ ও ভোগান্তিমুক্ত হওয়া এখন সময়ের দাবি। কেননা এ শহরের যানজটের তীব্রতা এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, এ শহরের কপালে ‘অচল’, ‘বসবাস অযোগ্য’ এবং ‘মৃত শহর’-এর মতো তকমা জুটে গেছে। ফলে শহরটাকে বসবাস উপযোগী করাই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এ জন্য সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব এর যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি ও আধুনিকীকরণ। শত চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও সরকারের এ উদ্যোগের আমরা সফলতা কামনা করি। প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও যাত্রী পরিষেবা নিশ্চিত করে পরিকল্পনাগুলো দ্রুত দৃশ্যমান রূপ গ্রহণ করুক। আমাদের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগ সফল করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত