ঢাকা বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই হবে

অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই হবে

অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতে যা বলা হয়েছে, তা উদ্বেগজনক। এমনিতেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে অর্থনীতির অশনিসংকেত। এবার অর্থ মন্ত্রণালয় অর্থাৎ সরকারি কর্তৃপক্ষই অর্থনীতি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে। মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে অর্থনীতিতে একসঙ্গে বেশ কয়েকটি ঝুঁকি দেখা দেবে।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আয়ের দুর্বলতা, মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক খাতে বড় ধরনের শঙ্কা। বলা হয়েছে, ঝুঁকিগুলো ঠিকমতো মোকাবিলা করা না গেলে অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে নিপতিত হবে।

ঝুঁকিগুলো সামান্য ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। এবার বাজেটে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ শতাংশ। কিন্তু বাস্তবে এ হার ৯ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বলা বাহুল্য, মূল্যস্ফীতি বাড়লে কমবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। এর ফলে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পড়বে ঝুঁকির মুখে। আরও অস্বস্তি, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর দায় রয়েছে ৮ লাখ ৩৩ হাজার ২১৬ কোটি টাকার।

দ্বিতীয় কথা, ব্যাংকিং ব্যবস্থা রয়েছে দুর্বল অবস্থায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ তৈরি করেছে বাড়তি সমস্যা। সবটা মিলিয়ে চ্যালেঞ্জটা অনেক বড়। এ চ্যালেঞ্জ সামলাতে না পারলে চলতি অর্থবছরে সরকারের ব্যয়, রাজস্ব আয় এবং উন্নয়ন কর্মসূচির যে ছক কাটা হয়েছে, তা বাস্তবে রূপ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

সমস্যা তো চিহ্নিত করা গেল। উত্তরণ কীভাবে? অর্থনীতিবিদরা সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করছেন। যেমন, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলছেন, সরকার ঝুঁকির কথা বলছে, অথচ পদক্ষেপ নিচ্ছে উল্টো। যেমন, বাজেটে বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা বলা হলেও মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ আগামী ৬ মাসে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ রাখার কথা বলা হয়েছে। আমাদের কথা হলো, সরকার অর্থনীতিতে যেসব ঝুঁকি আঁচ করতে পারছে, সেসব বিষয় নিয়ে অর্থনীতির বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে পারে। অর্থনীতি এমন এক বিষয়, সাধারণ জ্ঞান দিয়ে যার সবটা বোঝা কঠিন।

এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, দেশের অর্থনীতি ভালো অবস্থায় নেই। জনপ্রিয়তা রক্ষার স্বার্থেই সরকারকে অর্থনীতি মজবুত করতে হবে। আর এজন্য দরকার হবে বিশেষজ্ঞ মতামত। প্রধানমন্ত্রীকে সহায়তা করার জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কাউন্সেলিং বডিও গঠন করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত