
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কবরে দোয়া করতে আসছেন বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। তারা সেখানে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার পর থেকে জিয়া উদ্যানের প্রবেশমুখ খুলে দেওয়া হয়। এর আগে বেলা ১১টা থেকে খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে আসা মানুষের ভিড় জমে। তবে নিরাপত্তার কারণে তাদের সে সময় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে দুপুর ১২টার দিকে প্রবেশমুখ খুলে দেওয়া হয়। এরপর বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে যান। তাদের অনেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। মোনাজাত করেন।
জিয়া উদ্যানে আসা মানুষদের মধ্যে অনেকেই ঢাকার বাইরে থেকেও এসেছেন। বিএনপির রাজনীতি করেন না, তবু খালেদা জিয়ার টানে কবরের মাটি ছুঁয়ে দেখতে এসেছিলেন মুন্সিগঞ্জের ফাতেমা শারমিন। পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সভাপতি জাহিরুল ইসলামও এসেছিলেন খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে। যাঁরা এসেছেন, তাদের মধ্যে নারী ছিলেন বেশি।
‘২০ বছর আগে আমার মা মারা যায়। তখন যেমনটা ব্যথা অনুভব করেছিলাম, আবার তেমনটা লাগছে। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ শুনে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। গত দুইটা রাত ঘুমাতে পারিনি। তাই আজ ছুটে এসেছি। ভেবেছিলাম, খালেদা জিয়ার কবরের মাটিটা একটু ছুঁয়ে দেখব। তিনি যে কবরে আছেন, সেখানকার মাটি ছুঁয়ে দেখলে কেমন অনুভব হতো, তা বুঝতে এসেছিলাম।’ গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে রাজধানীর জিয়া উদ্যানের প্রবেশমুখে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন ফাতেমা শারমিন। তিনি মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুর থেকে এসেছেন। ফাতেমা শারমিন বলেন, ‘আফসোস লাগছে। ভেবেছিলাম, একবার খালেদা জিয়ার কবরের পাশে গিয়ে দাঁড়াব। সৃষ্টিকর্তার কাছে ম্যাডামের জন্য দোয়া করব। কিন্তু পারলাম না। তাই এখান থেকেই দোয়া করেছি।’ সকাল ১০টার দিকে জিয়া উদ্যানের প্রবেশমুখে কথা হয় পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সভাপতি জাহিরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা তো অভিভাবক হারিয়েছি। কবরটা জিয়ারত করে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ভেতরে প্রবেশ নিষিদ্ধ। তাই এখান থেকেই দোয়া করব।’
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কথা হয় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শাফি ইসলামের সঙ্গে। তিনিও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতের জন্য এসেছিলেন। তখন শাফি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া ছিলেন অনন্য। তারেক জিয়ার নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে খালেদা জিয়ার নীতি ও আদর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গত বুধবার বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর জানাজা ঘিরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। স্বতঃস্ফূর্ত মানুষের ঢল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে উপচে পড়ে। ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে মানুষ জানাজায় অংশ নেয়। জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়াকে শেরেবাংলা নগরে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে সমাহিত করা হয়।