ঢাকা শুক্রবার, ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ইসলাম ও মুসলমানের স্বার্থরক্ষায় বেগম জিয়া

হাবীবুল্লাহ সিরাজ
ইসলাম ও মুসলমানের স্বার্থরক্ষায় বেগম জিয়া

ইসলামের আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনা করা সহজ কাজ নয়। আল্লাহভীরু মন, দৃঢ়তা ও দায়িত্ববোধ এখানে অপরিহার্য। এটা তখনই সম্ভব, যখন রাজনীতি হয় খেলাফত তথা ইসলামি শাসনব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য। তবে বিরল কিছু মানুষ সরাসরি ইসলামি রাজনীতি না করেও ইসলামধর্মের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন এবং ধর্মীয় মহল কীভাবে উন্নত হতে পারে, সেই সাধনা করে গেছেন। এমন বিরল ব্যক্তিদের মধ্যে বেগম খালেদা জিয়া অন্যতম। তিনি একজন মুসলিম নারী হিসেবে শুধু ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হননি, বরং ইসলামি মূল্যবোধকে রাষ্ট্রীয় পরিসরে মর্যাদা দিয়েছেন। তার রাজনৈতিক জীবন মুসলিম সমাজের স্বার্থ রক্ষার এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে ধরা হয়। স্বাধীনতার পর দেশের নেতৃত্বে বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এসেছেন। তবে মুসলিম জাতীয়তাবাদের চিন্তাকে বাস্তব শাসনে রূপ দিতে যারা পেরেছেন, তাদের মধ্যে বেগম খালেদা জিয়া অন্যতম। তিনি দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে ধর্মীয় অনুভূতি ও সামাজিক বাস্তবতার সমন্বয় ঘটান। অনেক ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তি পরিকল্পনায় সীমাবদ্ধ থাকলেও তিনি বাস্তব সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হন। রাজনীতিতে তার উত্থান ছিল ব্যতিক্রমী। ম্যাজিকের মতো করে সাধারণ গৃহিণী থেকে প্রধানমন্ত্রী হয়ে যান। এ নেত্রী শুরু থেকেই আলেম সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি আনায়নের চেষ্টা করেন। তিনবার নির্বাচিত হয়ে দুই মেয়াদে পূর্ণ সময় দেশ পরিচালনার সুযোগ পান তিনি। রাষ্ট্রীয় নথি ও সমসাময়িক সূত্র অনুযায়ী, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকারপ্রধান হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে। তার সময়েই ধর্মীয় শিক্ষা, ইসলামি প্রতিষ্ঠান ও মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। বড়দাগে ধর্মীয় খাতে বেগম খালেদা জিয়ার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।

নবীজির সম্মান রক্ষায় রাষ্ট্রীয় সংহতি : মহানবী (সা.) আমাদের সম্মানের পাত্র। তাকে সম্মান করতে পারা গর্বের বিষয়। তাকে অপমান করলে মুসলমানদের হৃদয়ে আগুন জ্বলে। ২০০৫ সালে ইউরোপে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর কার্টুন প্রকাশিত হলে বিশ্বব্যাপী মুসলিম সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার তথা বেগম খালেদা জিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কঠোর প্রতিবাদ জানান। এটি শুধু কূটনৈতিক বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং মুসলিম বিশ্বের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি বাংলাদেশের সংহতির প্রকাশ হিসেবেও বিবেচিত হয়। আন্তর্জাতিক পরিসরে এ অবস্থান বাংলাদেশের মুসলিম পরিচয় ও মূল্যবোধের প্রতি রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতাকে স্পষ্ট করে তোলে।

রাষ্ট্রীয় ইসলামি পরিচয় রক্ষায় দৃঢ়তা : রাষ্ট্রের যদিও ধর্ম নেই, কিন্তু রাষ্ট্রের নাগরিকদের ধর্ম আছে। সেটাই সংবিধানে থাকলেও তাদের ধর্ম না থাকলেও তাদের ধর্ম। ১৯৯১ সালে সামরিক শাসনের অবসানের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পরিচয় নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধে। বিশেষ করে, সংবিধানে ইসলামের অবস্থান থাকবে কিনা, এ প্রশ্ন তখন রাজনীতির কেন্দ্রে চলে আসে। এমন এক সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার দ্ব্যর্থহীন অবস্থান নেয়। সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ এবং রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে অক্ষুণ্ণ রাখা হয়। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং পরবর্তীতে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তার শাসনামলে রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামের মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি। ২০০৫ সালের সংসদীয় কার্যক্রমেও এ অবস্থানের পুনরুচ্চারণ দেখা যায়, যা রাষ্ট্রীয় নীতিতে ধারাবাহিকতার প্রমাণ বহন করে।

ইসলামি উচ্চশিক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ : ইসলামি শিক্ষা, গবেষণা ও সংস্কৃতি চর্চা ছাড়া ইসলামি সমাজের পুনর্জাগরণ সম্ভব নয়। তাই ইসলামি উচ্চ শিক্ষাকে নিশ্চিত করা ছিল প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সময়কালে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু নামের মধ্যেই নয়, কার্যত একটি ইসলামি জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আরবি ভাষা, কোরআন-হাদিস ও দাওয়াভিত্তিক শিক্ষার সম্প্রসারণে নতুন বিভাগ অনুমোদন দেওয়া হয়। ১৯৯৩ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্ত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। এ উদ্যোগের ফলে দেশে ইসলামি গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্র বিস্তৃত হয় এবং আন্তর্জাতিক মানের আলেম ও গবেষক তৈরির পথ প্রশস্ত হয়।

মাদ্রাসা শিক্ষার সামাজিক স্বীকৃতি : যদিও ধর্মীয় পড়াশোনা যারা করে, তারা দুনিয়ার কোনো স্বীকৃতি কামনা করে না। কিন্তু সময়ের বিচারে পরিবেশের কারণে সেই শিক্ষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির প্রয়োজন হয়। তাই দেশের আলেম সমাজ এ নিয়ে বহুবার আলাপ তুলেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালের পর এ বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে সরকার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ২০০২ ও ২০০৩ সালে ফাজিল সনদকে স্নাতক এবং কামিল সনদকে স্নাতকোত্তরের সমমান ঘোষণা করা হয়। এ সিদ্ধান্ত শুধু শিক্ষাগত স্বীকৃতিই নয়, বরং সামাজিক মর্যাদাও নিশ্চিত করে। ফলে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা, সরকারি চাকরি ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বাস্তব সুযোগ পান।

কওমি শিক্ষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির সূচনা : কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি ছিল একটি স্পর্শকাতর ও দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়। ১৯৯২ সাল থেকে দাবি উঠলেও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। ২০০৫ সালে শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক (রহ.)-এর আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকার আলোচনায় বসে। বেগম খালেদা জিয়া সরাসরি আলেমদের সঙ্গে বৈঠক করে দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমান দেওয়ার আশ্বাস দেন। ২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সেই প্রতিশ্রুতির লিখিত স্বীকৃতি আসে। যদিও সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বাস্তবায়ন অসম্পূর্ণ থাকে, তবু এটিই ছিল কওমি শিক্ষাকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার প্রথম উদ্যোগ।

শরিয়াভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থার বিকাশ : ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ে ইসলামি ব্যাংকিং খাতে উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ লক্ষ্য করা যায়। এর আগের সময়গুলোতে তেমন কোনো অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক ও তাদের শাখা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। সুদবিহীন আর্থিক লেনাদেনের প্রতি ধর্মপ্রাণ মানুষের বহুদিনের আশার প্রতিফলন ঘটে। শরিয়াভিত্তিক অর্থব্যবস্থার প্রতি ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর আস্থা দিন দিন বাড়তে থাকে। মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য ইসলামি ব্যাংকিং একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরাপদ বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। এতে দেশের আর্থিক খাতে একটি নৈতিক ও বিকল্প ধারার শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়। এখনও প্রবল শক্তিশালীভাবেই অর্থনৈতিক সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় ধর্মীয় স্থাপনার আধুনিক রূপ : একটি মুসলিমপ্রধান দেশের প্রথম পরিচয় হলো, জনপদের প্রান্তে প্রান্তে মসজিদণ্ডমাদ্রাসা ও খানকা থাকবে। সেগুলো থেকে মানুষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও অনুশাসন শিখবে। সে লক্ষ্যে বেগম জিয়া ২০০৫ ও ২০০৬ অর্থবছরে জাতীয় ঈদগাহ মাঠ উন্নয়ন, বায়তুল মোকাররম মসজিদ সংস্কার এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বরাদ্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করেন। একই সময়ে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করে তাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেন। এসব উদ্যোগ ধর্মীয় অবকাঠামোকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার বার্তা দেয়।

মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে কূটনৈতিক সংযোগ : বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক বিশেষ গুরুত্ব পায়। তার দুই মেয়াদেই মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়। সৌদি আরব, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইয়ের সঙ্গে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে কার্যকর সমঝোতা গড়ে ওঠে। যার ফলে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ পান। শিক্ষা ও বাণিজ্য ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ে। বিশেষ করে, ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-তে বাংলাদেশের ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হয়। মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন সংকট ও ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তখন স্পষ্ট ও সক্রিয় ছিল, যা আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদা বাড়াতে সহায়ক হয়।

ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় সংযত অবস্থান : ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে বিভিন্ন ইসলামি ধারার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার সময় সরকার তাৎক্ষণিক দমননীতিতে না গিয়ে দায়িত্বশীল ও সংযত ভূমিকা নেয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া সংসদে স্পষ্ট করে বলেন, তদন্ত ছাড়া কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে হয়রানি করা হবে না। তিনি প্রশাসনকে নির্দেশ দেন, যেন ধর্মীয় বিশ্বাস বা পরিচয়ের কারণে নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এ অবস্থান রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ধর্মীয় স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের প্রতি প্রতিশ্রুতিরই বহিঃপ্রকাশ ছিল।

হজ ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত সংস্কার : হজ ব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনিক জটিলতা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে আলোচিত ছিল। ২০০৩ সাল থেকে এ খাতে কাঠামোগত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জাতীয় বিমান সংস্থার সক্ষমতা বাড়িয়ে হজ ফ্লাইট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে সৌদি সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এসব উদ্যোগের ফলে হজযাত্রীদের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য হজ পালনের পরিবেশ তুলনামূলকভাবে সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ হয়।

কওমি আলেমদের রাষ্ট্রীয় সম্পৃক্ততা : বাংলাদেশের বৃহৎ একটি ধর্মীয় শিক্ষাধারা দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তপ্রক্রিয়ার বাইরে ছিল। ১৯৯৬ সালের পর প্রথমবারের মতো কওমি আলেমদের সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ গড়ে ওঠে। তাদের মধ্য থেকে প্রতিনিধিদের সংসদে মনোনয়ন দেওয়া হয়, যা ছিল একটি প্রতীকী ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। পাশাপাশি ওয়াকফ সম্পত্তি সংরক্ষণ, মাদ্রাসার জমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং কর-সংক্রান্ত সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে নীতিগত সহায়তা দেওয়া হয়। এতে আলেম সমাজের মধ্যে রাষ্ট্রের প্রতি আস্থার একটি নতুন পরিবেশ তৈরি হয় এবং পারস্পরিক দূরত্ব কমে আসে।

রমজান ও জাকাত ব্যবস্থাপনায় সক্রিয়তা : রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও বাজার অস্থিরতা একটি পুরোনো সমস্যা। বেগম খালেদা জিয়ার দুই মেয়াদেই এ বিষয়ে সরকার সক্রিয় ভূমিকা নেয়। নিয়মিত বাজার তদারকি অভিযান পরিচালনা করে নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে জাকাত তহবিলের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়। দরিদ্র, অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে এ তহবিল পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রের ভূমিকা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

লেখক : শিক্ষাবিষয়ক তত্ত্বাবধায়ক, জামিয়াতুল উস্তায শহীদুল্লাহ ফজলুল বারি (রহ.), মোহাম্মদপুর, ঢাকা

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত