ঢাকা শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

মোমিনের গুণ

তাবাসসুম মাহমুদ
মোমিনের গুণ

নশ্বর এ পৃথিবীতে আমরা ক্ষণস্থায়ী। কোনো একদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। একটা সময় আমরা ছিলাম না; ঠিক তেমনই এমন সময় আসবে, যখন আমরা থাকব না। কোনো প্রাণীই জীবিত থাকবে না। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘প্রতিটি প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে।’ (সুরা আলে ইমরান : ১৮৫)। তাই এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে হবে। তাঁকে ভালোবেসে তাঁর সন্তুষ্টি লাভ করতে হবে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তাঁর নৈকট্য অন্বেষণ কর। তাঁর পথে জিহাদ কর; যাতে সফলকাম হতে পার।’ (সুরা মায়িদা : ৩৫)।

সুন্নতের অনুসরণ : আল্লাহতায়ালা মানবজাতির জন্য যুগে যুগে বহু নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ধরায় আগমন করেন আমাদের শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)। আল্লাহতায়ালা রাসুল (সা.)-কে পাঠিয়েছেন, যেন আমরা তার অনুসরণ করি, তার বাতলে দেওয়া পথে জীবন পরিচালনা করি এবং তার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করি। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘(হে নবী!) আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তবে আমার অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা আলে ইমরান : ৩১)।

নফল ইবাদত : আল্লাহতায়ালা আমাদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজসহ আরও কিছু বিষয় ফরজ করেছেন। যেমন- রোজা, হজ, জাকাত ও পর্দা ইত্যাদি। ফরজ ইবাদতের মাধ্যমে আমরা তাঁর নৈকট্য অর্জন করতে পারি। তবে ফরজের পাশাপাশি যে ব্যক্তি নফল ইবাদতও করবে, সে আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী হবে। তাঁর ভালোবাসা লাভে ধন্য হবে। হাদিসে কুদসিতে এসেছে, আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যে আমার বন্ধুর সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করবে, আমি তার বিরুদ্ধে ?যুদ্ধ ঘোষণা করলাম। আমার বান্দার ওপর যে বিধান ফরজ করেছি, তার মাধ্যমে আমার নৈকট্য অর্জন করা আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকলে আমি তাকে ভালোবেসে ফেলি। তখন আমি তার কান হয়ে যাই, যে কান দিয়ে সে শোনে; আমি তার চোখ হয়ে যাই, যে চোখ দিয়ে সে দেখে; আমি তার হাত হয়ে যাই, যে হাত দিয়ে সে ধরে এবং তার পা হয়ে যাই, যে পা দিয়ে সে হাঁটে। সেকোনো কিছু চাইলে আমি অবশ্যই তাকে দান করি এবং জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি চাইলে তাকে মুক্ত করে দিই।’ (বোখারি : ৬৫০২)।

এহসান : এহসানের পরিচয় প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, ‘এমনভাবে (এ অনুভূতি অন্তরে জাগ্রত রেখে) আল্লাহর ইবাদত কর, যেন তুমি তাকে দেখছ; আর যদি তুমি তাকে না দেখে থাক, তাহলে তিনি তোমাকে দেখছেন।’ (বোখারি : ৪৭৭৭)। এহসানের মাধ্যমে আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়া যায়। কেননা, এর তারতম্যের কারণেই নামাজের মধ্যে তারতম্য সৃষ্টি হয়। একই ধরনের রুকুণ্ডসেজদা আদায় করা সত্ত্বেও দু’জনের নামাজে বিস্তর ব্যবধান দেখা যায়। ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেন, ‘যার এহসান যত উঁচু পর্যায়ের হবে, সে তত বেশি আল্লাহতায়ালার নিকটবর্তী হতে পারবে।’ (যাদুল মাআদ)। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহর রহমত এহসানকারীদের নিকটবর্তী।’ (সুরা আরাফ : ৫৬)।

তাহাজ্জুদ আদায় : তাহাজ্জুদ আল্লাহর কাছে অনেক প্রিয় একটি আমল। এ ইবাদতে লৌকিকতা নেই। রাতের শেষভাগে আরামের ঘুম ভেঙে বিছানা ছেড়ে তাহাজ্জুদ আদায় করা সত্যিই কষ্টসাধ্য; বিশেষ করে শীতের রাতে। একমাত্র মুত্তাকিরাই নিয়মিত তাহাজ্জুদ আদায় করতে পারেন। তাহাজ্জুদের মাধ্যমে তারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করেন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের তাহাজ্জুদ আদায় করা উচিত। কেননা, তাহাজ্জুদ তোমাদের পূর্ববর্তী নেক লোকদের অভ্যাস ছিল এবং (তাহাজ্জুদ) আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উপায়। এটা গোনাহ মিটিয়ে দেয় ও মন্দ কাজের কাফফারা এবং শরীর থেকে রোগ-ব্যাধি দূর করে।’ (জামে সগির : ৫৫৫৫)।

মাসনুন দোয়া : আল্লাহতায়ালাকে সর্বদা স্মরণ করা এবং গোনাহ থেকে পানাহ চাওয়ার সর্বোত্তম মাধ্যম হলো, মাসনুন দোয়া আদায় করা। সব কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলে শুরু করা। রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক ভালো কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ না বললে তা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।’ (সুনানে আবি দাউদ : ৪৮৪০)। এছাড়া রাসুল (সা.) সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-কে বিভিন্ন দোয়া শিখিয়েছেন। যেমন- সকাল-সন্ধ্যার দোয়া, ঘরে প্রবেশ ও বের হওয়ার দোয়া ও ঘুমানোর দোয়া ইত্যাদি। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করো। সকাল-সন্ধ্যা তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করতে থাক।’ (সুরা আহজাব : ৪১-৪২)।

নেক আমল : নেক আমল বান্দাকে আল্লাহতায়ালার নিকটবর্তী করে। তাকে জান্নাতে পৌঁছে দেয়। পক্ষান্তরে আল্লাহর অবাধ্যতা বান্দাকে জাহান্নামের দিকে টেনে নেয়। তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়। তাই বেশি বেশি নেক আমল করে আমাদের জান্নাত লাভ করতে হবে। যেমনটা সাহাবিরা করেছেন। একবার রাসুল (সা.)-কে একজন সাহাবি বললেন, ‘আমাকে এমন আমলের সংবাদ দিন, যা আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করবে, জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে নেবে।’ রাসুল (সা.) বললেন, ‘তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না, নামাজ কায়েম করবে, জাকাত আদায় করবে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে।’ (মুসলিম : ১৩)।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত