
বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) ও সিউলে বাংলাদেশ দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই দিনব্যাপী সেমিকন্ডাক্টর রোডশো আয়োজন করা হয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর খাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে গত ১২-১৩ মে এ রোডশো অনুষ্ঠিত হয়। এতে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, ডিজাইন ভেরিফিকেশন, এমবেডেড সিস্টেম এবং অ্যাডভান্সড প্যাকেজিং খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা অন্বেষণে উভয় দেশের নীতি-নির্ধারক, শিক্ষাবিদ এবং শিল্প খাতের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, মেধা বিকাশ এবং উন্নত প্যাকেজিং উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ভ্যালু চেইনে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে এ রোডশো আয়োজন করা হয়।
বিএসআইএ সভাপতি এম এ জব্বারের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল কর্মসূচিতে অংশ নেয়। তারা কোরিয়ান সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন হাউস ও কোরিয়া সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (কেএসআইএ)’র সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন।
রোডশো উপলক্ষে আয়োজিত এক ভোজসভায় দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলাম শাতিল সেমিকন্ডাক্টর খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রস্তাবিত টেকনাফ-তেতুলিয়া অর্থনৈতিক করিডরের কথা উল্লেখ করেন, যা উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পায়নের সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে পারে এবং সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, অ্যাডভান্সড প্যাকেজিং ও ইলেকট্রনিক শিল্পে সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
বিএসআইএ সভাপতি এম এ জব্বার সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমে প্রবেশের জন্য কৌশলগত খাত, যেমন- ডিজাইন ভেরিফিকেশন, এমবেডেড সিস্টেম এবং অ্যাডভান্সড প্যাকেজিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। টেকনিক্যাল সেশনে যুক্তরাষ্ট্রের পারডু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মুহাম্মদ মোস্তফা হোসেন ‘সিলিকন রিভার’ উদ্যোগ নিয়ে উপস্থাপনা তুলে ধরেন।
এছাড়া বিএসআইএ-এর সাতটি সদস্য প্রতিষ্ঠান- ডায়নামিক সলিউশন ইনোভেটরস, টেস্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, উল্কাসেমি প্রাইভেট লিমিটেড, নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেড, প্রাইমসিলিকন টেকনোলজি ইনক., সিলিকোনোভা লিমিটেড এবং মার্স সলিউশনস লিমিটেড- তাদের সক্ষমতা তুলে ধরে। ১৩ মে প্রতিনিধিদল কোরিয়ার বেশ কয়েকটি সেমিকন্ডাক্টর ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এর মধ্যে রয়েছে কোরিয়া অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (কেইএআইএসটি), এসকে হাইনিক্স, হানা মাইক্রন, কেএসআইএ, কুলমাইক্রো, ওয়াই-টেক ও গ্রোইথ অ্যাসোসিয়েটস।
রোডশোর একটি বড় অর্জন ছিল কেএআইএসটি গ্লোবাল কমার্শিয়ালাইজেশন সেন্টার (জিসিসি), সেন্টার অব রিসার্চ এক্সিলেন্স অন সেমিকন্ডাক্টর টেকনোলজি (ক্রেস্ট) এবং বিএসআইএ’র মধ্যে একটি লেটার অব ইন্টেন্ট (এলওআই) স্বাক্ষর। এর মাধ্যমে সেমিকন্ডাক্টর খাতে যৌথ গবেষণা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আয়োজকরা বলেন, এ রোডশোর সফল আয়োজন বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বকে প্রতিফলিত করে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের উদীয়মান সেমিকন্ডাক্টর শিল্প কোরিয়ার অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ থেকে উপকৃত হবে। তারা আরও জানান, সিউলে বাংলাদেশ দূতাবাস বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উচ্চপ্রযুক্তির গন্তব্যে রূপান্তরের উদ্যোগে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।