
হাম আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হলেও হাসপাতালের বিল পরিশোধ না করতে পারায় পাঁচ মাসের জয়া দাসকে বাড়ি নিতে পারছিলেন না বাবা-মা।
শিশুটির বাবা ধার করে বিলের কিছু টাকা দিলেও বাকি অর্থ কোনোভাবে পরিশোধ করতে পারছিলেন না। ফলে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছিল না ছোট্ট মেয়েটিকে।
অবশেষে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়ে হস্তক্ষেপ করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে শিশুটিকে নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন তারা বাবা-মা।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে বন্দরনগরীর জিইসি মোড়ের এশিয়ান স্পেশালাইজড হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
পরে জেলা প্রশাসকের অনুরোধে জয়া দাসের চিকিৎসার বাকি বিল মওকুফ করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
নগরীর কাঠগড় এলাকার জেলে পাড়ার বাসিন্দা সুমন জলদাসের মেয়ে জয়া গত মাসের শেষ দিকে হামে আক্রান্ত হয়। বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে ৩০ এপ্রিল জয়াকে ভর্তি করা হয় এশিয়ান স্পেশালাইজড হাসপাতালে।
সেখানে শুরুতে আইসিইউতে ও পরে কেবিনে রেখে শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাতে ১৫ দিনে মোট বিল হয় দুই লাখ ৩৩ হাজার টাকা।
সুমন জলদাস ধার করে বিলের ৮০ হাজার টাকা শোধ করলেও বাকি ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা দিতে পারছিলেন না। সে জন্য হাসপাতাল থেকেও শিশুটিকে ছাড়া হচ্ছিল না।
সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি আসার পর বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসক। পরে শুক্রবার দুপুরে এশিয়ান স্পেশালাইজড হাসপাতালে যান তিনি।
সেখানে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা সাংবাদিকদের বলেন, ‘এশিয়ান স্পেশালাইজড হসপিটালে জেলে পল্লীর বাসিন্দা এক বাবা তার মেয়েকে ভর্তি করায়। তার নাম জয়া দাস; সে সুস্থ হয়েছে। হাসপাতালে সে আইসিইউতে ছিল। এতে যে বিল হয়েছে, তা পরিশোধ করার ক্ষমতা বাবার ছিল না।
‘এ বিষয়ে গতরাতে জানার পর আমার কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আপনি বলেছেন- তাই উনার যত বিলই আসুক সেটা আমরা নেব না।’ শিশুটি জেলে পরিবারের সেটিও উনার জানা ছিল না।
‘শিশুটিকে আমার দেখার ইচ্ছে ছিল। তাই আজ এসে দেখে গেলাম। পাঁচ মাসের বাচ্চা। তার মায়ের মুখে হাসি দেখেছি। মেয়েকে নিয়ে তিনি আজ বাড়ি ফিরে যাবেন। মা ও সন্তান দুজনই হাসি মুখে বাড়িতে যাচ্ছে।’
এ বিষয়ে বেসরকারি হাসপাতালটির চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলী বলেন, ‘জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন গতকাল রাতে আমাকে ফোন করেছিলেন। উনাদের সঙ্গে কথা হওয়ার পর আমরা বিল মওকুফ করে দিয়েছি।’
শিশুটির বাবা সুমন জলদাস বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি ডিসি স্যার এসে আমার মেয়ের সব বিল এভাবে মওকুফ করে দেবেন। স্যার যদি সহযোগিতা না করতেন, তাহলে মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে হত, মাইকিং করতে হত।
‘আমি হাসপাতালকে বলেছিলাম, ৮০ হাজার টাকা দিয়েছি, এর বেশি পারব না। আমার মেয়েটাকে আমাকে দিয়ে দেন। মেয়ের জন্য জেলেও যেতে রাজি ছিলাম। ডিসি স্যার আমার মেয়েকে দেখতে এসেছেন, এটা আমার মেয়ের ভাগ্য। আমি মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে আবার ডিসি স্যারের সঙ্গে দেখা করতে আসব।’
জেলা প্রশাসকের হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় সেখানে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।