
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) এবারই প্রথম খেলছে নোয়াখালীর ফ্র্যাঞ্জাইজি। তাই দেশের ঘরোয়া এই টি-টোয়েন্টি লিগের দ্বাদশ আসর ঘিরে উচ্ছাসের কমতি ছিল না নোয়াখালী বাসীর। সেই শুরুর দিন থেকে বাস ভরে খেলা দেখতে ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সিলেটে আসত দলকে সমর্থন জানাতে। কিন্তু প্রতি ম্যাচেই তাদের ফিরতে হয়েছে হতাশা নিয়ে। এবারও সেই হতাশা কাটল না। চলতি আসরে টানা ৬ ম্যাচে হারল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। আজই প্রথম ব্যাট হাতে তারা দেড়শ পেরিয়েছিল। তবু রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের কাছে ৪ উইকেট হেরে গেছে তারা। সমর্থকদের এই মন খারাপ বুঝতে পারছেন নোয়াখালীর ক্রিকেটার সৌম্য সরকারও। রাজশাহীর বিপক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার ফিফটি করা এই ব্যাটসম্যান ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘তাদের জন্য তো খারাপ লাগে। আমাদের খারাপ লাগাটা তারা দেখছে কি না জানি না। আমরাও চেষ্টা করছি তাদের খুশি করার জন্য, ব্যর্থ হচ্ছি। তাদের কাছে আমরা সরিই বলব যে তারা এত কষ্ট করে খেলা দেখতে আসে; কিন্তু আমরা জিততে পারছি না।’
ব্যক্তিগত কারণে প্রথম তিন ম্যাচ না খেলা সৌম্য সরকার ফিরে দুই ম্যাচ ছিলেন ব্যর্থ, তৃতীয় ম্যাচে রান পেলেন তিনি। তবে তার লড়াকু ফিফটির পরও লড়াই করার মতো পুঁজি গড়তে পারেনি নোয়াখালী এক্সপ্রেস। রান তাড়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোহাম্মদ ওয়াসিমের টর্নেডো ইনিংসে অনায়াস জয় তুলে নিয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের ম্যাচে নোয়াখালীকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে রাজশাহী। সৌম্যের ৪৩ বলে ৫৯ রানের সৌজন্যে নোয়াখালীর করা ১৫১ রান ৬ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ৩৫ বলে ৬০ রানের ইনিংস খেলে রাজশাহীর নায়ক আমিরাতের ওয়াসিম।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিপিএলে একটি ম্যাচ খেলে ৭ বলে ১ রান করেছিলেন ওয়াসিম। এবার প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে চারটি করে চার ও ছক্কায় ৩৫ বলে ৬০ করে তিনি ম্যাচের সেরা। রাজশাহীর রান তাড়া শুরু হয় হাসান মাহমুদের বোলিংয়ে মেইডেন ওভার খেলে। পরের ওভারে মোহাম্মদ নাবির বোলিংয়ে আসে তিন রান। তবে উল্টো স্রোতের শুরু পরের ওভার থেকেই। হাসানের লেংথ বল গ্যালারিতে আছড়ে ফেলেন ওয়াসিম। আরও তিনটি চারসহ ওই ওভার থেকে আসে ২২ রান। আবু জায়েদ চৌধুরীর করা পরের ওভার থেকে আসে ১৬ রান। মেহেদি হাসান রানার বলে দৃষ্টিকটু স্লগ খেলে তানজিদ হাসান (২০ বলে ২১) আউট হয়ে যান পঞ্চম ওভারে। তবে ওয়াসিমের ঝড়ে পাওয়ার প্লেতে ৬১ রান তোলে রাজশাহী।
পাওয়ার প্লে শেষেই কিপার মাহিদুল ইসলামের অসাধারণ ডাইভিং ক্যাচে রাজশাহী অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ফেরেন ১ রানে। সেই ধাক্কা সামলে ওয়াসিম ও মুশফিকের জুটি এগিয়ে নেয় দলকে। জাহির খানকে ছক্কা মেরে ওয়াসিম পঞ্চাশে পৌঁছে যান ২৯ বলেই। পরের ওভারে ছক্কা মারেন তিনি মেহেদি রানাকেও। পরের বলেই সেই রান আউট। এরপর মুশফিকুর রহিম (২২ বলে ১৯) পারেননি দলকে টানতে। একটি ছক্কা মারার পর বিদায় নেন ইয়াসির আলি। জয়ের কিানায় গিয়ে আউট হন এসএম মেহেরব। আসরে প্রথম খেলতে নেমে অপরাজিত রান করে দলকে জিতিয়ে ফেরেন রায়ান বার্ল। ম্যাচের শুরুতে নোয়াখালী ব্যাটিংয়ে নামে টস হেরে। টানা ব্যর্থতায় থাকা হাবিবুর রহমান সোহানকে বাদ দিয়ে শাহাদাত হোসেনকে সুযোগ দেওয়া হয়। মৌসুমে প্রথমবার মাঠে নেমে শাহাদাত নিজে ভালো করতে পারেননি, তবে দল পায় ভালো শুরু।
রানের গতি অবশ্য খুব ভালো ছিল না। শাহাদাত ও সৌম্য প্রথম পাঁচ ওভারে তুলতে পারেন শুধু ৩১ রান। তবে ম্যাচের পর ম্যাচ ব্যটিংয়ে ধুঁকতে থাকা দলের জন্য উইকেট না হারানোই ছিল স্বস্তির। ৫৭ রানের জুটি থামে অষ্টম ওভারে। রিপন মন্ডলের বলে এলবিডব্লিউ হন ২৮ বলে ৩০ রান করা শাহাদাত। তিন নেমে মাজ সাদাকাত (১৩ বলে ৭) আরও কমিয়ে দেন রানের গতি। মৌসুমে প্রথমবার বল হাতে নিয়ে প্রথম বলেই তাকে ফেরান রাজশাহী অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। শুরুর জড়তা কাটিয়ে সৌম্য ততক্ষণে একটু হাত খুলতে শুরু করেছেন। হাসান মুরাদকে ছক্কায় উড়িয়ে ফিফটির কাছাকাছি যান তিনি। ষোড়শ ওভারে তানজিম হাসানকে চার মেরে পঞ্চাশ পা রাখেন ৪০ বলে। পরের বলেই ছক্কায় আভাস দেন তিনি শেষের ঝড় তোলার। সেটি অবশ্য হয়নি। হাসান মুরাদের বলে বড় শটের চেষ্টাতেই তার ইনিংস থামে ৪৩ বলে ৫৯ রান করে।
শেষ দিকের দাবি কিছুটা মেটাতে পারেন মোহাম্মাদ নাবি। তিন ছক্কায় ২৬ বলে করেন তিনি ৩৫ রান। শেষের আগের ওভারে রিপনকে ছক্কা মারার পরের বলে আউট হয়ে যান তিনি আরেকটি ছক্কার চেষ্টায়। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ক্রিজে নেমে প্রথম বলেই ছক্কায় দলকে নিয়ে যান দেড়শর কাছে। তবে অধিনায়ক হায়দার আলি ৬ বল খেলে অপরাজিত থাকে মাত্র ৩ রানে। সেই রান যথেষ্ট হয়নি জয়ের জন্য।