ঢাকা শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

দাপুটে জয়ে উসমান খাজাকে বিদায় জানাল অস্ট্রেলিয়া

দাপুটে জয়ে উসমান খাজাকে বিদায় জানাল অস্ট্রেলিয়া

ঘোষণাটা আগেই দিয়ে রেখেছিলেন। তারপর ছিল অপেক্ষার পালা। গৌরবময় টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়টা আবেগে ভাসিয়েই কাটালেন উসমান খাজা। গতকাল বৃহস্পতিবার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে নিজের ৮৮তম ও শেষ টেস্ট খেলতে নেমে আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খেতে হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন অস্ট্রেলিয়ার এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। শেষবার ব্যাট করতে নামার সময় ইংল্যান্ড দলের খেলোয়াড়রা তাকে গার্ড অব অনার দেন। সফরকারী অধিনায়ক বেন স্টোকস নিজে এগিয়ে এসে হাত মেলান খাজার সঙ্গে, বিদায়ের মুহূর্তটাকে করে তোলেন আরও স্মরণীয়। যদিও ব্যক্তিগতভাবে শেষটা রাঙাতে পারেননি তিনি। পঞ্চম অ্যাশেজ টেস্টে আউট হন মাত্র ৬ রানে। তবে দলীয় সাফল্যেই তৃপ্তি খুঁজে নেন খাজা।

সিরিজ জয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তাদের প্রথম তিন টেস্ট জিতেই। বক্সিং ডে টেস্টে হেরে একটু হয়েছিল ছন্দপতন। সিডনিতে আবার তারা আপন চেহারায়। শেষ টেস্টের শেষ দিনে ইংল্যান্ডকে ৫ উইকেটে স্মরণীয় করে রাখল তারা সিরিজ জয়। উসমান খাজার ১৫ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষ দিন এটি। শেষ ইনিংসে খুব ভালো করতে পারেননি। তবে দর্শকদের তুমুল করতালি, সতীর্থরা আর প্রতিপক্ষের শুভেচ্ছায় ব্যাট উঁচিয়ে মাঠে সিজদা দিয়ে শেষবারের মতো ছেড়ে যান তিনি মাঠ। ম্যাচ শেষে ফক্স স্পোর্টসকে খাজা বলেন, ‘এটা আমার কাছে অনেক কিছু। আমি আসলে শুধু একটা জয়েরই আশা করেছিলাম।’ অস্ট্রেলিয়া পাঁচ উইকেটে জিতে সিরিজ ৪-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নেওয়ার পর তিনি যোগ করেন, ‘শেষ ম্যাচে জয়ের স্বাদ পাওয়া আর সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপন করতে পারাটা দারুণ। এর জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’

আবেগের কথা গোপন করেননি ৩৯ বছর বয়সী এই ব্যাটার, ‘খুব কঠিন ছিল। আমি স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু পুরো টেস্টজুড়েই আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। মনোযোগ ধরে রাখতেও সমস্যা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত আমরা জিতেছি, এই অনুভূতিটা আমি আজীবন মনে রাখব। এখন আমি শান্তিতে থাকতে পারি।’

ম্যাচের ভাগ্য অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল চতুর্থ দিনে। অসাধারণ খেলে জেকব বেথেল টিকে ছিলেস বলে ইংল্যান্ডের লড়াইয়ের আশা টিকে ছিল। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটিতে দেড়শ ছাড়িয়েছেন প্রতিশ্রুতিশীল এই ক্রিকেটার। কিন্তু এরপর আর এগোতে পারেননি বেশ দূর। দলও পারেনি লড়াই জমাতে। শেষ দিনে শেষ দুই উইকেটে যোগ করতে পারে তারা ৪০ রান। ১৬০ রানের লক্ষ্য ছুঁতে গিয়ে আগ্রাসী শুরুর পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। তবে তাদেরকে খুব বিপদে মনে হয়নি কখনই। পাঁচ উইকেট হারালেও ওভারপ্রতি পাঁচে বেশি রান তুলে জিতে যায় তারা দ্বিতীয় সেশনেই।

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ৮ উইকেটে ৩০২ রান নিয়ে শেষ দিন শুরু করে ইংল্যান্ড। পাঁচ ওভার পরই অস্ট্রেলিয়া পায় নতুন বল। ব্যস, এরপর বেশি দেরি হয়নি। সিরিজজুড়ে অসাধারণ ও অতিমানবীয় বোলিং করা মিচেল স্টার্ক শেষ দিনটিও রাঙিয়ে রাখেন শেষ উইকেট দুটি নিয়ে। ১৪২ রানে দিন শুরু করা বেথেল ১৫৪ রানে কিপারের কাছে ধরা পড়েন কাট করতে গিয়ে। শেষ ব্যাটসম্যান জশ টং ক্যাচ তুলে দেন এক্সট্রা কাভারে। রান তাড়ায় ১০ ওভারেই ৬২ রান তুলে ফেলেন ট্রাভিস হেড ও জেইক ওয়েদেরল্ড। ৩৫ বলে ২৯ রান করে হেডের বিদায়ে ভাঙে এই জুটি। ৪০ বলে ৩৫ রান করে থামেন ওয়েদেরল্ড। ৫ টেস্টে ২০১ রান নিয়ে শেষ হলো তার অভিষেক সিরিজ। পরের সিরিজে দুরু দুরু বুকে তার অপেক্ষা থাকবে সুযোগ পাওয়া নিয়ে।

জেতার খুব তাড়া ছিল মার্নাস লাবুশেনেরও। কিন্তু ৪০ বলে ৩৭ করে তিনি রান আউট হয়ে যান। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান স্টিভেন স্মিথ ১২ রানে বোল্ড হয়ে যান উইল জ্যাকসের দারুণ ডেলিভারিতে। শেষ ইনিংসে খাজা ৬ রান করে স্টাম্পে টেনে আনেন জশ টংয়ের বল। ৮৮ টেস্টে ৪২.৯৫ গড়ে ৬ হাজার ২২৯ রান নিয়ে শেষ হলো তার টেস্ট ক্যারিয়ার। এরপর অ্যালেক্স কেয়ারি ও ক্যামেরন গ্রিন খুব বেশি সময় নেননি দলকে জেতাতে। সিরিজজুড়ে উইকেটের সামনে ও পেছনে দারুণ পারফর্ম করা কেয়ারির বাউন্ডারিতে শেষ হয় ম্যাচ ও সিরিজ। নিয়মিত অধিনায়ক প্যাট কামিন্স খেলেছেন কেবল একটি টেস্ট, সেরা স্পিনার লায়ন খেলেছেন দুটিতে। সেরা বোলারদের একজন জশ হেইজেলউড ছিলেন না গোটা সিরিজে। এমনকি ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক স্মিথও ছিলেন না একটি টেস্টে। তার পরও অস্ট্রেলিয়ার বড় জয়ে ফুটে উঠল অ্যাশেজে তাদের শ্রেষ্ঠত্বই। ২০১৫ সালের পর থেকে আর অ্যাশেজে হারেনি তারা। শেষের কৌতূহল ছিল ম্যান অব দা সিরিজ নিয়ে। বোলারদের দাপটের সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ৬২.৯০ গড় ও অবিশ্বাস্যভাবে ৮৭.৩৬ স্ট্রাইক রেটে ৬২৯ রান করেছেন ট্রাভিস হেড। সিরিজে চারশর বেশি রান নেই আর কারও। অবিস্মরণীয় বোলিংয়ে সিরিজে ৩১ উইকেট নিয়েছেন মিচেল স্টার্ক। ক্যারিয়ারের এই প্রথম পেলেন তিনি এক সিরিজে ২৫টির বেশি উইকেট। এই সিরিজে ২২টির বেশি উইকেট নেই আর কারও। লড়াইটা ছিল দুজনেরই। ১৬৩ ও ২৯ রান করে ম্যান অব দা ম্যাচ হন হেড। ৩১ উইকেটের সঙ্গে ১৫৬ রান করে সিরিজ সেরার কম্পটন-মিলার ট্রফি শেষ পর্যন্ত পেয়ে যান স্টার্ক। অস্ট্রেলিয়ার পরের টেস্ট সিরিজ বাংলাদেশের বিপক্ষে। তবে অপেক্ষা অনেক দিনের, আগামী অগাস্টে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত