
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সফলতম ব্যাটসম্যান ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিম। তবে শুধু সংখ্যার নিক্তিতে মাপা যাবে না তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারকে। বাংলাদেশের অনেক জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছেন তিনি, অনেকবারই তার ব্যাটিং ঘুরিয়ে দিয়েছে ম্যাচর মোড়। বছরের পর বছর ধরে দলের মিডল অর্ডারের ভরসা ছিলেন তিনি। তার অভিষেকের পর থেকে ওয়ানডেতে এখনও পর্যন্ত চার নম্বর পজিশনে তার চেয়ে বেশি রান করেছেন কেবল রস টেইলর ও এবি ডি ভিলিয়ার্স। সেই গৌরবময় পথচলা থেমে গেছে গত বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি দিয়ে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর গত বছরের মার্চে ওয়ানডে থেকে অবসর নিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। টি-টোয়েন্টি ছেড়েছেন তারও আগে। কেবল টেস্ট ক্যারিয়ার চালিয়ে যাওয়া মুশফিককে অবসর ভেঙে ওয়ানডেতে ফেরার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রস্তাব সবিনয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা নিশ্চিত করলেন মুশফিক নিজে। কদিন আগে গুঞ্জন ছিল ওয়ানডেতে ধুঁকতে থাকা মিডল অর্ডারে ফেরানো হতে পারে মুশফিককে। যদিও সেটা কখনই আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে যায়নি। সিলেট টেস্ট শুরুর আগে গতকাল শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে এসে এক প্রশ্নের জবাবে মুশফিক নিশ্চিত করলেন, ওয়ানডেতে ফেরার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তাকে। মুশফিক বলেন, ‘ওয়ানডে ক্রিকেটে যেটা বললেন আমার মনে হয় যে হ্যাঁ অবশ্যই আমার কাছে এসেছিল (প্রস্তাব)। কিন্তু আমি মনে করি যে বাংলাদেশ দল এমন একটা পর্যায়ে এখন আছে এবং অদূর ভবিষ্যতে যেখানে যাবে আমরা ইনশাআল্লাহ মনে করি না যে হ্যাঁ, অবশ্যই আমার কাছে এসেছিল বার্তা, আমি মনে করি যে বাংলাদেশ দল এমন একটা পর্যায়ে এখন আছে এবং ভবিষ্যতেও এমন পর্যায়ে যাবে যে, আমার ওইরকম সার্ভিস দরকার হবে না।’
২০২৫ সালের মার্চে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়ানডে থেকে অবসরের কথা জানান মুশফিক। অবসরের আগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির তিন ম্যাচে এক অঙ্কের ঘরে আউট হয়েছিলেন তিনি। তখন সমালোচনার পর আর ক্যারিয়ার টেনে নিয়ে যাননি।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। ২৭৪ ম্যাচে ৩৬.৪২ গড়ে ৭৭৯৫ রান করে থামিয়েছেন ক্যারিয়ার। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে একশোর বেশি টেস্ট খেলা মুশফিকের জগত এখন টেস্টময়।
কদিন আগে ৩৯ বছরে পা দিয়েছেন মুশফিক। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে একশো টেস্ট খেলার অর্জনও হয়ে গেছে। তবে টেস্ট এখনি ছাড়ার চিন্তা নেই তার। এখনো খেলাটা চালিয়ে যাওয়ার তীব্রতা অনুভব করছেন তিনি।