ঢাকা বুধবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

রাজবাড়ীতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের ভালো ফলনের আশা, দাম নিয়ে শঙ্কা

রাজবাড়ীতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের ভালো ফলনের আশা, দাম নিয়ে শঙ্কা

রাজবাড়ীতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। অনুকূল আবহাওয়া ও তুলনামূলক কম বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি মৌসুমে মুড়িকাটা পেঁয়াজের ভালো ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর পেঁয়াজ উৎপাদনে কৃষকরা লাভবান হবেন বলে আশা করছেন। তবে ভরা মৌসুমে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির কারণে দাম পড়ে যাওয়ার শঙ্কায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে রাজবাড়ী জেলায় মোট ৩৬ হাজার ৯২১ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে মুড়িকাটা পেঁয়াজের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৮৭৫ হেক্টর। বর্তমানে জেলায় মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে ৫ হাজার ৯১৮ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪৩ হেক্টর বেশি। পাঁচ উপজেলার মধ্যে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদে এগিয়ে রয়েছে গোয়ালন্দ উপজেলা। সেখানে ২ হাজার ১৩০ হেক্টর জমিতে এ পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কালুখালী উপজেলা, যেখানে আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে। এছাড়া বালিয়াকান্দি উপজেলায় ১ হাজার ২৩৮ হেক্টর, পাংশা উপজেলায় ৫০০ হেক্টর এবং রাজবাড়ী সদর উপজেলায় ৩৫০ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ রোপণ কিছুটা দেরিতে শুরু হলেও এতে ফলনের ওপর তেমন কোনো বিরূপ প্রভাব পড়েনি। রোপণের পর থেকে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পেঁয়াজের জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি এবং কোনো ফসল নষ্ট হয়নি। গত বছরের তুলনায় পেঁয়াজের বীজের দাম কম থাকায় শুরুতে কৃষকরা কিছুটা স্বস্তি পেলেও সারের দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, মাঠজুড়ে সবুজ পেঁয়াজের খেত চোখে পড়ে। অধিকাংশ জমিতে কৃষকরা আগাছা পরিষ্কার, সেচ দেওয়া ও পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোথাও শ্রমিকরা পেঁয়াজের গোড়ার মাটি আলগা করে দিচ্ছেন, আবার কোনো জমিতে পেঁয়াজ মাটি ফুঁড়ে উপরে উঠে এসেছে। অনেক কৃষক বালাইনাশক ও কীটনাশক স্প্রে করছেন। পাখির আক্রমণ ঠেকাতে কোথাও কাকতাড়ুয়া বসানো হয়েছে।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানগঞ্জ ইউনিয়নের খোসবাড়ি গ্রামের কৃষক খালেক শেখ বলেন, ‘গত বছর আট বিঘা জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ ও রসুন চাষ করে প্রায় দুই লাখ টাকা লোকসান হয়েছিল। তাই এ বছর আবাদ কমিয়ে চার বিঘায় পেঁয়াজ রোপণ করেছি। এখন পর্যন্ত ফসল ভালো আছে। যদি কোনো দুর্যোগ না আসে এবং দাম ঠিক থাকে, তাহলে হয়ত গত বছরের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া যাবে।’

হাটবাড়িয়া গ্রামের কৃষক বাবলু শেখ বলেন, ‘এ বছর পেঁয়াজের বীজ তুলনামূলক সস্তা হলেও সার কিনতে হয়েছে বেশি দামে। এক কেজি ডিএপি সার ৫০ টাকা, এমওপি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা এবং ইউরিয়া ৩০ টাকায় কিনতে হয়েছে। পাশাপাশি কীটনাশক ও বিভিন্ন ভিটামিন ব্যবহার করতে হয়। এতে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এই সময় যদি পেঁয়াজ আমদানি করা হয়, তাহলে বাজারে দাম পড়ে যাবে এবং ফলন ভালো হলেও আমরা লোকসানে পড়ব।’

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘পেঁয়াজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে রাজবাড়ী দেশের একটি উল্লেখযোগ্য জেলা। চলতি মৌসুমে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। এবার মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের ব্যয় গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম হয়েছে। এখন পর্যন্ত ফসলের অবস্থা ভালো রয়েছে এবং স্বল্প পরিসরে পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে। বর্তমানে বাজারে দামও সন্তোষজনক।’

তিনি আরও বলেন, ‘জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে। কোনো ডিলার যদি সারের দাম নিয়ে কারসাজি বা সিন্ডিকেট করার চেষ্টা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি হালি পেঁয়াজ রোপণের জন্যও জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে।’

সব মিলিয়ে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রাজবাড়ীতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। তবে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

রাজবাড়ী,মুড়িকাটা পেঁয়াজ,ফলন,দাম
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত