
শিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, জামায়াত ইসলাম ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা দিতে হবে। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত আশাব্যঞ্জক নয়। আমরা বলেছি, প্রশাসন যেন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে। এক পক্ষের দিকে ঝুঁকে না যায়। কিন্তু প্রশাসন এক পক্ষের দিকে ঝুঁকে পড়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে উঠে পড়ে লেগেছে। গতকাল শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের মোল্লাতেঘরিয়া হাজী শরীয়তুল্লাহ একাডেমিতে শিবিরের সাথী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সাদ্দাম আরও বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার জন্য প্রশাসনের যে তৎপরতা থাকার কথা ছিল সেখানে আমরা দুর্বলতা দেখছি। ওসমান হাদীসহ বিভিন্ন জায়গায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু তার কোনো প্রতিকার নেই। এক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতাও দুর্বল অবস্থায়। তিনি বলেন, জুলাই পরবর্তী চিন্তা করেছিলাম চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজি মুক্ত বাংলাদেশ গঠন করা হবে। কিন্তু কোনো জায়গায় কোনো রকম উন্নতি আমরা লক্ষ্য করছি না। বর্তমান ইন্টেরিম সরকারের শক্ত অবস্থান না থাকার কারণে ধীরে ধীরে অপকর্মগুলো বেড়েই চলেছে।
শিবিরের সভাপতি বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনও স্ব-পদে বহাল রয়েছে। এ বিষয়ে বারবার সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। রুট লেভেলে প্রশাসনের কোনো রদবদল হয়নি। আওয়ামী আমলে যারা নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছিলেন তারাই আবার নির্বাচন করছেন। তিনি আরও বলেন, যে ধরনের অরাজকতা হচ্ছে সরকারের কিছু ক্ষেত্রে স্বদিচ্ছা থাকলেও রুট লেভেলে প্রশাসন রেসপন্স করছে না। এর দায় দায়িত্ব সরকারকে নিতেই হবে। নির্বাচনে জনগণ যাতে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে, ভোট দিতে পারে এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত সরকারকেই করতে হবে।
এ সময় কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবুল হাশেম, সেক্রেটারি সুজাউদ্দিন জোয়ার্দ্দার, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী মুফতি আমির হামজাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।