ঢাকা মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

স্কোয়াশ চাষে ঝুঁকছেন কৃষক

স্কোয়াশ চাষে ঝুঁকছেন কৃষক

যশোরের কেশবপুর ও মনিরামপুরসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোর দিগন্ত জোড়া মাঠে এখন সবুজের সমারোহ। তবে এবারের দৃশ্যপট কিছুটা ভিন্ন। প্রথাগত ধান বা রবি শস্যের পাশাপাশি কৃষকদের মনোযোগ কেড়েছে ভিনদেশি সবজি স্কোয়াশ। দেখতে অনেকটা শসার মতো এই সবজিটি চাষ করে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা। ফলন ভালো হওয়া এবং বাজারে চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় কেশবপুরসহ যশোরের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে স্কোয়াশ চাষ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলার মূলগ্রামের কৃষক বাসুদেব এবার এক বিঘা জমিতে ‘রানা’ জাতের উচ্চফলনশীল স্কোয়াশ চাষ করেছেন। গত বছর মাত্র ১০ কাঠা জমিতে পরীক্ষামূলক চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পাওয়ায় এবার তিনি চাষের পরিধি বাড়িয়েছেন।

বাসুদেব জানান, এক বিঘা জমিতে স্কোয়াশ চাষে আমার খরচ হয়েছে প্রায় ২৪ হাজার টাকা। অথচ বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী আমি ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার স্কোয়াশ বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।

শুধু বাসুদেবই নন, উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা, আওয়ালগাতি, সাতবাড়িয়া ও মূলগ্রামের অনেক কৃষক এবার স্কোয়াশ চাষে ঝুঁকেছেন। কৃষকদের মতে, প্রতি বিঘা জমিতে ১৫০ থেকে ১৬০ মণ স্কোয়াশ উৎপাদন সম্ভব। স্কোয়াশ মূলত উত্তর আমেরিকার শীতপ্রধান অঞ্চলের সবজি।

বর্তমানে এটি সারা বিশ্বে জনপ্রিয়। বিশেষ করে চীন, ভারত, আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এর ব্যাপক চাষ হয়। বাংলাদেশে স্কোয়াশের চাষ শুরু হয়েছে খুব বেশিদিন হয়নি। প্রায় ১০-১২ বছর আগে দেশের উত্তরাঞ্চলে প্রথম এর চাষ শুরু হলেও গত ৫-৬ বছরে যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলের মাটিতে এর বাণিজ্যিক চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আমাদের দেশের আবহাওয়া, বিশেষ করে শীতকাল স্কোয়াশ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। স্কোয়াশ একটি দ্রুত বর্ধনশীল ফসল। অক্টোবর ডিসেম্বর মাসে বেলে-দোঁআশ মাটিতে এটি ভালো জন্মায়। চারা রোপণের মাত্র ৩৫ থেকে ৩৬ দিনের মধ্যে গাছে ফুল আসে এবং ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মাথায় ফসল সংগ্রহ শুরু করা যায়। লাউ বা কুমড়া গাছের মতো জায়গা না লাগায় প্রতি সারিতে ৩ ফুট এবং মাদা থেকেমা দার দূরত্ব ৫-৬ ফুট রেখে এটি চাষ করা যায়। আধুনিক মালচিং পদ্ধতি ও নিয়মিত সেচ প্রদান করলে এর ফলন আরও বৃদ্ধি পায়। প্রতিটি স্কোয়াশ ওজনে দেড় কেজি থেকে আড়াই কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। কেশবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন এ বিষয়ে অত্যন্ত আশাবাদী।

তিনি বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে কেশবপুরে স্কোয়াশের চাষ তেমন একটা হতো না। কিন্তু এবার অনেক কৃষক স্কোয়াশ চাষে এগিয়ে এসেছেন এবং ফলনও চমৎকার হয়েছে’। তিনি আরও যোগ করেন, স্কোয়াশ সবজি হিসেবে রান্নার পাশাপাশি সালাদ হিসেবেও খাওয়া যায়। এটি একটি উচ্চমূল্যের ফসল এবং বিদেশে রপ্তানির প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে।

আমরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করছি যাতে তারা এই ভিনদেশি সবজি চাষে আরও সফল হতে পারেন। যশোর জেলা কৃষি প্রধান এলাকা হওয়ায় এখানকার মাটি স্কোয়াশ চাষের জন্য অত্যন্ত উর্বর। সরকারিভাবে বীজ সহায়তা এবং আধুনিক চাষ পদ্ধতির প্রশিক্ষণ পেলে স্কোয়াশ চাষ এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। স্বল্প সময়ে স্বল্প পুঁজিতে অধিক মুনাফা লাভের জন্য স্কোয়াশ এখন কৃষকদের কাছে এক আস্থার নাম।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত