
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকরা বেশ উচ্ছ্বসিত। দেশজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
কক্সবাজার : কক্সবাজার জেলার ৪টি সংসদীয় আসনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) এমএ মান্নান। চারটি আসনেই বিএনপি প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ৫ লাখ ৪০ হাজার ৪৯০ জন ভোটারের মধ্যে ৩ লাখ ৬২ হাজার ৪৩৭ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট পড়েছে ৬৭ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। তার মধ্যে ৬ হাজার ১৬২ ভোট বাতিল হয়েছে। পোস্টাল ব্যালেটসহ ১৭৮টি ভোট কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপি মনোনীত সালাহউদ্দিন আহমদ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ২ লাখ ২২ হাজার ১৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল্লাহ আল ফারুক দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৭২৮ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সারওয়ার আল কুতুবী হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৫২৮ ভোট। কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৮৫১ জন ভোটারের মধ্যে ২ লাখ ৩২ হাজার ৭০৯ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোটের হার ৬০ শতাংশ। তার মধ্যে বাতিল হয় ৫ হাজার ৫২৪টি ভোট। পোস্টাল ব্যালেটসহ মোট ১২৫টি ভোট কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির আলমগীর ফরিদ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৪৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৮৯ ভোট। কক্সবাজার-৩ (সদর-রামুণ্ডঈদগাঁও) আসনে ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৯৬৪ জন ভোটারের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫৯৪জন। ভোট পড়েছে ৬৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। বাতিল হয় ৫ হাজার ৬০৬ ভোট। পোস্টাল ব্যালেটসহ মোট ১৮৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির লুৎফুর রহমান কাজল ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শহীদুল আলম বাহাদুর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৮২৭ ভোট। কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮৮ জন ভোটারের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ২ লাখ ৫৫ হাজার ২৩১ জন। ভোটের হার ৬৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। বাতিল হয়েছে ৪ হাজর ৮৯৯টি ভোট। পোস্টাল ব্যালেটসহ ১১৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির শাহজাহান চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৮২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নূর আহমদ আনোয়ারী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৩৩ ভোট। বিএনপির প্রার্থীর কাছে মাত্র ১ হাজার ৫৪৯ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন।
গাজীপুর : গাজীপুরের ৫টি সংসদীয় আসনের নির্বাচনে ৪টিতে বিএনপি এবং একটিতে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। গাজীপুর-১ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী মজিবুর রহমান। তার প্রাপ্ত ভোট ২ লাখ ৮ হাজার ৬৮৮। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের শাহ আলম বকশী পেয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৫৩ ভোট। গাজীপুর-২ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি এম মঞ্জুরুল করিম রনি, তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৬। নিকটতম প্রতিদ্বদ্বী ১১ দলীয় জোটের (জাতীয় নাগরিক পার্টি, এনসিপি), আলী নাছের খান পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৯৫০ ভোট। গাজীপুর-৩ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৬২ হাজার ৩৪৩। নিকটতম প্রতিদ্বদ্বী ১১ দলীয় জোটের (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) মুহাম্মদ এহসানুল হক পেয়েছেন ১ লাখ ৫৩৯ ভোট। গাজীপুর ৪ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের সালাহউদ্দিন আইউবী, তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ১ হাজার ৭৭৯। নিকটতম প্রতিদ্বদ্বী বিএনপির শাহ রিয়াজুল হান্নান পেয়েছেন ৯০ হাজার ৩৯০ ভোট। গাজীপুর-৫ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি একেএম ফজলুল হক মিলন, তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬৯। নিকটতম প্রতিদ্বদ্বী জামায়াতের মো. খায়রুল হাসান পেয়েছেন ৭৮ হাজার ১২৩ ভোট।
শরীয়তপুর : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর জেলা পরিণত হয়েছে গণরায়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তে। জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই বিপুল ভোটে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। শরীয়তপুর-১ (পালং, জাজিরা) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আহমেদ ধানের শীষ প্রতীকে ৭৭,৩৯৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। ১১ দলীয় জোটভুক্ত খেলাফত মজলিস প্রার্থীকে ১৪,৬৮১ ভোটে পেছনে ফেলেছেন। শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী সফিকুর রহমান (কিরন)। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পান ১,২৯,৮১৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পেয়েছেন ৫৮,৯২২ ভোট। শরীয়তপুর-৩ (গোসাইরহাট, ডামুড্যা, ভেদরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু ধানের শীষ প্রতীকে ১,০৭,৫১৬ ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেন। প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে ৩৭,৮৩২ ভোটের ব্যবধানে হারিয়েয়েছে। সংসদীয় নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটেও শরীয়তপুরবাসী পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নেয়। ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে পড়ে ৩,০১,৮২৮ ভোট, যেখানে ‘না’ ভোট পড়ে ২,১০,৭৭৫টি।
নাটোর : নাটোরে চারটি আসনে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ৪ প্রার্থী বিজয় হয়েছেন। নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ২ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ৯০ হাজার ৫৬৮ ভোট। নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৪১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক ইউনুস আলী পেয়েছেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬ ভোট। নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৬৮ ভোট পেয়ে ভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী প্রার্থী দাউদার মাহমুদ ঘোড়া প্রতীক নিয়ে ৬৬ হাজার ৪৯২ ভোট পেয়েছেন। নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আজিজ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৭০ হাজার ৫৭১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী আবুল হাকিম পেয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৮৬ ভোট। আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিএনপি-জামায়াতসহ ৫ জন প্রার্থী।
মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই বেসরকারিভাবে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থীরা। প্রতিটি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে ভোটের বিশাল ব্যবধান বজায় রেখে নিরঙ্কুশ জয় নিশ্চিত করেছেন তারা। মানিকগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী এসএ কবীর জিন্নাহ ১,৩৭,৭৭৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. তোজাম্মেল হক তোজা পেয়েছেন ৭৭,৮১৮ ভোট। মানিকগঞ্জ-২ আসনেও আধিপত্য বজায় রেখেছেন বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত। তিনি ১,৭৫,৭৭৬ ভোট পেয়ে বড় জয় পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ মো. সালাউদ্দিন পেয়েছেন ৮১,৫০১ ভোট। মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী আফরোজা খানম রিতা ১,৬৭,৩৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মুফতি সাঈদ নুর পেয়েছেন ৬৪,২৪২ ভোট। এক লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়ে রিতা তার জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেছেন।
সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জে ৬টি আসনের মধ্যে ৫টিতে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি (ধানের শীষ) মনোনীত প্রার্থীরা। আর একটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত (দাঁড়িপাল্লা) প্রার্থী। সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর-সদরের একাংশ) আসনের ১৬৫ কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপি প্রার্থী সেলিম রেজা ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মওলানা শাহীনুর আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৭৩২ ভোট। সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনে বিএনপি প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ১৬২ কেন্দ্রের ফলাফলে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৩১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ১ লাখ ৩৮ হাজার ২২৫ ভোট পেয়েছেন। সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ ও তাড়াশ) আসনে বিএনপি প্রার্থী ভিপি আয়নুল হক ১৫৮ কেন্দ্রের ফলাফলে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়ে জয়ী হন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুর রউফ (রিকশা) ১ লাখ ১৬ হাজার ৮০২ ভোট পেয়েছেন। সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খান ১৪৭টি কেন্দ্রের ফলাফলে ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির এম আকবর আলী ১ লাখ ৬১ হাজার ২৭৮ ভোট পেয়েছেন। সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী) আসনের বিএনপির প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান আলীম ১৩১টি কেন্দ্রের ফলাফলে ১ লাখ ২৮২ ভোট পেয়ে জয়ী হন এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী আলী আলম পেয়েছেন ৮০ হাজার ২৮৩ ভোট। সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থী ডা. এমএ মুহিত ১৬০ কেন্দ্রের ফলাফলে ১ লাখ ৭২ হাজার ১১৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট মনোনীত এনসিপির প্রার্থী সাইফ মুস্তাফিজ (শাপলা কলি) ১ লাখ ৩ হাজার ৭০৪ ভোট পেয়েছেন।
ভোলা : ভোলা জেলার চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থীরা অনেক ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করেছেন। ভোলা-১ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি বিজেপি (গরুর গাড়ি প্রতীক ) ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। তার প্রাপ্ত ভোট এক লাখ চার হাজার ৪৬২। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নজরুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৭৭৩ ভোট। এ আসনে বিএনপির জোটের প্রার্থী তিনি ৩০ হাজার ৬৮৯ ভোট বেশি পেয়ে জয় লাভ করেন। ভোলা-২ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিম (ধানের শীষ)। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ২১ হাজার পাঁচ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর (দাঁড়িপাল্লা) ফজলুল করিম পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৪৯৮ ভোট। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ২৭ হাজার ৫০৭ ভোট বেশি পেয়ে জয় লাভ করেন। ভোলা-৩ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম (ধানের শীষ)। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৭৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি বিডিপি (ফুলকপি) মু. নিজামুল হক নাইম পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৬০। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী তিনি ৯৬ হাজার ১১৪ ভোট বেশি পেয়ে জয় লাভ করেন। ভোলা-৪ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলাম নয়ন (ধানের শীষ)। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৯০ হাজার পাঁচ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর (দাঁড়িপাল্লা) মো. মোস্তফা কামাল পেয়েছেন ৮২ হাজার ৩১৮ ভোট।
কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে বিএন?পির প্রার্থী রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা ধা?নের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়া?তের বেলাল উদ্দিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৫ ভোট। কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর- ভেড়ামারা) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়া?তের প্রার্থী আব্দুল গফুর ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮১৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধা?নের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ব?্যা?রিস্টার রা?গীব রউফ চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ২৮২ ভোট। কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে ১ লাখ ৮০ হাজার ৬৯০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ইসলা?মিক বক্তা মুফ?তি আমির হামজা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএন?পি প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার ধা?নের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৯০৯ ভোট।কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে দাড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়া?তের প্রার্থী আফজাল হোসেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএন?পি মনোনীত সৈয়দ মে?হেদী আহ?মেদ রুমী পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৬ ভোট।
কিশোরগঞ্জ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিত কিশোরগঞ্জ জেলার ৬টি আসনের গণভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা ফলাফল ঘোষণা করেন। রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা স্বাক্ষরিত ফলাফল পত্র অনুয়ায়ী কিশোরগঞ্জ জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন ৮ লাখ ৭৬ হাজার ১৮৭ জন ভোটার। পক্ষান্তরে না ভোট দিয়েছেন ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৬৮৪ জন। কিশোরগঞ্জ-১ (সদর ও হোসেনপুর) আসনে ১৮১টি কেন্দ্রে গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮২২ জন। পক্ষান্তরে না এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৭৪ হাজার ৫৯৭ জন। কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া ও কটিয়াদী) আসনে ১৭১টি কেন্দ্রে গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৭৭ জন। পক্ষান্তরে না এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৬৮ হাজার ৬৪৪ জন। কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ ও তাড়াইল) আসনে ১৫১টি কেন্দ্রে গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭১ জন। পক্ষান্তরে না এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৬১ হাজার ৩৯৩ জন। কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম) আসনে ১৫০টি কেন্দ্রে গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৯৯ হাজার ২৬৭ জন। পক্ষান্তরে না এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৭০ হাজার ২ জন। কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী ও বাজিতপুর) আসনে ১১৯টি কেন্দ্রে গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৬৭ জন। পক্ষান্তরে না এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৪৮ হাজার ৭৪৬ জন। কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব ও কুলিয়ারচর) আসনে ১৪২টি কেন্দ্রে গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮৩ জন। পক্ষান্তরে না এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৬০ হাজার ২ জন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র প্রার্থী এমএ হান্নান নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ৬৯২৫৫। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান মামুন। পেয়েছেন ৩৫৫৬৮ ভোট। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগর উপজেলার ২টি ইউনিয়ন) আসনে স্বতন্ত্র প্রাথী ব্যরিষ্টার রুমিন ফারহানা নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ১১৮৫৪৭। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জোট প্রার্থী জমিয়াতে উলামায়ে ইসলামের এর প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব। তিনি পেয়েছেন ৮০৪৩৪ ভোট। ভোট কেন্দ্র ১৫২টি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ২,০৯,৬৩৬। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াত ইসলামী ১১ দলীয় জোটের এনসিপির প্রার্থী মোহাম্মদ আতাউল্লা। তিনি পেয়েছেন ৬২,৫৪৭ ভোট। ভোট কেন্দ্র ১৯৩টি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র প্রার্থী মুশফিকুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ১,৩৯,৮৪২। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াত ইসলামের প্রার্থী আতাউর রহমান সরকার। পেয়েছেন ৯১,৭৯৬ ভোট। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র প্রার্থী এমএ মান্নান নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ৮৫,৭৬৯। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন তাপস। তিনি পেয়েছেন ৮৪,৭০৮ ভোট। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপি জোট প্রার্থী গণসংহতি পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী মাথাল প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী তিনি পেয়েছেন ৯৪,২৩১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বদ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মহসিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৩৭,৯৬৫ ভোট।
মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জ-১ (সিরাজদিখান-শ্রীনগর) এ আসনে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো.আব্দুল্লাহ। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সভাপতি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী একেএম ফখরুদ্দিন রাজী পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৬৮ ভোট। মুন্সীগঞ্জ-২(টঙ্গিবাড়ী-লৌহজং) এ আসনে ১ লাখ ২১ হাজার ১৫৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আব্দুস সালাম আজাদ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী মাজেদুল ইসলাম পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৫৭৩ ভোট। মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) এ আসনে ১ লাখ ২৪ হাজার ৬৯১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো.কামরুজ্জামান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দলটির বিদ্রোহী ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী মো.মহিউদ্দিন পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৯৩৬ ভোট।
হবিগঞ্জ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো হবিগঞ্জের চারটি আসনেই জয় পেয়েছে বিএনপি। হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপি প্রার্থী রেজা কিবরিয়া ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১১ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম (রিকশা প্রতীক) পেয়েছেন ৫৬ হাজার ১৩২ ভোট। হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় আমীর আব্দুল বাছিত আজাদ (দেওয়াল ঘড়ি) পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৭৬২ ভোট। হবিগঞ্জ-৩ (সদর-লাখাই-শায়েস্তাগঞ্জ) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জিকে গউছ ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৪৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলের কাজী মহসিন আহমদ (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৫৬৮ ভোট। হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও শিল্পপতি এসএম ফয়সল ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের (দেওয়াল ঘড়ি) পেয়েছেন ২৬ হাজার ৪৪৬ ভোট।
নোয়াখালী : নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মাহবুব উদ্দিন খোকন এক লাখ ২৬ হাজার ৮৩৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের অধ্যক্ষ ছাইফ উল্যাহ (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৩৬ ভোট। নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-কোম্পানীগঞ্জ) আসনে বিএনপির জয়নুল আবদিন ফারুক ধানের শীষ প্রতীকে ৮৩ হাজার ৯৮২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া (শাপলা কলি) পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৫৪ ভোট। নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনে বিএনপির বরকত উল্লাহ বুলু ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৪১ হাজার ৩১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের বোরহান উদ্দিন পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪১ ভোট। নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মো. শাহজাহান দুই লাখ ১৯ হাজার ১৮২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের ইসহাক খন্দকার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৯ ভোট। নোয়াখালী-৫ (কবিরহাট-হাতিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৪৫৩ ভোট। নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে এনসিপির প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ শাপলা কলি প্রতীকে ৯০ হাজার ১১৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মাহবুবের রহমান শামীম ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৩৭২ ভোট।
রাঙামাটি : রাঙামাটি (২৯৯) আসনে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন ২১৩টি কেন্দ্রে ভোটের সংখ্যা ৫ লাখ ৯২৬৭ জন। সবকটির ফলাফলে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ২ লাখ ১৫৪৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৩০ হাজার ৯৯২ ভোট। পোস্টাল ভোটার ৫৩০৭ । রাঙামাটিতে ‘না’ ভোটের পক্ষে ভোট পড়েছে বেশি।
মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা ও জুড়ী) বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী মো: নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠু (ধানের শীষ) তার প্রাপ্ত ভোট ৯৮২৮২। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মাওলানা আমিনুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) তার প্রাপ্ত ভোট ৮৩০১৩। মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) বিএনপির প্রার্থী শওকতুল ইসলাম শুকু পেয়েছেন ৬৮৩৮১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতের জেলা আমীর ইঞ্জিনিয়ার মো. সাহেদ আলী প্রাপ্ত ভোট ৫৩৪৫৮ ভোট। মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী এম নাসের রহমানের পেয়েছেন ভোট ১৫৬৭৫৭। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতের প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ৭৭৬৩৬। মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল) বিএনপির প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী বিজয়ী হন। তিনি ভোট পেয়েছেন ১৭০৮৭৭। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী শেখ নূরে আলম হামিদী (দেওয়াল ঘড়ি) তার প্রাপ্ত ভোট ৫০২০৪।
নীলফামারী : নীলফামারীর চারটি আসনেই বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে ১৫৪ কেন্দ্রে ১ লাখ ৪৯ হাজার ২১৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সাত্তার। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের খেজুর গাছের প্রার্থী মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ১৬০ ভোট। নীলফামারী-২ (সদর) আসনে ১৩৪ কেন্দ্রে ১ লাখ ৪৫হাজার ২০২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী আলফারুক আব্দুল লতিফ। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭৯ ভোট। নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনে ১০৫ কেন্দ্রে ১ লাখ ৮ হাজার ৫৬০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ আলী পেয়েছেন ৮৯ হাজার ১০২ ভোট। নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে ১৬৯ কেন্দ্রে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার পেয়েছেন ৮১ হাজার ৫২৬ ভোট।
ফরিদপুর : ফরিদপুর-১ (মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা) আসনে জামায়াতের প্রার্থী ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা ২৭ হাজার ৬৬৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৪৫ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির খন্দকার নাসিরুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৭৬ ভোট। ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের মাওলানা শাহ আকরাম আলী পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৩০৫ ভোট। ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের অধ্যাপক আব্দুত তাওয়াব পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ১১৫ ভোট। ফরিদপুর-৪ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা ছরোয়ার হুসাইন পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৮০৫ ভোট।
রাজবাড়ী : রাজবাড়ী-১ (সদর ও গোয়ালন্দ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৪১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নূরুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৯২ ভোট। রাজবাড়ী-২ (পাংশা, বালিয়াকান্দি ও কালুখালী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. হারুন অর-রশিদ ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ৩৭ হাজার ২৫৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামিল হিজাযী শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ৬৭ হাজার ২৯৯ ভোট। নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রাজবাড়ীর দুই আসনেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
মাদারীপুর : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুরের ৩টি আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। দুইটিতে বিএনপি ও একটিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। মাদারীপুর-১ আসনে বাংলাদেশের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী সাইদ উদ্দিন আহমেদ হানজালা রিকশা প্রতীক নিয়ে ৬৪ হাজার ৯০৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাদিরা আক্তার ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৫২৪ ভোট। মাদারীপুর-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া ৬১ হাজার ৭৪৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৪৭৬ ভোট। মাদারীপুর-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার ৯৭ হাজার ২০২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৩৩১ ভোট।
দিনাজপুর : দিনাজপুরের ছয়টি আসনের পাঁচটিতেই ধানের শীষের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। একটি আসনে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। দিনাজপুর-১ এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে মনজুরুল ইসলাম ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩১৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মতিউর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৮১ ভোট। দিনাজপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাদিক রিয়াজ পিনাক চৌধুরী ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬২২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর একেএম আফজালুল আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৮৮৭ ভোট। দিনাজপুর-৩ এই আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ১ লাখ ৪০ হাজার ৬০৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অ্যাডভোকেট মাইনুল আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৩৯ ভোট। দিনাজপুর-৪ আসনে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিএনপির প্রার্থী আখতারুজ্জামান মিয়া। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আফতাব উদ্দিন মোল্লা পেয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৬ ভোট।
দিনাজপুর-৫ এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এজেডএম রেজওয়ানুল হক তালা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপি প্রার্থী ডা. আব্দুল আহাদ পেয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ১৯৫ ভোট। রেজওয়ানুল হক ৪ হাজার ২৮৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। বিএনপি প্রার্থী কামরুজ্জামান ৯৮ হাজার ৫৪৪ ভোট পেয়েছেন। দিনাজপুর-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী এজেডএম জাহিদ হোসেন ২ লাখ ৫ হাজার ১০৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ারুল হক পেয়েছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ৭০৩ ভোট।
লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) : আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির শাহাদাত হোসেন সেলিম। তার প্রাপ্ত ভোট ৮৫ হাজার ৪৫৭। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির মাহবুব আলম পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৪৩৭ ভোট। লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর আংশিক) আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির আবুল খায়ের ভুঁইয়া। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১৩। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের এসইউএম রুহুল আমিন ভুঁইয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪২ ভোট। লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬১২। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের রেজাউল করিম পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৮০২ ভোট। লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির আশরাফ উদ্দিন নিজান। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ১৪ হাজার ২৬ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের এআর হাফিজ উল্লাহ পেয়েছেন ৭০ হাজার ৭৬৫ ভোট।