
পটুয়াখালীর বাউফলে আওলাদণ্ড৭ নামের একটি লঞ্চের ধাক্কায় তরমুজবোঝাই ট্রলার ডুবে দুইজন নিখোঁজ হয়েছেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তাদের লাশ উদ্ধার করে। গতকাল বুধবার সকালে বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের বামনিকাঠী লঞ্চঘাট-সংলগ্ন লোহালিয়া নদীতে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। এর আগে, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- রাঙ্গাবালী উপজেলার চরবেস্টিন গ্রামের মো. আলী ফকিরের ছেলে নাসির ফকির এবং নলুয়া গ্রামের আজাদ হাওলাদারের ছেলে রেজাউল হাওলাদার। তারা দুজনই তরমুজ পরিবহনের কাজে শ্রমিক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী থেকে তরমুজবোঝাই একটি ট্রলার ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। ভোর রাতে ট্রলারটি বামনিকাঠী এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা থেকে পটুয়াখালীগামী এমভি আওলাদণ্ড৭ নামের একটি ডাবল ডেকার লঞ্চ ট্রলারটিকে ধাক্কা দিলে ট্রলারটি নদীতে ডুবে যায়।
এ সময় ট্রলারের ভেতরের ছোট কেবিনে ঘুমিয়ে ছিলেন রেজাউল ও নাসির। আকস্মিক দুর্ঘটনায় তারা কেবিন থেকে বের হতে না পেরে পানিতে ডুবে মারা যান। তবে ট্রলারে থাকা অন্য যাত্রীরা সাঁতরে তীরে উঠে আসেন।
জানা গেছে, ট্রলারটিতে মোট ছয়জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে তিনজন কেবিনে অবস্থান করছিলেন। দুর্ঘটনার সময় কেবিনে থাকা তিনজনের মধ্যে একজন বের হতে সক্ষম হলেও বাকি দুইজন বের হতে না পেরে ভেতরেই আটকা পড়েন। পরে তারা পানির নিচে নিখোঁজ হন এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের অভিযানে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোররাতে লোহালিয়া নদীতে ঘন কুয়াশা ছিল। এ কারণে ট্রলারটি লঞ্চের সুকানির চোখে না পড়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।