ঢাকা রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

তজুমদ্দিনে সূর্যমুখী চাষে লাভবান কৃষক

তজুমদ্দিনে সূর্যমুখী চাষে লাভবান কৃষক

ভোলার তজুমদ্দিনে সূর্যমুখীর চাষ হতে পারে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি। সূর্যমুখী একটি তেলজাতীয় ফসল। এই তেল পুষ্ঠিগুণে অনন্য হওয়ায় ভোজ্যতেলের চাহিদা মেঠাতে এখানকার কৃষকেরা বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ না করলেও পরীক্ষামূলকভাবে অনেক কৃষকেই এবছর সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ পাতার মধ্যে যেন শোভা ছড়াচ্ছে হলুদ সূর্যমুখী ফুল। এক একটি ফুল যেন হাসিমুখে সূর্যের আলো ছড়াচ্ছে। হলুদ ফুল আর সবুজ গাছে সে এক অপরূপ দৃশ্য। আর কিছুদিন পরেই ফসল ঘরে তুলবেন চাষিরা। আবহাওয়া অনূকূলে থাকলে বেশ লাভবান হওয়ার আশাবাদী এখানকার চাষিরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরেই কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ও কৃষি অফিসের পরামর্শে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সূর্যমুখীর চাষ শুরু হয়। উর্বর মাঠি ও অল্প খরচেই সূর্যমুখী চাষ বেশ লাভজনক হওয়ায় এই চাষাবাদে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। এবছর প্রজেক্টের আওতায় পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে ৩টি এবং তেল প্রকল্পের মাধ্যমে ১৫টি প্রদর্শনী ও প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় উপজেলার বিভিন্নস্থানে প্রায় ৮৫ হেক্টর একর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়। যার লক্ষমাত্রা ছিল ৮২ হেক্টর যা লক্ষমাত্রার চেয়ে ৩ হেক্টর জমিতে বেশি চাষ হয়েছে। এ অঞ্চলে সাধারণত প্রজাপতি জাতের সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে ভালো ফসল উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আড়ালিয়া গ্রামের চাষি মেঘনাথ দাস বলেন, আমি গত তিন বছর ধরে সূর্যমুখীর চাষ করি। বিগত বছরগুলোতে যে পরিমান ফসল পেয়েছি তাতে নিজেদের তেল ব্যবহারের পাশাপাশি বিক্রিও করেছি। কম খরচে অন্য ফসলের চেয়ে ভালো ফলন হওয়ায় এবছর কৃষি অফিস থেকে বীজ সংগ্রহ করে প্রায় ৩০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর চাষাবাদ করেন তিনি। জমি চাষ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনূকূলে থাকলে ৮ থেকে ৯ মণ করে ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর কয়েকদিন পরে ফসল ঘরে তুলবেন এবং এতে ভালো লাভবান হওয়া যাবে বলে আশাবাদী তিনি।

একই গ্রামের ভাষ্কর চন্দ্র মজুমদার, জকির হোসেন, শ্যামল চন্দ্র দাসসহ অনেকেই সূর্যমুখী চাষ করেছে। তারা বলেন, এক সময় সরিষা চাষাবাদ করলেও গত কয়েক বছর ধরে আমার সূর্যমুখী চাষাবদ করছি, কারণ সরিষার চাষের চেয়ে সূর্যমুখী চাষে খরচ কম এবং লাভ বেশি। তাই আমরা এখন সরিষা চাষ না করে সূর্যমুখী চাষ করি।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. ইব্রাহিম বলেন, সূর্যমুখী একটি তেলজাতীয় ফসল, যা আমাদের দেশের ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে আমাদের তেলের চাহিদা পূরণ করতে প্রচুর পরিমাণ ভোজ্য তেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। যদি আমরা সূর্যমুখী চাষ আরও বাড়াতে পারি তাহলে বিদেশ নির্ভরতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। সূর্যমুখী শুধু লাভজনকই নয়, এটি আমাদের দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত