ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

যশোরে তীব্র লোডশেডিং

যশোরে তীব্র লোডশেডিং

তীব্র দাপদাহ এবং অসহনীয় লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে যশোরে। মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এবং সেইসঙ্গে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়েছে চরম বিপাকে; পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটায় ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

যশোর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকালবুধবার যশোরে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনের প্রখর রোদ আর বাতাসের গরম হলকায় ঘরের ভেতরেও থাকা দায়। সাধারণ মানুষ অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। বুধবার দুপুরে যশোর শহরের প্রধান সড়কগুলোতে মানুষের চলাচল ছিল সীমিত, এমনকি অনেক দোকানপাটও বন্ধ দেখা গেছে।

শহরের তুলনায় গ্রামের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। শহরের চেয়ে গ্রামে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেক বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষের ত্রাহি অবস্থা। যশোর ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) সূত্রে জানা গেছে, তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে, কিন্তু সরবরাহ কম। বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ ১ ও ২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী যথাক্রমে মো. নাসির উদ্দিন ও জিএম মাহমুদ প্রধান জানান, বুধবার যশোরে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৬০ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ৪৭ মেগাওয়াট। ১৩ মেগাওয়াট ঘাটতির কারণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ঘাটতির কথা উল্লেখ করে কর্মকর্তারা জানান, ঘাটতি মেটাতে দিন ও রাতে মিলিয়ে প্রতি এক ঘণ্টা পর পর অন্তত তিনবার লোডশেডিং করে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এসএসসি পরীক্ষার এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দিনের পর দিন লোডশেডিং অব্যাহত থাকায় শিক্ষার্থীরা মনোযোগ দিয়ে পড়তে পারছে না। গরমের কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট দ্রুত নিরসন না হলে পরীক্ষার্থীদের ফল বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত