ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

কালিগঞ্জে মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগ

কালিগঞ্জে মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগ

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালি ইউনিয়নের আমিয়ান গ্রামে গভীর রাতে একটি মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে এ নাশকতা চালানো হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীর পরিবারের। ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ মোল্লা (ইমান মোল্লার ছেলে) জানান, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা তার মাছের ঘেরে বিষ ঢেলে দেয়। তিনি আরও জানান, ওই রাতে ঘেরের দায়িত্বে থাকা এক কর্মচারী প্রথমে দেখতে পান মাছগুলো অস্বাভাবিকভাবে মরে পানির উপর ভেসে উঠছে।

তাৎক্ষণিকভাবে তিনি মৎস্য মালিক আব্দুল্লাহ মোল্লাকে বিষয়টি জানালে খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং ঘেরের ভয়াবহ চিত্র প্রত্যক্ষ করেন। গতকাল বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘেরের পানির উপর অসংখ্য মৃত মাছ ভেসে রয়েছে। ঘেরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এসব মাছ দেখে সহজেই ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা অনুমান করা যায়। এতে তার প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, এমন ঘটনা এলাকায় আগে কখনও ঘটেনি। ফলে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর বড় ভাই এবাদুল ইসলাম বলেন, আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার চাই। এ ধরনের ক্ষতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন কাজ করার সাহস না পায়।

ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০টি ‘ব্যাবিলন’ নামের খালি বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েকটি বোতলে বিষের অবশিষ্টাংশও পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। এ সময় ধারণা করা হচ্ছে, আগে পরিকল্পিতভাবে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ মোল্লা জানান, এলাকার এক ব্যক্তির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তার বিরোধ চলে আসছিল। সেই শত্রুতার জের ধরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি সন্দেহ করছেন। এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে কালিগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই পলাশ কুমার সাহা সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কালিগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক পলাশ কুমার সাহা বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে বিষ প্রয়োগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত