ঢাকা শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ইরান যুদ্ধের প্রভাব

ফেনীতে কমেছে রেমিট্যান্স

ফেনীতে কমেছে রেমিট্যান্স

প্রবাসী অধ্যুষিত জেলা হিসেবে সারা দেশের মধ্যে অন্যতম রেমিট্যান্স আসে ফেনী জেলায়। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ থেকে শুরু করে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এই জনপদের লাখো মানুষ পাঠাচ্ছেন তাদের কষ্টার্জিত অর্থ। সেই রেমিট্যান্সই সমৃদ্ধির মাধ্যমে বদলে দিয়েছে জেলার চিত্র। গড়ে উঠেছে দালানকোঠা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান। আর ঈদ এলে এই অর্থপ্রবাহ যেন পায় নতুন গতি। ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে হাসি ফোটে দেশে থাকা স্বজনদের মুখে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে ফেনীতে কমেছে রেমিট্যান্স। প্রবাসী পরিবারগুলোতে নেই হাসি, আসন্ন কুরবানীর বাজার ঘিরে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ী ও খামারিরা।

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার পর পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত কয়েকমাস ধরে যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে (সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত) থাকা ফেনীর হাজারো প্রবাসীর পরিবার এখন চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। এসব দেশে অর্ধকোটির বেশি বাংলাদেশি কর্মী অবস্থান করছেন। এর প্রভাব পড়েছে প্রবাসী অধ্যুষিত জেলা ফেনীতেও। জেলার হাজারো পরিবার এখন প্রিয়জনদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। যুদ্ধের ডামাডোলে অনেক প্রবাসী তাদের চাকরি হারিয়েছেন বা কাজের সময় কমে গেছে, যার ফলে দেশে অর্থ পাঠানো (রেমিট্যান্স) কমিয়ে দিয়েছেন।

ফেনীতে সারা বছরই রেমিট্যান্স এলেও ঈদকে ঘিরে তা বেড়ে যায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রবাসীরা পাঠান বাড়তি টাকা। ঈদে কোরবানী পুশু ক্রয়, পোশাক, যাকাত-ফিতরা, আত্মীয়-স্বজনকে উপহার- সবকিছুতেই ভরসা সেই প্রবাসী আয়ের ওপর। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ঈদ বাণিজ্য নিয়ে কিছুটা শঙ্কায় রয়েছেন প্রবাসী অধ্যুষিত এই জেলার ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে প্রবাসীদের স্বজনদের মুখেও।

মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বিভিন্ন প্রবাসীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলমান পরিস্থিতিতে তাদের ছেলে-মেয়ে ও আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে। তারা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই প্রিয়জনদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য বার বার মোবাইল ফোনে নির্দেশনা দিচ্ছেন। জেলার গ্রামাঞ্চলে টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রেখে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার খবর নিয়ে স্বজনদের খবর নিচেছন। সুযোগ পেলে প্রবাসীরা পরিবারকে আশ্বস্ত করছেন। আর প্রবাসী পরিবারগুলোর একটাই প্রার্থনা-প্রিয়জনরা যেন নিরাপদে দেশে ফিরতে পারেন অথবা কর্মস্থলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন।

নাসরিন আক্তার নামে এক নারী ফেনী পুলিশ কোয়ার্টার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার ৮ বছরের কন্যা ফেনী শাহীন একডেমীতে পড়তেন। হঠাৎ করে বাসা ছেড়ে দিয়ে গ্রামের বাড়ীতে চলে যাচেছন। জানতে চাইলে জানান, স্বামী আবুল কাসেম কাতার থাকেন, ইরান, ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে চাকরি হারিয়েছেন। এখন আর প্রতি মাসে টাকা দিতে পারেন না।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত