ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

নওগাঁয় জাপানি ব্যবসায়ীদের আম বাগান পরিদর্শন

নওগাঁয় জাপানি ব্যবসায়ীদের আম বাগান পরিদর্শন

নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর পোরশায় একটি রপ্তানিযোগ্য আমবাগান পরিদর্শন করেছেন জাপানের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল। পরিদর্শন শেষে নিরাপদ আম উৎপাদন নিয়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ আম আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেন। গতকাল শুক্রবার উপজেলার বন্ধু পাড়া এলাকার ওই বাগান তারা পরিদর্শন করেন।

জাপানি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সদস্য কাওয়ামতু বলেন, জাপানে আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে জাপানে আম আমদানির জন্য বাংলাদেশে জাপানের দূতাবাসের আমন্ত্রণে আমরা রাজশাহী ও নওগাঁ অঞ্চলে রপ্তানিযোগ্য আমবাগান পরিদর্শনে এসেছি। এখন জাপানের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ থেকে আম রপ্তানির বিভিন্ন পর্যায় যাচাই-বাছাই চলছে। সব ঠিক থাকলে জাপান বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ আম নেবে।

পোরশা বন্ধুপাড়া এলাকার ফ্রুটস মিউজিয়াম অ্যাগ্রো ফার্ম নামের রপ্তানিযোগ্য ওই আমবাগান পরিদর্শন করে তিনি আরও বলেন, আমরা জেনেছি নওগাঁর আম অত্যন্ত সুমিষ্ট ও সুস্বাদু। এ এলাকার আমগুলো কতটা রপ্তানিযোগ্য তা যাচাই করতে এখানে জাপানের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা এসেছি। বাংলাদেশে উৎপাদিত সুস্বাদু ফ্রেশ আম আমরা জাপানে বাজারে নিতে চাই।

জাপানি ওই প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন, জাপানি ব্যবসায়ী সাকাকিবারা, ইশিমটু ও শিগিমরি। এ ছাড়া, পরিদর্শনের সময় জাপানি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আবু সাঈদ নামে বাংলাদেশের এক আম রপ্তানিকারক ছিলেন। এর আগে, জাপানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের এই সদস্যরা নওগাঁ ছাড়াও রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় রপ্তানিযোগ্য আম বাগান পরিদর্শন করেন।

জাপানি ব্যবাসায়ী প্রতিনিধি দলের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রপ্তানিযোগ্য আম বাগান পরিদর্শন ছাড়াও তারা কয়েকটি জেলায় আম গ্রেডিং, শর্টিং ও শোধনকেন্দ্র পরিদর্শন করে দেখছেন। পরিদর্শন শেষে তারা বাংলাদেশ থেকে আম আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেন। এতে খুশি বাগান মালিক ও উদ্যোক্তারা। জাপানে আম রপ্তানি দেশের জন্য একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে দেবে।

পোরশার বন্ধুপাড়া এলাকায় ৫০ বিঘা জমিজুড়ে গড়ে তোলা ফ্রুটস মিউজিয়াম অ্যাগ্রো ফার্মে আমবাগান পরিদর্শন শেষে জাপানি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সদস্য কাওয়ামতু বলেন, উত্তম কৃষি চর্চার (গ্যাপ) মাধ্যমে এই বাগানে চাষ করা আম দেখে তারা মুগ্ধ হয়েছেন। এসব আম তারা তাদের দেশে রপ্তানির ব্যাপারে আগ্রহও প্রকাশ করেন।

বাগান পরিদর্শনের সময় ফ্রুটস মিউজিয়াম অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক রায়হান সিদ্দিক ছাড়া স্থানীয় আমচাষী আকরাম হোসেন, শহিদুল, সালাউদ্দিন, পোরশা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিম রেজাসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ সরকার থেকে উত্তম কৃষি চর্চার সনদ বাগান মালিক রায়হান সিদ্দিক তার বাগানে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের আম সম্পর্কে জাপানি প্রতিনিধি দলকে ধারণা দেন।

রায়হান সিদ্দিক বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে নওগাঁ থেকে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের আম যাচ্ছে। গত বছর থেকে চিনের বাজারেও আম রপ্তানি হওয়া শুরু হয়েছে। তবে এ বছর প্রথম জাপানের বাজারে দেশের আম রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জাপানে আম রপ্তানি হলো আমচাষিরা অনেক লাভবান হবেন।

পোরশা উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। উত্তম কৃষিচর্চা (গ্যাপ) অনুসরণ করে নিরাপদ আমের উৎপাদন কার্যক্রম দেখার জন্য ঢাকায় নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূতের নির্দেশনায় জাপানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল পোরশার বন্ধুপাড়ার এই বাগান পরিদর্শন করেছেন। জাপানি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল আম বাগানটি পরিদর্শন করে সন্তুষ্ট হয়েছেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত