ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সপ্তাহজুড়ে বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে হাঁটুপানি

সপ্তাহজুড়ে বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে হাঁটুপানি

মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে টানা সাত দিনের ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টিতে ফরিদপুরের জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বর্ষণে শহরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, যেখানে হাঁটুপানি মাড়িয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা। গতকাল সোমবার সরেজমিন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, পুরাতন ভবনের জরুরি বিভাগের সামনেসহ নিচতলার বিভিন্ন স্থানে হাঁটুপানি জমে রয়েছে। জরুরি চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, তাদের স্বজন এবং হাসপাতালের কর্মীদের নোংরা ও দূষিত পানি মাড়িয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসাসেবা গ্রহণে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়েছে। রোগীর স্বজনরা জানান, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে এমন দুর্ভোগের মুখে পড়তে হবে, তা তারা কল্পনাও করেননি। সকাল থেকে টানা বৃষ্টির পর পুরো পুরাতন ভবনের নিচতলা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে রোগীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। তারা দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান। হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ভারী বৃষ্টি হলেই হাসপাতালে এ ধরনের জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। মূলত হাসপাতালের বাইরের পানি নিষ্কাশন লাইন এবং পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে পানি দ্রুত নামতে পারে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে। এদিকে ফরিদপুর আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববার সকাল থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত সাত দিনে মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ২৯৬ মিলিমিটার, যা চলতি মৌসুমে জেলার অন্যতম সর্বোচ্চ।

টানা বর্ষণে শহরের প্রধান সড়ক, বাজার ও আবাসিক এলাকার নিচু স্থানে পানি জমে রয়েছে। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেক এলাকায় রিকশাসহ ছোট যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষের আয়-রোজগারও কমে গেছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় আমন ধানের বীজতলা ও শাকসবজির খেতে পানি জমে কৃষকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ সময় জমিতে পানি আটকে থাকলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

ফরিদপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামাদুল হক বলেন, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী ১৮ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে মাঝেমধ্যে ভারী বর্ষণের পাশাপাশি দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। জলাবদ্ধ এলাকায় অপ্রয়োজনে চলাচল না করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই ফরিদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বিশেষ করে হাসপাতাল এলাকায় বছরের পর বছর একই সমস্যা থাকলেও কার্যকর কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। জেলার সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতালে এমন পরিস্থিতি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করছে বলে তারা অভিযোগ করেন। দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত