ঢাকা শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সফরে ‘আচরণবিধি লঙ্ঘন করবেন না’ তারেক রহমান

সফরে ‘আচরণবিধি লঙ্ঘন করবেন না’ তারেক রহমান

নির্বাচনি প্রচার শুরুর আগে চার দিনের সফরে দেশের উত্তরাঞ্চলে যাচ্ছেন তারেক রহমান। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এই সফর সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত, ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক সাক্ষাৎভিত্তিক সফর। সফরসূচি অনুযায়ী, ১১ জানুয়ারি রোববার সকালে তারেক রহমান ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করবেন, ফিরবেন ১৪ জানুয়ারি। তারেক রহমানের চার দিনের উত্তরবঙ্গ সফর ঘিরে সম্ভাব্য ভিড় বা নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে কি না, এমন প্রশ্ন করেন সাংবাদিক। জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ সফরকে তাঁরা ভিন্নভাবে দেখেন। সফরে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ নেই। কারণ, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জানানো জাতীয় দায়িত্ব। দীর্ঘদিন ধরেই তারেক রহমান সেখানে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা সম্ভব হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘শহিদদের কবর জিয়ারত করা, পুষ্পমাল্য অর্পণ করা, এটা জাতির প্রত্যাশা। এই সফরকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রশ্নবিদ্ধ না করার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ করব।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের আমরা ধারণ করি। তাঁদের আত্মত্যাগকে আরও মহিমান্বিত করা উচিত। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা হিসেবে তারেক রহমান শহিদদের কবর জিয়ারত করলে সেটা জাতির প্রত্যাশাকেই ধারণ করবে।’

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন কিংবা জোটগত সমঝোতার বাইরে অবস্থান নিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে দল এরইমধ্যে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। পাশাপাশি যারা ক্ষোভ বা হতাশার কারণে বিদ্রোহী অবস্থানে গেছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একটা বড় রাজনৈতিক দলে বিভিন্ন পর্যায়ে অনেক প্রত্যাশা থাকে। আসন সমঝোতা, জোটগত হিসাব-নিকাশ ও বহুদলীয় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে গিয়ে তাদের বহু যোগ্য প্রার্থী বঞ্চিত হয়েছেন। সেখান থেকেই কিছু মনঃকষ্ট তৈরি হয়েছে। তাই তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিদ্রোহী বা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারা কিছু ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে তাদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করছেন। আশা করছেন, বিষয়গুলোর মীমাংসা হবে।

আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তার মনে হয়, এখন সব রাজনৈতিক দল এক জায়গায় উপনীত হয়েছে। তারা সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যাপারে আন্তরিক। যাদের অভিযোগ আছে, তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে জানাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ও সরকার মিলে তা সমাধানের চেষ্টা করবে বলে তারা আশা করেন।

তারেক রহমান রংপুর সফরে শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রংপুর সফরে যাচ্ছেন আগামী সোমবার এদিন বেলা ২টায় রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর জাফরপাড়ায় শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর সড়কপথে দিনাজপুর যাবেন। তারেক রহমানের সফর-সংক্রান্ত পরিচালক (সমন্বয়) ক্যাপ্টেন (অবসরপ্রাপ্ত) গণিউল আজম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর সফল করার লক্ষ্যে গত বুধবার রংপুর চেম্বার ভবনে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু এ সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সফরকে ঐতিহাসিকভাবে পালন করতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, ‘প্রিয় নেতাকে বরণ করার জন্য আমরা মুখিয়ে আছি।’

গণিউল আজম জানান, চার দিনের কর্মসূচিতে ১১ জানুয়ারি ঢাকা থেকে সড়কপথে টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ হয়ে বগুড়ায় রাত যাপন করবেন তারেক রহমান। পরদিন বগুড়া থেকে রংপুরের পীরগঞ্জ হয়ে দিনাজপুর যাবেন। তিন সেখান থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে রাত যাপন করবেন। ১৩ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও থেকে পঞ্চগড়, নীলফামারী ও লালমনিরহাট সফর করবেন। সেখান থেকে ফিরে রংপুরে রাতযাপন করবেন। পরদিন ১৪ জানুয়ারি রংপুর থেকে বগুড়া হয়ে ঢাকায় ফিরবেন তারেক রহমান।

এই সফরে তিনি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, শহিদ আবু সাঈদ ও তৈয়বা মজুমদারসহ নিহত জুলাই যোদ্ধা এবং দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহিদদের কবর জিয়ারতের পাশাপাশি দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। এছাড়াও তিনি আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী সামছুজ্জামান সামু বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বরণের সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে। তবে নির্বাচনি আচরণবিধি যেন লঙ্ঘন না হয় সে বিষয়ে সজাগ থেকে বড় কোনো আয়োজন করা হচ্ছে না। সফরকালে তারেক রহমান জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফরের খবরে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। প্রিয় নেতার আগমনের অপেক্ষায় উন্মুখ হয়ে আছেন তারা।

তারেক রহমান কুড়িগ্রামে যাবেন ১৩ জানুয়ারি : চার দিনের উত্তরবঙ্গ সফর কর্মসূচিতে আগামী ১৩ জানুয়ারি রাতে তারেক রহমান কুড়িগ্রাম পৌঁছাবেন। তার সফরসূচির রুট ম্যাপে কুড়িগ্রাম সফরের বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিএনপি সূত্র জানায়, তারেক রহমান তার সফরকালে আগামী ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় লালমনিরহাট পৌঁছাবেন। ওই দিন রাতে লালমনিরহাট থেকে জেলার বড়বাড়ী হয়ে তার কুড়িগ্রাম সদরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। কুড়িগ্রাম থেকে তিনি ওই রাতেই রংপুর ফিরে যাবেন। এদিকে, তারেক রহমানের কুড়িগ্রাম সফর উপলক্ষে সম্ভাব্য ভেন্যু নির্ধারণে আজ ৯ জানুয়ারি জরুরি যৌথ সভা ডেকেছে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপি। ওই সভায় তারেক রহমানের জন্য সম্ভাব্য ভেন্যু নির্ধারণ করা হবে।

জেলা বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠকে পছন্দের তালিকায় রাখা হয়েছে। ওই মাঠে তারেক রহমানের জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করা হবে। আর উপস্থিত লোকজনের জন্য মঞ্চের সামনে চেয়ার দেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, নির্বাচনি আচরণবিধির বাধ্যবাধকতার বিষয় থাকায় কোনো জনসভা বা মিটিং আয়োজন করা হচ্ছে না। দলীয় কোনও ব্যানার-ফেস্টুনও থাকবে না। তারেক রহমান জেলার জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর মঞ্চস্থলে দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে কর্মসূচি শেষ করবেন।

কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান কুড়িগ্রাম আসবেন। এটা কুড়িগ্রামবাসীর জন্য আনন্দের সংবাদ। তবে তার এই সফর রাজনৈতিক নয়। তিনি জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং দোয়ায় অংশ নেবেন। তবে এখনও ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়নি। আজ (৯ জানুয়ারি) জেলায় যৌথসভা ডাকা হয়েছে। সভায় ভেন্যুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

২৩ বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন তারেক রহমান : দীর্ঘ ২৩ বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান। প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখার জন্য জেলার সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। তার আগমন ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মী-সমর্থকসহ ঠাকুরগাঁওবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উদ্দীপনা। বিগত বছরগুলোতে জেলায় বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রামগুলোতে তিনি লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েছেন।

জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ঠাকুরগাঁওয়ে নিহত রায়হানুল হাসান, আল মামুন, সাহান পারভেজ ও রাকিবুল হাসানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং দলের সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে অংশ নিতেই ঠাকুরগাঁও আসছেন তিনি।

জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সোমবার রাতেই তারেক রহমান ঠাকুরগাঁও পৌঁছাবেন এবং শহরের ব্যুরো বাংলাদেশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের গেস্ট হাউসে থাকবেন।

পরদিন মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তিনি আল মামুনের কবর জিয়ারত করবেন। আন্দোলনে নিহত আরও তিনজনের কবর জিয়ারতের কথা থাকলেও সেগুলো ভিন্ন ভিন্ন স্থানে হওয়ায়, সময় ও কর্মসূচির সীমাবদ্ধতার কারণে শুধু আল মামুনের কবরেই শ্রদ্ধা জানানো হবে বলে জানিয়েছে জেলা বিএনপি।

এরপর বেলা ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে খালেদা জিয়ার স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। সেখানে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন। কর্মসূচি শেষ করে একই দিন তিনি পার্শ্ববর্তী জেলা পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন বলেন, ‘আগামী ১২ জানুয়ারি সড়কপথে তারেক রহমান ঠাকুরগাঁও আসবেন। তাই তার এখানে পৌঁছানোর নির্দিষ্ট সময় এখনই বলা যাচ্ছে না। এর আগে সর্বশেষ ২০০৩ সালের শীতকালে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে কম্বল বিতরণ কর্মসূচিতে এসেছিলেন।’

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, ‘দীর্ঘ ২৩ বছর পর আবার তারেক রহমানের আগমন নেতাকর্মীদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। এ উপলক্ষে আমরা একাধিক প্রস্তুতি সভা করেছি। প্রশাসনকে নিরাপত্তার বিষয়ে অবহিত করেছি। নির্বাচনি আচরণবিধির কারণে বড় জনসভার সুযোগ না থাকলেও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে আমরা কর্মসূচিটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত।’

জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর করিম বলেন, ‘দেশ ও জাতি এই ক্রান্তিলগ্নে তারেক রহমানের মধ্যেই শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দর্শন এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার দৃঢ়চেতা আপসহীন সুযোগ্য নেতৃত্বের গুণাবলি খুঁজে পাবে। আমরা তার দীর্ঘায়ু কামনা করি।’ সাম্প্রতিক সময়ে ভার্চুয়ালি তারেক রহমান জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছেন একাধিকবার। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তিনি বিএনপি ঠাকুরগাঁও জেলার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন বলেন, ‘তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত