ঢাকা শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

হামলায় অকেজো হয়ে পিছু হটল মার্কিন রণতরী

হামলায় অকেজো হয়ে পিছু হটল মার্কিন রণতরী

ইরান ও লেবাননে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পাল্টাহামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে ইরান। গত ২৪ ঘণ্টায় বেশ কিছু বড় সাফল্য পেয়েছে তেহরান। ওমান সাগরে ইরানের হামলায় অকেজো হয়ে পিছু হটেছে মার্কিন রণতরী। বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরে আবার বিধ্বংসী হামলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে কোণঠাসা করতে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি। আহত মোজতবা ভালো আছেন বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন অবকাঠামোগুলোতে ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। এদিকে, ইরাকি যোদ্ধাদের হামলায় ভূপাতিত হয়েছে মার্কিন কেসি-১৩৫ এয়ারক্রাফট। ইরান হামলা চালিয়েছে আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ওমান ও তুরস্কের মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে। ওমানে দুই প্রবাসী নিহত হয়েছেন। ইরানের পাশাপাশি হিজবুল্লাহও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলে; এতে অন্তত ৫৮ জন আহত হয়েছেন।

মার্কিন পঞ্চম নৌবহরে বিধ্বংসী হামলা : বাহরাইনের মিনা সালমানে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর ঘাঁটিতে বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির নতুন নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মুজতবা খামেনি তার প্রথম বার্তায় ইরানের ‘দৃঢ় এবং অনুশোচনা-উদ্রেককারী’ প্রতিরক্ষা প্রচেষ্টার ওপর জোর দেওয়ার পরপরই এই হামলা চালায় ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি। বাহিনীর জনসংযোগ শাখা জানিয়েছে, এই হামলা বৃহস্পতিবার চালানো হয় এবং দুই দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ওই ঘাঁটিতে আঘাত হানে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ড্রোন বিধ্বংধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ এলাকা, সহায়ক সরঞ্জাম এবং জ্বালানি ট্যাঙ্কসহ ঘাঁটির প্রধান এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে নিখুঁতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়েছে। আইআরজিসি জানায়, এই হামলা সরাসরি আঘাত হেনেছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে। এই হামলাকে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ফোর’-এর ৪২তম ওয়েভ হিসেবে ঘোষণা করা হয়, যার কোড নাম ছিল ‘লাব্বাইক খামেনি’।

পবিত্র রমজানে শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা এই হামলায় ইমাদ, কদর, খেইবার শেকান এবং ফাত্তাহ-সহ বেশ কিছু ভারী ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী ড্রোন ইসরায়েল ও অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোড়া হয়।

হামলায় অকেজো হয়ে পিছু হটল মার্কিন রণতরী : মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরে আঘাতের পর আইআরজিসি-র নৌবাহিনী মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন-কে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর ফলে রণতরীটি অকেজো হয়ে পড়েছে এবং আঞ্চলিক জলসীমা থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। ইরানের ‘সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স অফ দ্য হোলি প্রফেট’-এর বিবৃতি অনুযায়ী, ওমান সাগরে ইরানের সামুদ্রিক সীমান্ত থেকে প্রায় ৩৪০ কিলোমিটার দূরে এই নিখুঁত অভিযানটি চালানো হয়। অভিযানে উন্নত মানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার পর দেখা গেছে যে, আব্রাহাম লিঙ্কন এবং এর সঙ্গে থাকা স্ট্রাইক গ্রুপটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে, মার্কিন নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, লোহিত সাগরে অবস্থানরত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড-এ আগুন লেগেছে। এক্স-এ মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রণতরীটি এখনও সম্পূর্ণ কার্যকর রয়েছে, যদিও দুইজন নাবিক সামান্য আহত হয়েছেন।

হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা হবে- মোজতবা খামেনি : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির দৃঢ় বার্তার পর হামলার গতি আরও তীব্র করেছে ইরান। নির্বাচিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার প্রথম টেলিভিশন ভাষণে তিনি গণহত্যাকারী ইসরায়েল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান লড়াই চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেব’। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা দেশটির সামরিক বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দেশ যখন আক্রমণের শিকার হয়েছে, তখন এই বাহিনীই ইরানকে পরাধীন হওয়া বা বিভক্ত হওয়া থেকে রক্ষা করেছে। তিনি বলেন, ‘আমি সেই সাহসী যোদ্ধাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, আমাদের দেশ যখন চাপের মুখে এবং আক্রমণের শিকার, তখন তারা দুর্দান্ত কাজ করছেন।’ জ্বালানির বাজার নিয়েও মন্তব্য করেছেন তিনি। সর্বোচ্চ নেতা বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে। টেলিভিশন ভাষণে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে মোজতবা খামেনি বলেন, ইরানের শত্রুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা অব্যাহত থাকবে। তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিয়ে বলেছেন, ইরান প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বে বিশ্বাসী, কিন্তু মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা অব্যাহত রাখবে। তিনি জানান, তারা কেবল মার্কিন ঘাঁটিগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করছে, যা তারা অব্যাহত রাখবেন। সর্বোচ্চ নেতা বলেন, এই অঞ্চলের সব মার্কিন ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় সেগুলোতে হামলা চালানো হবে।

মার্কিন অবকাঠামোতে ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত : ইরানের সেনাবাহিনী তাদের অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে ‘বাঙ্কার-বাস্টার’ ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহারের কথা জানিয়েছে। সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার বলেছে, তারা ইসরায়েলের বিমানঘাঁটি এবং গোয়েন্দা সদর দপ্তরসহ প্রধান স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পালমাহিম এবং ওভদা বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তেল আবিবের কাছে অবস্থিত পালমাহিম ঘাঁটিটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ সুবিধা এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সাইটের জন্য পরিচিত এবং এখানে ডেভিডস স্লিং ও হার্মিস নাইন হানড্রেড ড্রোনের মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে ওভদা বিমানঘাঁটি ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর একটি প্রধান প্রশিক্ষণ ও অপারেশন ঘাঁটি এবং এখানে মার্কিন তৈরি এফ-টোয়েন্টি-টু যুদ্ধবিমানও থাকে। এছাড়াও, সেনাবাহিনী ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত-এর সদর দপ্তরে হামলার খবর দিয়েছে। যদিও ইসরায়েল ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ নিশ্চিত করেনি, তবে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, চলমান যুদ্ধে অন্তত ২ হাজার ৭৪৫ জন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী আহত হয়েছেন। এদিকে, লেবাননের প্রতিরোধ সংগঠন হিজবুল্লাহ কায়সারিয়া এবং মালত টারশিহা অঞ্চলে ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর দিয়েছে।

মার্কিন কেসি-১৩৫ এয়ারক্রাফট ভূপাতিত : ইরাকের প্রতিরোধ যোদ্ধারা মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি কেসি-ওয়ান-থার্টি-ফাইভ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার ভূপাতিত করেছেন। ইরান ও আঞ্চলিক প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে একে মার্কিন আগ্রাসন ও দাম্ভিকতার বিরুদ্ধে একটি মোক্ষম জবাব হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ইরানের ‘সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স অফ দ্য হোলি প্রফেট’-এর মুখপাত্র বৃহস্পতিবার রাতে জানিয়েছেন, পশ্চিম ইরাকে প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন সামরিক জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিধ্বস্ত হওয়ার সময় বিমানটিতে ৬ জন ক্রু সদস্য ছিলেন এবং তারা সবাই নিহত হয়েছেন। আইআরজিসি-র জনসংযোগ বিভাগ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, ‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বোয়িং কেসি-ওয়ান-থার্টি-ফাইভ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার-কে সফলভাবে আঘাত করেছে। বিমানটি তখন একটি আক্রমণকারী যুদ্ধবিমানকে মাঝ আকাশে জ্বালানি সরবরাহ করছিল। বিবৃতিতে বলা হয়, সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের দায়ে ন্যায়সঙ্গত প্রতিশোধের আগুনে পুড়ে বিমানটি আকাশ থেকে আছড়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম ইরাকে তাদের একটি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, এই ঘটন কোনো শত্রুভাবাপন্ন বা বন্ধুত্বপূর্ণ পক্ষের হামলার কারণে ঘটেনি। সেন্ট্রাম কমান্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড একটি কেসি-ওয়ান-থার্টি-ফাইভ রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট হারানোর বিষয়ে অবগত। ঘটনাটি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন একটি মিত্র দেশের আকাশসীমায় ঘটেছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সেন্টকম জানায়, এই ঘটনায় দুটি বিমান জড়িত ছিল- যার মধ্যে একটি বিধ্বস্ত হয় এবং অন্যটি ইসরায়েলে নিরাপদ অবতরণ করে।

হিজবুল্লাহর হামলায় ৫৮ জন আহত : ইসরায়েলের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থাপনায় বৃহস্পতিবার আঘাত হেনেছে প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ। উত্তরাঞ্চলে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত কয়েক ডজন মানুষ আহত এবং বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। তাদের ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগ বলেছে, উত্তরাঞ্চলীয় শহর জারজিরের একটি ‘স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত’ হানলে তারা সেখানে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। এতে বেশ কিছু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা ‘মাগেন ডেভিড অ্যাডম’ জানিয়েছে, তাদের প্যারামেডিকরা মোট ৫৮ জনকে চিকিৎসা দিয়েছেন। ইসরায়েলের ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগ প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলায় একটি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রাস্তায় দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাড়ি ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলে সাইরেন বাজার পর তারা ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে। এরপরই এ ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, ইরান আবারও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে। একই সময় দক্ষিণ লেবানন থেকে হিজবুল্লাহও ইসরায়েলে হামলা চালাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তারা।

দুবাই, রিয়াদ, ওমান, তুরস্কে হামলা : সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরের কেন্দ্রীয় অংশে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। শুক্রবার বিস্ফোরণের পর বেশ কিছু ভবন কেঁপে ওঠে এবং আকাশে ঘন ধোঁয়া দেখা যায়। বার্তা সংস্থা এএফপির একজন প্রতিবেদক বলেছেন, তিনি একটি বিশাল জোড়া বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন, যার ফলে আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। দুবাই মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ধ্বংসাবশেষের কারণে একটি ভবনের বাইরের অংশে ‘সামান্য ক্ষয়ক্ষতি’ ঘটেছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলেও নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ জায়েদ রোড-এর দিক থেকে সাইরেনের শব্দ শোনা যায়। ঘটনার পর এলাকাটি ঘিরে ফেলেছে দুবাই পুলিশ। ভবনটি উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্সিয়াল সেন্টার বা ডিআইএফসি এলাকায়। এদিকে, ওমানের সোহান প্রদেশে একটি ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় শুক্রবার দুইজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা। ওমান নিউজ এজেন্সি একটি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, ড্রোনটি আল-আওয়াহি শিল্প এলাকায় আছড়ে পড়ে। এতে দুইজন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সংবাদ সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, নিহত দুই ব্যক্তিই বিদেশি নাগরিক ছিলেন। এছাড়া সোহান প্রদেশে আরও একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শুক্রবার তুরস্কের ইনজারলিক বিমানঘাঁটিতেও সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে। আনাদোলু-র বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর আদানার কাছে অবস্থিত ইনজারলিক বিমানঘাঁটিতে সাইরেন বেজে উঠেছে। ওয়েবসাইট ‘ইকোনোমিম’ জানিয়েছে, ন্যাটোর এই গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিটিতে- যেখানে মার্কিন সেনারা অবস্থান করে, সেখানে ভোর সাড়ে তিনটার দিকে প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে সাইরেন বাজে। এদিন সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের ডিপ্লোমাটিক কোয়ার্টারে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। আরও আটটি ড্রোন ভূপাতিত করার কথা জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

ওমানে ড্রোন বিধ্বস্তে ২ প্রবাসী নিহত : ওমানের সোহার প্রদেশে ড্রোন ভূপাতিত করার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুই প্রবাসী নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে ওমানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ওমান নিউজ এজেন্সি বলছে, শুক্রবার আল-ওয়াহি শিল্প এলাকায় ড্রোনটি বিধ্বস্ত হয়। এ সময় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুই প্রবাসী শ্রমিক নিহত ও দুইজন আহত হন। প্রতিবেদনে বলা হয়, সোহার প্রদেশে আরেকটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ওমান নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, এ দুই ঘটনায় তদন্ত চলমান বলে ওমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

মোজতবা খামেনি আহত তবে ভালো আছেন : নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত হলেও এখন ভালো আছেন বলে জানিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার ইতালির দৈনিক করিয়ের ডেলা সেরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই এ তথ্য জানান। সাক্ষাৎকারে বাকাই চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে কথা বলেন এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো শত্রুতা নেই।’ তবে তার দাবি, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি অবিশ্বাস ও উত্তেজনা তৈরি করছে। বাকাই জানান, তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। একই সঙ্গে তিনি ইউরোপের দেশগুলোর তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

ইরান যুদ্ধে নিজের ভূমিকা স্পষ্ট করলেন এরদোয়ান : তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, ইরান কেন্দ্রিক সহিংসতা যাতে আর বৃদ্ধি না পায় সেজন্য জোরালো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তুরস্ক। বৃহস্পতিবার আঙ্কারায় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে আতাতুর্ক আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার উপহার অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, কূটনীতি ও সংলাপই ন্যায্য ও স্থায়ী শান্তির সবচেয়ে নিরাপদ পথ। প্রেসিডেন্ট নিশ্চিত করেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল-ইরান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় যে চ্যালেঞ্জ এসেছে, তা সত্ত্বেও তুরস্ক ধৈর্য এবং দৃঢ়তার সঙ্গে শান্তির প্রচেষ্টায় অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠানে এরদোয়ান জাতিসংঘের মহাসচিবের তুরস্ক সফর প্রসঙ্গে বলেন, ২০১৭ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মহাসচিব তার কাজ সম্পাদন করেছেন নিরপেক্ষতা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে। প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরটির পর প্রতি সফরই বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

শতাধিক মার্কিন সেনার চিকিৎসা জার্মানিতে : ইরানের হামলায় কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে অন্তত ১০০ জন সেনা আহত হয়েছেন। আলজাজিরা জানিয়েছে, আহতরা সবাই বিভিন্ন পদবির মার্কিন সেনা। প্রতিবেদনে এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, ওই হামলায় আহতদের মধ্যে অন্তত সাতজন ইউএস ন্যাশনাল গার্ড সদস্য চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আহতের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে কবে এবং কুয়েতের কোন ঘাঁটিতে এই হামলা হয়েছে, তা জানানো হয়নি। কিন্তু ওই হামলায় শতাধিক মার্কিন সেনা আহত হন। তাদের তিনটি সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি হাসপাতাল যুক্তরাষ্ট্রে এবং একটি জার্মানিতে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মানিতে চিকিৎসাধীন কয়েকজন সেনার অবস্থা গুরুতর। আহতদের মধ্যে অন্তত একজনের হাত বা পা কেটে ফেলতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ধ্বংসের মুখে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা- ট্রাম্প : ইরানের নৌ ও বিমান বাহিনী, বিশেষ করে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেছেন, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে ইরানের শাসনব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। দেশটির নৌ ও বিমান বাহিনী ধ্বংসের মুখে পড়েছে। তার মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও সামরিক সক্ষমতাও একের পর এক ধ্বংস করা হচ্ছে। গত ৪৭ বছর ধরে ইরানের শাসনব্যবস্থা বিশ্বজুড়ে নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ ট্রাম্পের। তিনি এ সময় ইরানকে সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অতুলনীয় সামরিক শক্তি ও সীমাহীন গোলাবারুদ রয়েছে এবং প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালানো সম্ভব।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত