ঢাকা শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

শান্ত-নাহিদে মুগ্ধ মুশফিক

শান্ত-নাহিদে মুগ্ধ মুশফিক

বাংলাদেশের টেস্ট দলকে একটা পর্যায়ে তুলে নিতে বছরের পর বছর লড়েছেন একজন। এখনও তিনি সবচেয়ে বেশি সময় ও বেশি টেস্টে নেতৃত্ব দেওয়া অধিনায়ক। আরেকজনের নেতৃত্বে এখন টেস্ট ক্রিকেটে চলছে নতুন দিনের গান। সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম কাছ থেকেই দেখছেন, এখনকার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কীভাবে টেস্ট দলকে তুলে নতুন উচ্চতায়। সেই মুগ্ধতার রেশ মেখেই উত্তরসূরীর প্রতি প্রত্যাশার কথা জানিয়ে রাখলেন মুশফিক। এই দুজন শুধু এখনকার সতীর্থ বা দুই সময়ের অধিনায়কই নন, মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানকে হারানোর গৌরবের একটি পাতায় তাদের নাম এখন পাশাপাশি। টেস্টে বাংলাদেশের সফলতম অধিনায়ক তারা দুজন। দুজনের অধিনায়কত্বেই ৭টি করে টেস্ট জিতেছে দল।

তবে দুই সময়ের পার্থক্য স্পষ্ট এই রেকর্ডের আরেকটি সংখ্যায়। মুশফিকের ৭ জয় এসেছে ৩৪ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে। শান্ত তাকে ছুঁয়ে ফেলেছেন ১৭ টেস্টেই। শুধু অধিনায়ক হিসেবেই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতেও ক্যারিয়ারের সেরা সময় কাটাচ্ছেন শান্ত। মিরপুরে শেষ সময়ে প্রায় সবটুকু আলো কেড়ে নিয়েছেন নাহিদ রানা। কিন্তু দুই ইনিংসে দুর্দান্ত ব্যাট করে ম্যাচণ্ডসেরা ছিলেন শান্তই। সবশেষ পাঁচ টেস্টে তার সেঞ্চুরি চারটি। সবশেষ ওয়ানডেতেও করেছেন শতরান। মিরপুরে সেঞ্চুরি করে অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ডে মুশফিককে (৪টি) ছাড়িয়ে সবার ওপরে উঠে গেছেন তিনি।

মুশফিকের মতে, নেতৃত্বের ভারই শান্তকে অনুপ্রাণিত করে নিজেকে আরও বেশি করে মেলে ধরতে। সিলেট টেস্ট শুরুর আগের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান বললেন, নেতৃত্ব আর ব্যাটিংয়ের যুগলবন্দি শান্ত আরও অনেক দিন ধরে রাখবেন বলে আশা তার।

‘ও খুবই ভালো ব্যাটিং করছে। ওর সবচেয়ে বড় প্লাস যেটা আমার মনে হয়, ওর ওপর দায়িত্ব যত বেশি পড়ে, ও সেটাকে আরও অন্যভাবে চ্যালেঞ্জ নেয়, ইতিবাচকভাবে নেয় এবং সেটাকে ডেলিভার করে। অধিনায়ক হিসেবে কেউ যখন এরকম থাকে যে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়, স্বাভাবিকভাবেই সেটা যে কোনো দলের জন্য বড় উদাহরণ তৈরি হয় এবং সবারই সেটা অনুসরণ করার না করে আসলে কোনো উপায় থাকে না।’

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, হি ইজ আ গ্রেট লিডার এবং আশা করব যে, এই ধারাবাহিকতাটা যেন ও আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। শুধু টেস্ট ক্রিকেট নয়, ওয়ানডে ও যে কয়টা ফরম্যাটে খেলছে, সব কটিতেই।’ নিজের সময়ের সঙ্গে এখনকার বাস্তবতার তুলনাও করলেন মুশফিক। ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত টেস্ট দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। তার সময়ে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্মরণীয় জয় ধরা দিলেও হতাশাও কম ছিল না। বিদেশের মাঠে পারফরম্যান্স ছিল বাজে। দেশে-বিদেশে কোথাও ধারাবাহিকতা ততটা ছিল না। ‘আমাদের বোলিং বিভাগের ২০ উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা আগের চাইতে এখন অনেক ভালো। সেটা যেকোনো কন্ডিশনেই। স্পিনাররা তো বরাবরই আমাদের ভালো ছিল। কিন্তু পেস বিভাগ যখন যোগ হয়ে যায়- আমরা যদি ব্যাটসম্যানরা ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে পারি, যেটা কি না গত তিন-চার বছর খুব ভালো হচ্ছে টেস্ট ক্রিকেটে- সেদিক থেকে বলব, এটা একটা আশীর্বাদ এবং অধিনায়কের জন্য বড় একটা স্বস্তির বিষয়।’

এদিকে বাংলাদেশের পেস সেনসেশন নাহিদ রানার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ মুশফিক। গোটা ক্রিকেট বিশ্বের বা ক্রিকেট খেলাটিরই সম্পদ। তবে একটা সময় তিনি ছিলেন রাজশাহীর উঠতি এক ক্রিকেটার। তখনই তার একটি বিশেষ ব্যাপার আলাদা করে চোখে পড়ে মুশফিকুর রহিমের এবং তরুণ একজন ক্রিকেটারের মধ্যে সেই গুণ দেখে চমৎকৃত হন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। এটুকু শুনে অনেকে ভাবতে পারেন গতির কথা। নাহিদ রানার প্রথম নজর কাড়ার ব্যাপার তো গতি দিয়েই। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের দ্রুততম বোলার তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে, বিশেষ করে জাতীয় লিগে গতির রথ ছুটিয়েই দ্রুত উঠে এসেছেন তিনি আজকের পর্যায়ে। তবে মুশফিক অবাক হয়েছিলেন আরেকটি ব্যাপার দেখে।

যখন জাতীয় লিগে রাজশাহীতে তিনি সতীর্থ হিসেবে পেয়েছিলেন নাহিদকে। তরুণ ফাস্ট বোলারের শেখার তীব্র ক্ষুধা মুগ্ধ করেছিল তাকে। ‘ওকে আমি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকেই চিনি। গত দুই বছর সিলেটের হয়ে খেলেছি (জাতীয় লিগে), তবে রাজশাহীর হয়ে যখন সবশেষ খেলেছিলাম, চারটি চার দিনের ম্যাচ খেলেছিলাম, তখনই নাহিদ রানাকে কাছ থেকে দেখা এবং ওর সঙ্গে খেলা। তখন থেকে একটা ব্যাপার খুবই ভালো লেগেছিল। তখনই জানতাম যে ভবিষ্যতে ও জাতীয় দলে অবশ্যই খেলবে। তখন থেকেই ওর শেখার যে আগ্রহ বা নিজেকে উন্নত করার যে ইচ্ছাটা ছিল, এটা সাধারণত তরুণ ক্রিকেটারদের কম থাকে, কিংবা কারও থাকলেও সে হয়তো নিজে থেকে ওটা বলতে চায় না, হয়তো একটু সংকোচ বোধ করে। কিন্তু ওকে দেখেছি, ও কখনও সংকোচ করত না।’

তিনি বলেন, ‘ও আমাকে জিজ্ঞেস করত, বা ওখানে তখন ফরহাদ ভাই (ফারহাদ রেজা) ছিলেন, ফরহাদ হোসেন, জুনায়েদ সিদ্দিক ছিল, অনেক সিনিয়র ক্রিকেটার ছিল, সবসময় জানতে চাইত যে, আরেকটু কী করলে কী হয়, লাইফ স্টাইল কেমন থাকা উচিত। একটা তরুণ ক্রিকেটারের মধ্যে যেটা দেখে আমি সত্যিই অবাক হয়েছিলাম এবং সত্যিই খুব খুশি হয়েছিলাম।’ সেই নাহিদ রানা সময়ের পরিক্রমায় এখন তিন সংস্করণেই তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন। গতি ও বাউন্সের পাশাপাশি তার পরিণত মানসিকতার কথা নিয়মিতই বলে থাকেন কোচণ্ডঅধিনায়কেরা। তাকে চিনতেন বলেই এসব দেখে অবাক হননি মুশফিক।

‘ওর যে অগ্রগতি হয়েছে, এটায় কখনও বিস্মিত হইনি, আগেই ওই সময়ে বুঝতে পেরেছিলাম, ওর এই ইচ্ছাটা আছে। এমনকি এখনও এত ভালো করার পর ও যেভাবে চিন্তা করে, নির্দিষ্ট ব্যাটসম্যানদের নিয়ে যেভাবে ভাবে বা ওর ওয়ার্ক এথিকস, খাওয়া-দাওয়া নিয়ে যেভাবে চিন্তা করে, এটা ভালো আভাস। যেকোনো তরুণ ক্রিকেটার যদি এরকম হয়, তাহলে আসলে দলের আবহও ভিন্ন হয়ে যায়।’ বাংলাদেশের পরের টেস্ট সিরিজ আগামী জুলাইয়ে অস্ট্রেলিয়ায়। নাহিদ রানা তো বটেই, সব ঠিকঠাক থাকলে ২১ বছরের ক্যারিয়ারে প্রথমবার সেখানে টেস্ট খেলবেন মুশফিকও। ৩৯ বছর বয়সী ব্যাটসম্যানের আশা, নাহিদ ও বাংলাদেশের পেস আক্রমণ ঝড় তুলবে অস্ট্রেলিয়ায়। ‘এটা তো অনেক বড় একটা স্বপ্ন, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়া বিপক্ষে টেস্ট খেলা। নাহিদ রানার মতো যদি এরকম একজন স্পিড স্টার থাকে- শুধু ও নয়, আমাদের তাসকিন বলেন, শরিফু, আমাদের যে আট-দশজন মূল পেস বোলারের একটা গ্রুপ আছে, আশা করব তারা সুস্থ থাকবে এবং আশা করি, নিজেদের মেলে ধরবে।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত