
জাতীয় দলের ব্যস্ততা শেষে এবার ঘরোয়া ক্রিকেটের পালা। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশকে দারুণ জয়ে নেতৃত্ব দেওয়া নাজমুল হোসেন শান্ত ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন আবাহনীর হয়ে। এবারের ঢাকা লিগে প্রথম খেলতে নেমেই দুর্দান্ত অপরাজিত সেঞ্চুরিতে তিনি জেতালেন দলকে। ওয়ালটন স্মার্ট ফ্রিজ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটিতে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ৯ উইকেটে হারায় আবাহনী লিমিটেড। গতকাল শনিবার ইউল্যাব ক্রিকেট মাঠে অগ্রণী ব্যাংককে ১৭৯ রানে আটকে রেখে জয়ের ভিত গড়ে দেন আবাহনীর বোলরারা। রান তাড়ায় ৭টি করে ছক্কা ও চারে ৯০ বলে ১০৮ রানে অপরাজিত থাকেন শান্ত। আবাহনী জিতে যায় ১১০ বল বাকি রেখেই।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা অগ্রণী ব্যাংক উদ্বোধনী জুটিতে ৪৬ রান তুললেও এরপর আর উল্লেখযোগ্য কোনো জুটি গড়তে পারেনি। ওপেনিংয়ে মাহফিজুল ইসলাম রবিন করেন ৩১ রান, তিনে নেমে অভিজ্ঞ ইমরুল কায়েস ৩০। ইনিংসের একমাত্র ফিফটি আসে আরেক অভিজ্ঞ নাসির হোসেনের ব্যাট থেকে। ছয়ে নেমে ৫৮ বলে ৫৬ রান করেন তিনি। অগ্রণী ব্যাংকের শেষ পাঁচ ব্যাটসম্যান মিলে করেন ১৮ রান। আবাহনীর পাঁচ বোলার দুটি করে উইকেট নেন—রোহানাত দৌলা বর্ষন, রকিবুল হাসান, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, মোসাদ্দেক হোসেন ও মাহফুজুর রহমান রাব্বি। রান তাড়ায় আবাহনী তৃতীয় ওভারে হারায় জিসান আলমকে (৬)। প্রথম ৭ ওভারে আবাহনীর রান ছিল ১৮। অষ্টম ওভারে নাসিরের বলে শান্তর ছক্কায় ম্যাচের চিত্র বদলের শুরু। এরপর আর পিছু তাকাতে হয়নি। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন এক পাশ আগলে রাখেন, আরেকপাশে ঝড় তোলেন শান্ত।
৪৯ বলে ফিফটির ফিফটিতে চারটি ছক্কা মারেন শান্ত। সেখান থেকে পরের পঞ্চাশে লাগে তার স্রেফ ৩১ বল। শহিদুল ইসলামের টানা দুই বলে চার ও ছক্কা মেরে ৮০ বলে পৌঁছে যান শতরানে। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তার সেঞ্চুরি হলো এখন ১৬টি। শেষ পর্যন্ত দলের জয় সঙ্গে নিয়েই ফেরেন তিনি। তার সঙ্গী মাহিদুল অপরাজিত থাকেন চার ছক্কায় ৮৬ বলে ৫৬ রান করে। প্রথম দুই ম্যাচ হেরে লিগ শুরু করা আবাহনী টানা পঞ্চম জয়ে জিইয়ে রাখল শিরোপা ধরে রাখার আশা।