ঢাকা রোববার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

অতিরিক্ত সম্পত্তি নামজারি মামলায় দলিল লেখক ও শিক্ষক কারাগারে

অতিরিক্ত সম্পত্তি নামজারি মামলায় দলিল লেখক ও শিক্ষক কারাগারে

নওগাঁর মান্দায় ভুয়া দলিল তৈরি করে প্রাপ্যতার চেয়ে বেশি সম্পত্তি নামজারি (খতিয়ান) করার অভিযোগে আদালতে জামিন নিতে এসে কারাগারে গেলেন দলিল লেখক ও শিক্ষক। গতকাল শনিবার দুপুর ১টার দিকে তারা নওগাঁ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও আমলি আদালত-২ এর বিচারক মো. সালমান আহমেদ শুভ এর আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করেন। বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশন দেন।

মামলা নং জিআর-১২৮/২৬ (মান্দা)। উপজেলার দ্বারিয়াপুর (বুড়িদহ) গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেন মন্ডলের ছেলে ভুক্তভোগী অ্যাডভোকেট মাহ্ফুজুর রহমান বাদী হয়ে দলিল লেখক সুরজিৎসহ সাতজনের নামে মামলা করেন।

আটকরা হলেন- মামলার ১ নম্বর আসামি ও মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সুরজিৎ কুমার দাস (সনদ নম্বর ১৫৯) এবং মামলার ৪ নম্বর আসামি ও নুরুল্লাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সঞ্জয় কুমার দাস। তাদের বাড়ি মান্দা উপজেলার শামুকখোল গ্রামে।

নওগাঁ কোর্ট ইন্সপেক্টর আনিছুর রহমান দুই আসামি কারাগারে প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলা সূত্রে জানা যায়- গত ২০২৫ সালের ২৬ মে ভুক্তভোগী অ্যাডভোকেট মাহ্ফুজুর রহমান অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে মান্দা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন ৯০২/১৩-১৪ নং খারিজ কেসের আলোকে সুরজিৎ কুমার দাস ও তার ভাই সুশান্ত কুমার দাস এবং সুভাষ চন্দ্র দাসের নামে প্রস্তাবিত ৩৪৫ নং খতিয়ান চালু করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ওই খতিয়ান সংগ্রহ করে জানতে পারেন ১৯/০১/৮৫ তারিখে ৭৫৪ নম্বর দলিল, ১৬/৯/৮১ তারিখে ৯৫৩৭ নম্বর দলিল, ৪/৫/৮৩ তারিখে ৫৭১৩ নম্বর দলিল, ৭/১০/১২ তারিখে ৭৯২৬ নম্বর দলিল এবং ৯/১১/৮৬ তারিখে ১২০১৭ নম্বর দলিলসহ আরও দলিল ধারাবাহিক হিসেবে প্রস্তাবিত ৩৪৫ নম্বর খতিয়ানে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী প্রতিকারের আশায় প্রসাদপুর-কাঁশোপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ৯০২/১৩-১৪ নং নামজারি কেস আংশিক বাতিলের জন্য আবেদন করেন। পরে ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা নামজারি আংশিক সংশোধনের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) তে প্রতিবেদন প্রেরণ করেন।

ভুক্তভোগী গত ১২/৪/২০২৬ তারিখে প্রসাদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ৭৫৪/৮৫ নম্বর দলিলের দাতা দ্বিজেন্দ্র নাথ এবং ৯৫৩৭/৮১ নম্বর দলিলের দাতা অঙ্গী মন্ডল। দলিলের সম্পত্তির তপশীল ও ভিন্ন। ওই দলিল দুটি ভুয়া। অভিুযুক্ত সঞ্জয় কুমার ও সুব্রত কুমার যোগসাজস করে দাতা সাজিয়ে ৭/১০/১২ তারিখে ৭৯২৬/১২ নম্বর দলিল, ৪/৫/৮৩ তারিখে ৫৭১৩ নম্বর দলিল রহিমা বিবিকে ১৬ আনা অংশের মালিক দেখানো হয়েছে। ১২০১৭/৮৬ নম্বর দলিল রহিমা বিবিকে একক দাতা দেখিয়ে অভিযুক্ত সুরজিতের বাবা ফটিক চন্দ্র দাস ওরফে কিংকরী দাসের নামে জাল-জালিয়াতি করে তৈরি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত