ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

আর জায়গা হারাতে চান না মোসাদ্দেক

আর জায়গা হারাতে চান না মোসাদ্দেক

সর্বশেষ ২০২২ সালের আগস্টে জিম্বাবুয়ে সিরিজে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। প্রায় ৪ বছর পর আবারও জাতীয় দলে ফিরেছেন এই অলরাউন্ডার। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচের জন্য ৩০ বছর বয়সী অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেনকে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দল ঘোষণার পর গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম মাঠে আসেন তিনি আবাহনীর অনুশীলনে। স্বভাবতই তাকে ঘিরে সবার মধ্যে ছিল বাড়তি আগ্রহ। সতীর্থরা বেশ মজা করলেন তার সঙ্গে, খুনসুটি চলল। লম্বা সময় পর জাতীয় দলে ডাক পাওয়ায় তার অনুভূতি জানার অপেক্ষায় ছিলেন সংবাদকর্মীরা। তাদের সেই আগ্রহ মিটিয়ে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডারের প্রত্যয়ী উচ্চারণ, ক্যারিয়ারের শেষদিন পর্যন্ত খেলে যেতে চান জাতীয় দলের জার্সিতে। এই ফেরাটা হতে পারত আরও আগেই। ২০২২ সালে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর ঢাকা লিগে পারফর্ম করে বেশ কয়েকবার ফেরার দাবি জানান তিনি। কিন্তু নানা কারণে দলে জায়গা হয়নি তার। অবশেষে ভাগ্যের শিকে ছিড়েছে তার। জায়গা পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের স্কোয়াডে। লম্বা বিরতিতে ডাক পাওয়া মোসাদ্দেকের চাওয়া এখন আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার লম্বা করা। ‘ভালো করার পরেই এই সুযোগটা এসেছে। আমি অবশ্যই চাইব যতদিন আমার ক্যারিয়ার থাকবে, ততদিন পর্যন্ত যেন আমি জাতীয় দলের জন্যই খেলতে পারি।’ সাড়ে তিন বছরের সেই বিরতির সময়টাতেও তিনি আশা ছাড়েননি বিশ্বকাপ খেলার। এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, খেলতে চান ২০২৭ বিশ্বকাপ। দলের ফেরার পর মোসাদ্দেক এখন পাখির চোখ করেছেন আগামী বছরের বিশ্বকাপকে। ‘সেটা যদি আমার অর্জন করতে হয়, তার আগের যে সিরিজগুলো আছে সেখানে আমার সুযোগ এলে আমাকে ভালো খেলতে হবে, এটা প্রথম। যখন আমি ভালো খেলতে পারব, ওই সময় আমি আশা করতে পারি, ২০২৭ বিশ্বকাপে আমার জন্য একটা সুবর্ণ সুযোগ অপেক্ষা করছে।’ গত বিশ্বকাপে দলে না থাকলেও তিনি ছিলেন ২০১৯ বিশ্বকাপে। দল যেমন ব্যর্থ ছিল, তিনিও পারেননি প্রত্যাশা মেটাতে। ৭ ম্যাচে ১৯.৫ গড়ে করেন ১১৭ রান, বল হাতে ৭১.৬৬ গড়ে শিকার ছিল ৩ উইকেট।

বিশ্বকাপের মতোই মলিন তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ছবিটাও। ৪৩ ওয়ানডেতে ২৫.৩৬ গড়ে তিন ফিফটিতে ৬৩৪ রান করেছেন, ৫৭ গড়ে নিয়েছেন ১৭ উইকেট। তবে অলরাউন্ড সামর্থ্যের কারণে ২০১৬ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত জাতীয় দলে মোটামুটি নিয়মিত ছিলেন মোসাদ্দেক। ২০১৯ শ্রীলঙ্কা সফরের পর বাদ পড়ে জাতীয় দলে ফেরেন ২০২১ সালে। পরে আরও এক দফায় বাদ পড়ে ফেরেন ২০২২ সালে। সাড়ে তিন বছর বাইরে থাকা মোসাদ্দেক অপেক্ষায় ছিলেন সুযোগের। তার ধারণা, দলের প্রয়োজনেই এখন তার কথা মনে পড়েছে নির্বাচকদের। ‘অনেকদিন পর, সব মিলিয়ে প্রায় ৪ বছর। অনেকদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে এবং যেখানেই খেলেছি, ভালো খেলতে হয়েছে। তারপর এই সুযোগের জন্য অপেক্ষা করা এবং অবশেষে সুযোগটা আসা। টিম কম্বিনেশনের একটা ব্যাপার থাকে, প্রতিপক্ষের ব্যাপার থাকে। সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয়, নির্বাচকদের এখন মনে হয়েছে এটা সঠিক সময়, তারা এখন আমাকে দলে নিতে পারে, তাই নিয়েছে।’

বাংলাদেশের হয়ে তার ওয়ানডে পারফরম্যান্স গড়পড়তা হলেও উল্টো চিত্র ছিল ঢাকা লিগে। সবশেষ জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর থেকে এই মৌসুমের আগ পর্যন্ত তিন মৌসুমে ছিলেন ধারাবাহিক পারফরমার। এ সময়ে ব্যাট হাতে ১২৭৮ রান করার পাশাপাশি শিকার করেন ৫৮ উইকেট। এমন পারফরম্যান্সের পরও জাতীয় দলে ডাক না পাননি। হতাশ হয়েছে, তবে মুষড়ে পড়েননি। আরও ভালো পারফর্ম করতে উঠেপড়ে লেগেছে। যেটির প্রমাণ চলমান আসরে ৮ ম্যাচে ৭৭.৫০ গড় ও ১২৯.১৬ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ৩১০ রান। বল হাতে ৮ ম্যাচে নিয়েছেন ১২ উইকেট। ওভারপ্রতি খরচ করেছেন ৩.৭৪ রান। ‘আমাদের স্ট্রাকচার অনুযায়ী, ঘরোয়া ক্রিকেটই একমাত্র পথ, যেখানে ভালো খেললে নির্বাচকদের নজরে আসা যায়। এটা ছাড়া আমাদের অন্য কোনো পথ নেই। সেখানে যখন খেলছিলাম, চেষ্টা করছিলাম যত ধারাবাহিক খেলা যায় এবং যত সময় ধরে ধারাবাহিক থাকা যায়।’

লম্বা সময় পর ফেরা আর ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত পারফরম্যান্স মোসাদ্দেকের উপর বাড়িয়ে দেবে প্রত্যাশার চাপ। পারফরম্যান্স দিয়েই তিনি নির্বাচকদের রাখা আস্থার প্রতিদান দিতে চান। ‘শেষ পর্যন্ত এখন যখন সুযোগ আসছে, আমি অবশ্যই চেষ্টা করব নির্বাচক থেকে শুরু করে সারা বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে করে আমার উপর আস্থা রেখেছে সেটার প্রতিদান দেওয়ার।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত