অনলাইন সংস্করণ
১৬:১২, ০৫ জানুয়ারি, ২০২৬
ইরান, লেবানন ও ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের সঙ্গে একযোগে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফকে নির্দেশ দিয়েছে তেল আবিব। ইসরায়েলের সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
চ্যানেল ১২ সোমবার এক প্রতিবেদনে জানায়, আইডিএফের চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়া’য়াল জামির সেনাবাহিনী নিয়ে চার বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই যুদ্ধপ্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে স্যাটেলাইটে হামলা এবং মহাকাশ থেকে ভূপৃষ্ঠের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার মতো বিষয়গুলোও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
চ্যানেল ১২ জানায়, তিন দেশ ও ভূখণ্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ইরানকে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, অতিমাত্রায় মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইরানে যে বিক্ষোভ চলছে, সেখান থেকে সাধারণ জনগণের মনোযোগ সরাতে ইসরায়েলে হামলা চালাতে পারে তেহরান।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সামরিক প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ইরানে চলমান বিক্ষোভ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে ইসরায়েল সরকার। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের বিক্ষোভকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। একই সঙ্গে মোসাদ দাবি করেছে, ইরানে বিক্ষোভ সংগঠিত করতে তাদের ভূমিকা ছিল।
গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ সামাল দিতে গিয়ে ইরানের ইসলামি সরকার ব্যাপক চাপে রয়েছে। এ সময় বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সরকারের পতন ও রাজতন্ত্র পুনর্বহালের দাবিও তুলেছেন।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রাজতন্ত্রের পতন ঘটে এবং ইসলামপন্থি সরকার ক্ষমতায় আসে।
এদিকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানকে হুমকি দিয়েছেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরান সরকার যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান চালাবে।
তিনি দাবি করেন, এ জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। সূত্র: আরটি