ঢাকা সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

কেন্দুয়ায় শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি

বিপাকে কৃষকরা
কেন্দুয়ায় শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বছরের প্রধান ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছেন কৃষকরা।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হওয়া ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বোরো ধান। পাশাপাশি মৌসুমী শাকসবজি, গাছপালা ও কিছু বসতঘরও ক্ষতির মুখে পড়ে। উপজেলার আশুজিয়া, নওপাড়া, বলাইশিমুল, দলপা ও কান্দিউড়া ইউনিয়নে ক্ষতির পরিমাণ বেশি বলে জানা গেছে। ধান গাছে থোর বের হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শিলাবৃষ্টি হওয়ায় ফলনের সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গত বুধবার থেকে গত শনিবার পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে সরেজমিনে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক কৃষকের পুরো ফসলই নষ্ট হয়ে গেছে। আশুজিয়া ইউনিয়নের চান্দপাড়া গ্রামের কৃষক হারেছ মিয়া জানান, তিনি ৬০ শতাংশ জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন, কিন্তু শিলাবৃষ্টিতে তার সব ধানগাছ নষ্ট হয়ে গেছে। একই গ্রামের কৃষক দিলু হোসেন বলেন, এক একর জমির ধান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষক সবুজ মিয়া বলেন, ঋণ ও ধারদেনা করে ৮০ শতাংশ জমিতে আবাদ করেছিলেন, কিন্তু এখন সেই জমি থেকে ধান ঘরে তোলার কোনো আশা নেই।

এমন পরিস্থিতিতে এলাকার অধিকাংশ কৃষকই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা। দলপা ইউনিয়নের ইটাউতা গ্রামের কৃষক আবুল বাসার তালুকদার বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত সরকারি সহায়তা না দিলে কৃষকরা মারাত্মক সংকটে পড়বেন। এদিকে, চান্দপাড়া এলাকায় রহিম উদ্দিনসহ কয়েকজনের বসতঘরও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উজ্জ্বল সাহা বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, শিলাবৃষ্টিতে প্রায় ৭৫ হেক্টর বোরো জমি ও ৫ হেক্টর শাকসবজির খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি হতে পারে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত