
পাহাড়ে চৈত্রসংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু, বৈসুক, সাংগ্রাই (বৈসাবি) তিন দিনব্যাপী আয়োজন হয়েছে। গতকাল শনিবার রাঙামাটি ম্যারি স্টেডিয়ামে বলিখেলা ঘিলা খেলা জিুলুর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। গতকাল সাপ্তাহিক বাজার দিনে কল্যানপুর বনরুপা সমতাঘাট ও তবলছড়ি বাজার উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
আজ রোববার ফুল বিজু (ফুল ভাসানো), আগামীকাল সোমবার মূল বিজু (চাকমা) বা বৈসুক (ত্রিপুরা) এবং মঙ্গলবার সাংগ্রাই (মারমা) ও নতুন বছরের উৎসবের মাধ্যমে পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব পালিত হয় একদিন পরে ১ বৈশাখ অনুষ্ঠান উদযাপিত হবে।
আজ রোববার ভোরে চাকমা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা নদীর পাড়ে ফুল ভাসিয়ে পুরোনো বছরের দুঃখ-গ্লানি মুছে ফেলার প্রার্থনা করেন এবং ঘরবাড়ি ফুল দিয়ে সাজান।
আগামীকাল সোমবার মূল বিজু বা বৈসুক পালিত হবে। এদিন ঘরে ঘরে বিশেষ রান্না ‘পাজন’ (কয়েক রকমের সবজির মিশ্রণ) পাজন তৈরি করা হয় এবং বড়দের স্নান করিয়ে আশীর্বাদ নেওয়া হয়। এইদিনে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে পার্বত্যবিষয়ক মন্ত্রী বাসভবনে খাবার দাবার পরিবেশন করা হয়। সব সম্প্রদায়ের ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ও সম্প্রদায়ের সম্প্রীতির মাধ্যমে আনন্দ উৎসব করা হয়।
তৃতীয় দিন আগামী মঙ্গলবার মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই বা জলকেলি উৎসবের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। এদিন সবাই একে অন্যের ওপর পানি ছিটিয়ে পবিত্র হওয়ার চেষ্টা করবেন। এছাড়াও, এই উৎসব উপলক্ষে রাঙামাটিতে বর্ণাঢ্য র্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন লোকজ খেলার আয়োজন করা হয়, যা পাহাড়ের প্রথাগত নিয়মে উদযাপিত হয়।