ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

আগাম ভুট্টার ভালো ফলনের সম্ভাবনা

আগাম ভুট্টার ভালো ফলনের সম্ভাবনা

দেশের সর্ব উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও কৃষিনির্ভর এলাকা হওয়ায় এখানে বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি প্রতি বছর ভুট্টার চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় এবার আগাম ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ। এরইমধ্যে আগাম হাইব্রিড জাতের ভুট্টা কাটা ও মাড়াই শুরু করেছেন কৃষক-কৃষাণিরা। বাজারে দাম ভালো থাকায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি বিরাজ করছে।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে রাণীশংকৈল উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। চলতি রবি মৌসুমে আগাম জাতের বিভিন্ন কোম্পানির হাইব্রিড ভুট্টা চাষ হয়েছে ৭ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে। এছাড়া খরিপ মৌসুমে ভুট্টা চাষ হয়েছে ৩ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে।

গত বছর রবি মৌসুমে ৭ হাজার ৫৫০ হেক্টর এবং খরিপ মৌসুমে ২ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছিল। সেই হিসেবে এবছর প্রায় ১৫০ হেক্টর জমিতে বেশি ভুট্টা চাষ হয়েছে বলে কৃষি বিভাগের তথ্যে জানা গেছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রকৃত আবাদ এর চেয়েও বেশি হতে পারে। উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার মধ্যে ধর্মগড় ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ভুট্টা চাষ হয়েছে। এরপর লেহেম্বা ও নন্দুয়ার ইউনিয়নের অবস্থান। স্থানীয় কৃষকরা জানান, ধানের তুলনায় ভুট্টা চাষে খরচ ও পরিশ্রম কম। পাশাপাশি বিক্রি করতেও তেমন ঝামেলা হয় না এবং বাজারমূল্য ভালো পাওয়ায় দিন দিন এই ফসলের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

নন্দুয়ার ইউনিয়নের কৃষক ইউসুব আলী, আরিফ হোসেন, মোকশেদ আলী, রেজাউল করিম এবং কাশিপুর ইউনিয়নের কুদ্দুস আলী ও হারুন হাবিবুর রহমান বলেন, ভুট্টা চাষে খরচ কম, পরিশ্রম কম এবং লাভ বেশি হওয়ায় আমরা এ ফসলের দিকে ঝুঁকছি।

একই ইউনিয়নের কৃষক ইউসুব আলী জানান, আমি এবছর সাড়ে ৬ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। এখন পর্যন্ত দেড় বিঘা জমির ভুট্টা মাড়াই করেছি এতে প্রতি বিঘা জমিতে ভুট্টা পেয়েছি ৮০ মণ এবং প্রতি বস্তা ১ হাজার ৭৭০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। আশা করছি বাকি ভুট্টাও ভালো দামে বিক্রি করতে পারব, ইনশাআল্লাহ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, আমরা নিয়মিত কৃষকদের মাঠ পরিদর্শন করছি এবং যেকোনো সমস্যায় পরামর্শ দিয়ে পাশে থাকছি। এছাড়া সরকারি প্রণোদনার মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভুট্টার ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত