ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

জমির জন্য খুন করা হয় একই পরিবারের চারজনকে, গ্রেপ্তার তিন

জমির জন্য খুন করা হয় একই পরিবারের চারজনকে, গ্রেপ্তার তিন

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের দুই শিশুসহ স্বামী-স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় রহস্য উদ্ঘাটনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা ও হাঁসুয়া উদ্ধার করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে চাচাতো ভাই, ভাগ্নে ও ভগ্নীপতিসহ ছয়জন অংশ নেয়। গতকাল বুধবার দুপুর ২টা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা জানান- নওগাঁ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

গ্রেপ্তাররা হলেন- নিহত হাবিবুর রহমানের বোন হালিমা খাতুনের ছেলে সবুজ রানা এবং আরেক বোন শিরিনা আক্তারের স্বামী শহীদুল ইসলাম ও তার ছেলে শাহিন মন্ডল।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন- গত কয়েক বছর আগে নমির উদ্দিনের স্ত্রী মারা যান। তার এক ছেলে ও পাঁচ মেয়ে। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর বাড়িভিটাসহ ছেলেকে ১৩ বিঘা জমি এবং প্রত্যেক মেয়েকে ১০ কাঠা করে জমি লিখে দেন তিনি। হাবিবুরকে বেশি সম্পত্তি লিখে দেওয়ায় বোন, ভগ্নিপতি ও ভাগনেদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। বেশ কিছু দিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গ্রাম্য সালিস বৈঠকও হয়।

জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের চারজনকে পরিকল্পিতভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে ছয়জন অংশ নেয়। এরমধ্যে নিহত হাবিবুর রহমানের ভাগিনা সবুজ রানা এবং ভগ্নিপতি শহীদুল ইসলাম ও তার ছেলে শাহিন মন্ডল অংশ নেয়।

তিনি বলেন- গত সোমবার হাবিবুর তার ভাগ্নে সবুজকে নিয়ে উপজেলার ছাতড়া হাটে ১ লাখ ৪০ টাকা নিয়ে গরু কিনতে যান। কিন্তু গরু না কিনে বাড়ি ফিরে আসেন। হত্যার দুই দিন আগে গ্রামের মাঠে সবুজ রানা, শহীদুল ইসলাম ও শাহিন মন্ডলসহ কয়েকজন হাবিবুরের পরিবারকে নিমুল করতে হবে এমন কিলিং মিশনের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মতো সোমবার সবুজ রানা রাত ৮টার দিকে হাবিবুরের বাড়িতে গিয়ে সবার সাথে কাঁঠালের তরকারি দিয়ে খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়া যান। পরিকল্পনা মোতাবেক সবার অগোচরে হাবিবুরের বাড়িতে শাহিন প্রবেশ করে একটি ছোট ঘরে লুকিয়ে পড়ে। আর হাবিবুরের পরিবারের সবাই যে যার মতো ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে।

রাত ১১টার দিকে শাহিন বাড়ির দরজা খুলে দেয়। এরপর শহিদুল ও তার সবুজসহ ৫ জন বাড়িতে প্রবেশ করে। প্রথমে বাড়ির মালিক নমির উদ্দিনের ঘরের ছিটকি আটকিয়ে দেওয়া হয়। এরপর হাবিবুরে ঘরে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে জবাই করে হত্যা করা হয়। আর পাশের ঘরে দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলে পপি। এসময় তিনি বিষয়টি না বুঝে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে টয়লেটে যাচ্ছিলেন। এসময় পেছন থেকে হাসুয়া দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয় এবং পরে গলা কেটে হত্যা করা হয়। তাদের পুরো পরিবারকে নিরবংশ করার জন্য ঘরে থাকা দুই শিশু পারভেজ ইসলাম এবং সাদিয়া রহমান গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। রাত ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।

এসপি আরও জানান- এ ঘটনার পর নিহতের বাবা নমির হোসেন, দুইবোন ডালিমা ও শিরিনা এবং ভাগিনা সবুজ রানা, ভগ্নিপতি শহীদুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়। তবে সবুজকে ব্যাপক জিজ্ঞাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। তার দেয়া তথ্যে রাতেই হত্যার কাজে ব্যবহৃত হাসুয়া শাহিনের বাড়ির সামনের ঝোপ থেকে উদ্ধার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে শাহিন মন্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া দুপুরে বাড়ির পাশে একটি পুকুরে পানি সেচে সেখান থেকে ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এ ঘটনার সঙ্গে আরও যারা জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। সম্পত্তির ভাগবণ্টন নিয়ে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত