ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

তাপদাহে বিপর্যস্ত ঈশ্বরদীর জনজীবন

তাপদাহে বিপর্যস্ত ঈশ্বরদীর জনজীবন

পাবনার ঈশ্বরদীজুড়ে চলমান তীব্র ও মাঝারি তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং চলমান তীব্র তাপদাহ জনজীবনকে মারাত্মকভাবে বিপন্ন করে তুলেছে এবং পাশাপাশি কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে ভয়াবহ শঙ্কা সৃষ্টির আশঙ্কা। বিশেষ করে ঈশ্বরদী অঞ্চলের ওপর দিয়ে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এর প্রভাবে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদনে বড় ধরনের শঙ্কার সৃষ্টি হতে পারে।

গত ১০ দিন ঈশ্বরদী ও এর আশপাশের ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। টানা তাপদাহে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে ঈশ্বরদী ও আশপাশের জনজীবন। বৈশাখের গরমের তীব্রতায় দুপুর হলেই সড়ক ও মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষজন ও যানবাহন চলাচল কমে আসছে।

এতে ঈশ্বরদী শহরসহ আশপাশের গ্রামাঞ্চলের বাজার গুলিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তাদের কেনাকাটায় ছেদ পড়ছে। দুপুর ১২টার পর থেকেই বাইরে বের হলেই চোখেমুখে যেন আগুনের আঁচ লাগছে। বৃষ্টি নেই, বাতাস নেই। তার ওপর ঠিকমতো থাকছে না বিদ্যুৎ। রোদ, গরম আর লোডশেডিংয়ে হাঁপিয়ে উঠেছেন মানুষ।

ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, গত ১২ এপ্রিল থেকে আজ বুধবার (২২ এপ্রিল ) গত ১০ দিন থেকেই ঈশ্বরদীর তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরেই আটকে আছে। আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেল তিনটায় ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করে। এটি এই মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস আরও জানায়, দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সাধারণত ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। আর তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি ওপরে উঠলে বলা হয় মাঝারি। এছাড়া ৪০ ডিগ্রি বা তার ওপরে উঠলেই তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন জানান, প্রায় ১০ দিন থেকে ঈশ্বরদীর তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই রয়েছে। এর মধ্যে শুধু ৩ এপ্রিল ঈশ্বরদীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৪ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর ৪ এপ্রিল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ৫ এপ্রিল ছিল ৩৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর ৩টায় ঈশ্বরদীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেল তিনটায় ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেন।

তিনি আরও বলেন, চলতি মৌসুমে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই কম। তাই গরমের তীব্রতা বেড়েছে। চলতি বছর মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিপাত হয়েছে গত ১১ মার্চ। ওই দিন মাত্র ১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর সর্বশেষ গত ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৪ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তাই তাপপ্রবাহ দীর্ঘমেয়াদি রূপ নিয়েছে। তবে এপ্রিলেই সাধারণত তীব্র তাপপ্রবাহের মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। তাই বৃষ্টি না হলে এই তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। ঈশ্বরদী-বানেশ্বর আঞ্চলিক মহাসড়কে রিকশাচালক আবেদ আলি বলেন, তাপদাহে আগুনের ফুলকায় যেন জিব্বা বের হয়ে যাচ্ছে।

অপরদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ ধীমান তানভীর বলেন, ঈশ্বরদীতে তাপদাহে এখন পর্যন্ত ফসলের তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। তিনি বলেন, তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদি রূপ নিলে ফসলের ক্ষতি হওয়ার সঙ্কা থাকে। বিশেষ করে বিভিন্ন ফসলের কারেন্ট প্রকাশসহ বিভিন্ন রকমের রোগের সৃষ্টি হতে পারে। বাগানের আম, কাঁঠাল ও লিচুর মুকুল ঝরে পড়ছে। কৃষকের চলমান ক্ষেতের ভুট্টার উৎপাদনও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও খরা ও তাপমাত্রার কারণে ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

এদিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালেসার্জন ডাক্তার ফারুক হোসেন বলেন, পোল্ট্রি খামারিদের জন্য বড় হুমকি। ডিম ও মাংসের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গরু-ছাগলের দুধ উৎপাদন কমার এবং প্রাণীর খাদ্য গ্রহণের পরিমাণও হ্রাস পেতে পারে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত