
সিরাজগঞ্জে এবার পাট (সোনালি আঁশ) চাষে বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। এরমধ্যেই চরাঞ্চলসহ মাঠজুড়ে পাটের সবুজ সমারোহের সৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষার শুরুতেই এ নতুন পাট বাজারে উঠবে। বাজারে দাম ভালো থাকলে কৃষকরা লাভবান হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কৃষকরা বেশি চাষাবাদ করেছে। খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় পাট চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। তারা বিভিন্ন জাতের পাট বীজ সংগ্রহ করে বপন করেছেন।
জেলার চরাঞ্চলসহ কাজিপুর, শাহজাদপুর, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ পাট চাষ বেশি হয়েছে। এসব পাটের মধ্যে রবি ১, জেআরও ৫২৪ এবং দেশি ও তোষা ছাড়াও মেছড়া পাট উল্লেখযোগ্য।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, প্রায় ৩ যুগ আগে এ জেলার বিভিন্ন স্থানে নানা জাতের পাট চাষ হতো। এসব পাট কাটা ও ধোয়ার কাজে গ্রামাঞ্চলে হিড়িক পড়ে যেত। পাটের শোলায় খাল বিল ও নদী নালার ঘাটে স্তূপ করে রাখতো। পাট চাষে খরচ বাদে লাভের অংকও ভালো ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে জুটমিল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ক্রমাগতভাবে পাটের চাষ কমে যায়। তবে বিশিষ্টজনরা বলছেন, ২০১৯ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্রমাগতভাবে বেশ কিছু জুটমিল পুনরায় চালু হতে থাকে। এজন্য পাটের চাহিদা ও দামও কিছুটা বাড়তে থাকে। সেইসাথে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগের পরামর্শে আবারও পাট চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে ওঠে কৃষকরা। এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক একেএম মঞ্জুরে মাওলা আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে এ পাট চাষ করা হয়েছে। খরচ কম লাভ বেশি হওয়ায় এ চাষ বাড়ছে। এ চাষে বাম্পার ফলনেরও আশা করা হচ্ছে। বর্ষার শুরুতেই এ নতুন পাট বাজারে উঠবে এবং বাজারে দাম ভালো থাকলে কৃষকরা লাভবান হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।