
এক দশক আগে প্রথমবার বিশ্বের সর্বোচ্চ আয় করা ক্রীড়াবিদের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সময় বদলেছে, ক্লাব বদলেছে, লিগ বদলেছে; কিন্তু বদলায়নি তার আর্থিক আধিপত্য। রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্তাস ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড পেরিয়ে বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরে খেললেও আয়ের দিক থেকে এখনও সবার নাগালের বাইরে পর্তুগিজ এই সুপারস্টার। বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ফোর্বসের সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী, গত ১২ মাসে রোনালদোর মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৩০০ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকারও বেশি। এর মাধ্যমে টানা চতুর্থবার এবং সবমিলিয়ে ষষ্ঠবার বিশ্বের সর্বোচ্চ আয় করা ক্রীড়াবিদ হয়েছেন তিনি।
রোনালদোর আয়ের বড় অংশ এসেছে মাঠের পারফরম্যান্স থেকে। আল-নাসরের সঙ্গে চুক্তি, বোনাস এবং অন্যান্য ফুটবল-সংশ্লিষ্ট আয় মিলিয়ে তিনি পেয়েছেন ২২৫ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড প্রচারণা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ মাঠের বাইরের কার্যক্রম থেকে আয় করেছেন আরও ৬৫ মিলিয়ন ডলার। তবে এবারের তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক হয়ে এসেছে মেক্সিকান বক্সার কানেলো আলভারেজের নাম। তিনি লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলে উঠে এসেছেন দ্বিতীয় স্থানে। ২০২৫ সালে তার মোট আয় ১৭০ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ১৬০ মিলিয়নই এসেছে রিংয়ের লড়াই থেকে। যদিও পারফরম্যান্সের বিচারে বছরটা খুব সুখকর ছিল না আলভারেজের জন্য। দুটি লড়াইয়ের একটিতে জয় পেলেও সেপ্টেম্বরে টেরেন্স ক্রফোর্ডের কাছে হেরে হারান অবিসংবাদিত সুপার মিডলওয়েট চ্যাম্পিয়নশিপ। কনুইয়ের অস্ত্রোপচারের কারণে কিছু সময় রিংয়ের বাইরে থাকলেও ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কানেলো। আগামী সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের রিয়াদে ক্রিস্টিয়ান এমবিলির বিপক্ষে ডব্লিউবিসি সুপার মিডলওয়েট শিরোপা লড়াইয়ে আবারও দেখা যাবে তাকে।
রোনালদোর দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি এবার অবস্থান করছেন তৃতীয় স্থানে। গত এক বছরে আর্জেন্টাইন মহাতারকার আয় ১৪০ মিলিয়ন ডলার। এর অর্ধেক এসেছে মাঠের পারফরম্যান্স থেকে, আর বাকি ৭০ মিলিয়ন ডলার এসেছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রম, স্পন্সরশিপ ও ব্র্যান্ড চুক্তি থেকে। শীর্ষ আয়ের তালিকায় আরও জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন খেলার বড় বড় তারকারা।