ঢাকা সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

নওগাঁয় আলু চাষিরা লোকসানে

* আলু চাষ করে লোকসানে পড়তে হয়েছে কৃষকদের। উৎপাদন খরচ না ওঠায় দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়েছে তাদের
নওগাঁয় আলু চাষিরা লোকসানে

নওগাঁয় আলু চাষ করে লোকসানে পড়তে হয়েছে কৃষকদের। উৎপাদন খরচ না উঠায় দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়েছে তাদের। লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে লাভের আশায় এ বছর আলু চাষ করেছেন কৃষকরা। উন্নত জাতের ডায়মন্ড, স্টিক ও কাটিনাল আলু চাষ করেছে তারা। কিন্তু আলু উত্তোলনের পর দাম না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে তারা। লাভের পরিবর্তে উল্টো লোকসান গুনতে হচ্ছে। গেল দুই বছর থেকে লোকসান গুনে এখন হতাশ হয়ে পড়েছে।

জেলার মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রামের কৃষক আলমগীর কবীর। গত বছর প্রায় ৪ বিঘা জমিতে স্টিক জাতের আলু চাষ করে বিঘাতে ফলন পেয়েছিলেন ১২০-১৩০ মণ। লাভ না হলেও লোকসান গুনতে হয়নি। এ বছরও একই পরিমাণ জমিতে আলু চাষ করেছেন। যেখানে বিঘাতে খরচ পড়েছে অন্তত ২৫-৩০ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় এ বছর ফলন হয়েছে বিঘাতে ৮০-৯০ মণ।

কৃষক আলমগীর কবীর বলেন- আলু চাষ করার জন্য আমন ধান রোপণ না করে জমি ফেলে রেখেছিলাম। এদিকে গত বছরের আলু হিমাগার থেকে বিক্রি করায় লাভ না হলেও লোকসান হয়নি। তবে এ বছর লাভের আশায় আলু চাষ করে দাম না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে। বাড়ির বীজ আলু থাকায় খরচ একটু কম হয়েছে। কিন্তু বাজারে দাম না থাকায় উৎপাদন খরচ উঠছে না। জেলার পত্নীতলা উপজেলা মাটিন্দর গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন- গত বছর আলু চাষে লোকসানে পড়তে হয়েছিল। এ বছর তার চেয়ে বেশি লোকসান ?গুনতে হচ্ছে। আলু আবাদে কেজিতে আমাদের ১০-১২ টাকা খরচ পড়েছে। আর বিক্রি হচ্ছে ৭-১০ টাকা কেজি। কৃষকদের দিকে সরকারের নজরদারির অভাব। এছাড়া কোনো ফসল আবাদ করলে কৃষক লাভবান হবে এমন কোনো পরামর্শ কৃষি অফিস থেকে আমাদের দেওয়া হয় না। যদি পরামর্শ পাওয়া যেত তাহলে কৃষকদের এভাবে লোকসানে পড়তে হতো না।

ওয়ারি গ্রামের কৃষক ফয়েজ উদ্দি বলেন- গত বছর বীজ আলু কিনতে হয়েছিল ৪-৫ হাজার টাকা বস্তা (৬০ কেজি)। এ বছর দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা বস্তা। শুধু বীজ আলুর দাম কম হলেও অন্য যেসব খরচ সেগুলো আগের মতই আছে। কৃষকদের কৃষি উপকরণে ভুর্তকি বাড়ানোসহ আলু রপ্তানির ব্যবস্থা করা হলে লাভবান হওয়া সম্ভব। জেলার বদলগাছী উপজেলার দেউলিয়া গ্রামের কৃষক ইদ্রিস আলী বলেন, গত কয়েক বছর থেকে আলুসহ বিভিন্ন সবজি চাষাবাদ করেন। এ বছর ৭ বিঘা জমিতে স্টিক (হাউব্রিড) জাতের আলুর আবাদ করে ফলন হয়েছে ১০০-১১০ মণ। যেখানে বিঘাতে খরচ পড়েছে ৩০-৩৫ হাজার টাকা। শ্রমিকের খরচ বেশি, রাসায়নিক সারের সংকট এবং আলুর ন্যায্য দাম না পাওয়ায় এবার আবাদ কমিয়ে দিয়েছি। যেখানে আমাদের প্রতি মণে উৎপাদন খরচ হয়েছে ৩০০ টাকার ওপর। আর বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকার নিচে। এতে করে লোকসানে পড়তে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে কৃষক আলু চাষ বন্ধ করে দিবে।

বেগুনজোয়ার গ্রামের কৃষক আইনুল হক বলেন- এক বিঘাতে দেশীয় জাতের আলুর আবাদ করেছিলাম। যেখানে ৬০ মণ ফলন হয়েছে। কিন্তু মৌসুমের শেষ সময় এসে বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে পানি জমে যায়। এতে কাঙ্খিত ফলন কম হয়েছে এবং পঁচন ধরেছে। নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হোমায়রা মন্ডল বলেন- জেলায় এ বছর ২১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে অর্জিত হয়েছে ২১ হাজার ৯৭০ হেক্টর। যা থেকে প্রায় ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ টন আলু উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন- গত বছরের লোকসানের কারণে কৃষক নিজ থেকেই আলু চাষ কমিয়েছে দেয়। এ কারণে গত বছরের তুলনায় এবার ৩ হাজার ৯৭০ হেক্টর কম পরিমাণ জমিতে আলু চাষ হয়েছে। তবে কৃষকদের কাছে পরামর্শ ছিল আলু আবাদ কমিয়ে রবিশস্য ও সরিষা করার জন্য। তারপরও কৃষকদের কাছে আলু বীজ থাকায় তারা আবাদ করেছে। তবে আলুর দাম কিছুটা কম থাকলে হিমাগারে সংরক্ষণ শুরু হলে দাম বাড়বে এবং কৃষক লাভবান হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত