ঢাকা সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ময়মনসিংহে হামের প্রকোপ : ১২ দিনে ৫ শিশুর মৃত্যু

ময়মনসিংহে হামের প্রকোপ : ১২ দিনে ৫ শিশুর মৃত্যু

ময়মনসিংহে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হওয়ায় গত ১২ দিনে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ জনে। গতকাল রোববার দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতালটির বিশেষায়িত ইউনিটে ৬৬ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে, যা অভিভাবকদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত শনিবার রাত ১১টার দিকে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার ছয় মাস বয়সী শিশু নুরুন্নবী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। একইদিন বিকেলে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরগোবদিয়া গ্রামের সাত মাস বয়সী শিশু লিয়ন মৃত্যুবরণ করে। লিয়নের বাবা আবদুর রহিম জানান, নিউমোনিয়া থেকে সেরে ওঠার পর শিশুটির শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দিলে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, কিন্তু তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এদিকে জামালপুর থেকে আসা দেড় বছরের শিশু তাবাসসুমা আক্তার বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার মা আফরোজা আক্তার বলেন, হঠাৎ জ্বর ও শরীরে লাল দানা দেখা দিলে তারা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তবে হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি তাকে আরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান জানান, চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ২৪ মার্চ তিনটি মেডিকেল টিম গঠন এবং শিশু ওয়ার্ডে ১০ শয্যার ‘হাম কর্নার’ চালু করা হলেও রোগীর চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানান, ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ১০৬ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ মার্চ, ২৬ মার্চসহ বিভিন্ন সময়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়।

সর্বশেষ দুই শিশুর মৃত্যুর পর মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ জনে। চিকিৎসকরা জানান, হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক শিশু নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও অন্যান্য জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে আসছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। এমনকি টিকা নেওয়া কিছু শিশুর মধ্যেও সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আক্তারুজ্জামান বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা নিয়মিত নমুনা পরীক্ষা করছেন। টিকাদানে কোনো ঘাটতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম জানান, অতীতে এমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি। রোগীদের সুরক্ষায় পৃথক কর্নার চালু করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে আইসোলেশন সুবিধা আরও বাড়ানো হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত