ঢাকা সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

হান্নানের জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি উদ্ভাবন

হান্নানের জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি উদ্ভাবন

দীর্ঘদিন শ্রম সাধনায় ব্যতিক্রমধর্মী জ্বালানি সাশ্রয়ী যন্ত্র আবিষ্কারের এক নিবৃত গবেষক হলেন ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের ধোনসাদ্দাহ গ্রামের উদ্ভাবক আব্দুল হান্নান। আব্দুল হান্নান দাবি করেছেন, তার উদ্ভাবিত জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে দেশে ৩০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব হবে।

বিগত ১৫ বছর ধরে বহু সাধনা ও পরিশ্রম করে জ্বালানি সাশ্রয়ে যে প্রযুক্তি তিনি উদ্ভাবন করেছেন তা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পরীক্ষিত হয়েছে এবং সেখান থেকে তার জ্বালানি সাশ্রয় প্রযুক্তি অনুমোদন হয়েছে। এছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয় স্বীকৃতি দিয়েছে । তিনি পেটেন্টের জন্য আবেদন করেছেন।

উদ্ভাবক আব্দুল হান্নান তার এই প্রযুক্তিটি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগে পরীক্ষার জন্য দিয়েছিলেন ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর প্রতিবেদনে প্রচলিত সিস্টেমে প্রতি এক ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে খরচ হয় .৪৮৩ গ্রাম জ্বালানি। অন্যদিকে আব্দুল হান্নানের উদ্ভাবিত প্রযুক্তিতে প্রতি এক ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে খরচ হয় .৩৫৭ গ্রাম জ্বালানি। ফলে এক ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে জ্বালানি সাশ্রয় হয় ১২৬ গ্রাম। এতে দেখা যায় প্রায় ২৬ শতাংশ জ্বালানির সাশ্রয় হয়।

উদ্ভাবক আব্দুল হান্নান জানান, সে হিসেবে দেশে বছরে প্রায় ২৬ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি সাশ্রয় হবে। আরও উচ্চতর গবেষণার জন্য আব্দুল হান্নানের যে অর্থ, যান্ত্রিক সহায়তা গবেষণাগার, প্রযুক্তিবিদ সহায়তা, পরিবেশ প্রয়োজন তার কোনোটাই তার নেই।

তিনি বলেন, আমি ২০০০ সালে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পর থেকে জ্বালানি সাশ্রয়ের প্রযুক্তিটি আমার মাথায় আসে। আব্দুল হান্নান তার এই প্রযুক্তি বাংলাদেশ সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরে রেজিস্ট্রেশনের জন্য দিয়েছেন। উদ্ভাবক আব্দুল হান্নানের জানান, তার এই জ্বালানি সাশ্রয় প্রযুক্তি অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তি সহায়তার জন্য এগোতে পারছেন না। সরকার অথবা প্রতিষ্ঠান অথবা ব্যক্তি উদ্যোগে যে কেউ সহযোগিতার হাত প্রসারিত করলে তার জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তিটি শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্বে ব্যবহার হবে এবং বিশ্ববাসী লাভবান হবেন।

আব্দুল হান্নান ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের ধোনসাদ্দাহ গ্রামে ১৯৮৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা কুতুব উদ্দিন একজন প্রবাসী। মাতা নূর নাহার গৃহিণী। সে ২০০০ সালে তিনি ফেনী শাহীন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। আর্থিক অভাব অনটনের কারণে তিনি আর পড়ালেখায় বেশিদূর এগোতে পারেননি। ২০০১ তিনি স্থানীয় ধোনসাদ্দাহ বাজারে ‘মিল্লাত কম্পিউটার অ্যান্ড ফটোকপি’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেন। এই দোকানে কাজ করতে করতে তার মাথায় জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তিটি আসে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত