ঢাকা রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোই বিএনপির মূল লক্ষ্য

জানালেন পানিসম্পদ মন্ত্রী
জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোই বিএনপির মূল লক্ষ্য

পাঁচ বছর সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। গতকাল শনিবার চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ইছের দাড়ী খাল খনন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা জানান মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

ইছের দাড়ী খালের পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, মানুষের উপকার করা এবং তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোই বিএনপি’র রাজনীতির মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, কৃষক ভালো থাকলে দেশের মানুষ ভালো থাকবে- এই বিশ্বাস থেকেই কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নের ডামোশ থেকে ঘোলদাড়ি পর্যন্ত ইছের দাড়ী খালের পুনঃ খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। কোদাল দিয়ে মাটি কেটে তিনি এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। উদ্বোধন শেষে তিনি খালের পাড়ে একটি বৃক্ষরোপণ করেন। সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, নালা, খাল ও জলধার খনন ও পূর্ণ: খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার এরইমধ্যে ৫৪ জেলায় খাল খনন উদ্বোধন শুরু করেছে। ১৮০ দিনে ১২০০ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক এ অনুষ্ঠান আয়োজন করেন।

গতকাল সকালে মন্ত্রী সড়কপথে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বেলা ১২টায় চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউসে পৌঁছান। এরপর চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি, অঙ্গসংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি তৃণমূল পর্যায় থেকে নেতৃত্ব দেওয়া ও সংগঠনকে শক্তিশালী করার নির্দেশ দেন। পরে সেখান থেকে দুপুর আড়াইটায় আলমডাঙ্গা উপজেলার অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

মন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত এলাকাবাসী, দলীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপি এমন একটি দল, যে দল মানুষের উপকার হবে এমন কাজ করার চেষ্টা করে। সেই লক্ষ্য থেকেই সারাদেশে খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খনন শেষ হলে ৩টি ইউনিয়নের প্রায় ৮ হাজার কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে প্রায় ১ হাজার ১৫০ হেক্টর জমি এই সেচ ব্যবস্থার আওতায় আসবে এবং প্রায় ৪০ হাজার মানুষ বিভিন্নভাবে এই খালের পানির সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, খালটি চালু হলে কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়বে। বর্তমানের তুলনায় প্রায় ২০ হাজার টন ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের বেশির ভাগই গ্রামে বাস করে এবং তাদের প্রধান পেশা কৃষি। তাই কৃষিকে শক্তিশালী ভিক্তির ওপর দাঁড় করানো জরুরী। কৃষক ভালো থাকলে দেশের মানুষও ভালো থাকবে। এ কারণে সরকার কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মিজ্ লুৎফর নাহার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরীফ, চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক কর্মকর্তাগণসহ জেলা-উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত