
নওগাঁ সদর উপজেলা কালিতলা ব্রিজ থেকে হাপানিয়া বাজার পর্যন্ত খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার বর্ষাইল ইউনিয়নের কালিতলা ব্রিজে কাজের উদ্বোধন করেন- নওগাঁ সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু। এক্সটেনডেড কমিউনিটি ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রজেক্ট-ড্রটন (ইসিসিসিপি-ড্রট) এর প্রকল্পের আওতায় কাজটি বাস্তবায়ন করছে- পল্লী কর্মণ্ডসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ)।
নওগাঁ সদর উপজেলার কালিতলা ব্রিজ থেকে হাপানিয়া বাজার পর্যন্ত খালটির দৈর্ঘ্য ৭ কিলোমিটার। খালটি পুনঃখননে কাজের বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৯৮ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৩ টাকা। বর্ষা মৌসুমে খালের পানি উপচে পড়লেও শুষ্ক মৌসুমে খালটি শুকিয়ে যায়। খালের পানি দিয়ে কৃষকরা সহজে ও কম খরচে জমিতে সবজি ও ধানের আবাদ করতে পারেন। দীর্ঘ বছরের খালটি খনন না হওয়ায় পলি পড়ে ভরাট হয়ে যায়। এতে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি সহজে খালের পাড় উপচে পড়ে ফসলি ক্ষেত প্লাবিত হয়। অন্তত ২০ বছর পর খালটি পুনঃখনন করা হচ্ছে। খাল খননে কয়েক হাজার কৃষক উপকৃত হবে।
কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, পাশের বদলগাছী উপজেলার মির্জাপুর মাঠ থেকে পানি এই খালি দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণে বারোমাসি বিলে চলে যায়। বালুভরা, মল্লিকপুর, কিত্তীপুর, হাপানিয়া, তেতুলিয়া, বর্ষাইল, মারমা, ঝাড়গ্রাম, কুয়ালগর, চকগৌরি গ্রামের পানি এই খাল দিয়ে যায়। প্রায় ২০ বছর আগে খনন হয়েছিল। দীর্ঘ সময় খনন না হওয়ায় ভরাট হয়েছে। বছরের অধিকাংশ সময় খালটি শুকনা থাকে। তবে খাল খনন হলে সবার জন্য সুবিধা হবে।
বর্ষাইল খোকা বলেন, খালের পাড়ে ১২ কাটা জমি আছে। যেখানে সারা বছর সবজির আবাদ করা হয়। খালে পানি থাকলে সেই পানি দিয়ে জমিতে সেচ দেওয়া হয়। তখন খরচ কম হতো। আর পানি না থাকলে গভীর নলকূপে শ্যালোমেশিন পানি দিয়ে সেচ দেওয়ায় খরচ বেশি পড়ে। তবে খাল খনন হলে সারা বছর পানি থাকবে এবং সুবিধা হবে। পরে তেঁতুলিয়া বিএমসি কলেজ মাঠে বর্ষাইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সানোয়ার হোসেন পিন্টুর সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল আলম গোল্ডেন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বায়েজিদ হোসেন পলাশ, বিএনপি নেতা মোসাদ্দুর রহমান রকেট, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দিদারুল হক রতন, যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ হায়দার টিপু, সদস্য সচিব রুহুল আমিন মুক্তার, জিপি অ্যাডভোকেট সারোয়ার জাহানসহ জেলা ও উপজেলা এবং ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা।
নওগাঁ সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু বলেন- বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের এরইমধ্যে খাল খননের বরাদ্দ দিয়েছেন। সদর উপজেলায় ৫টি খাল খনন করা হবে। খাল খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং কৃষি ও কৃষকরা উপকৃত হবেন। খাল খননে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা থাকবে।