ঢাকা রোববার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

রামিসার হত্যাকারীকে নিয়ম মেনেই শাস্তি দেওয়া হবে

রামিসার হত্যাকারীকে নিয়ম  মেনেই শাস্তি দেওয়া হবে

রামিসাকে হত্যার বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায় বিএনপি। বিচার কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নিয়ম মেনেই অন্যায়কারীর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তবে কিছু সংখ্যক মানুষ রাস্তাঘাট বন্ধসহ নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে আইন বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্ত করছে।’ গতকাল শনিবার বিকাল ৩টার দিকে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার এক সমাবেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ময়মনসিংহের বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সমস্ত ময়মনসিংহে প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার খাল আছে যা পুনঃখনন করা প্রয়োজন।’ জুলাই মাস থেকে প্রাইমারি স্কুল শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাগ ও ড্রেস পৌঁছে দিবে সরকার। পর্যায়ক্রমে দেশের সব স্কুলে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

রাজধানী পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রামিসা হত্যা ইস্যুতে আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। অন্যায়কারীকে শাস্তি দিতে কিছু নিয়মের মধ্যে যেতে হয়।’ তিনি বলেন, ‘যারা ঘোলাটে পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে তারা দেশের মানুষকে নিয়ে ভাবে না। তারা অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। এ বিষয়ে দেশের মানুষকে সচেতন থাকতে হবে।’ এখন যারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে, তারা ৫ আগস্টে যাদের এ দেশের মানুষ বিতাড়িত করেছে তাদের সঙ্গে তলে তলে সম্পর্ক করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন সময় মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের। বিএনপি সরকারের পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে কিছু গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করছে। যারা ন্যায়বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদের বিষয়ে দেশের মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে।’

রামিসা হত্যা মামলার বিচার শুরু ঈদের পর - আইনমন্ত্রী : আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডিএনএ রিপোর্ট আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া গেলে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে। আর ঈদের পরপরই শুরু হবে মামলার বিচার কার্যক্রম। গতকাল শনিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘আইনগত সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ : দায়িত্ব ও বাস্তবায়ন কৌশল’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

আইনমন্ত্রী বলেন, ডিএনএ রিপোর্ট ছাড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করলে পরবর্তী সময়ে বিচার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। তাই ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরপরই পুলিশ চার্জশিট দাখিল করবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের আগেই চার্জশিট দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। মামলাটির বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার প্রত্যয় জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ঈদের ছুটির পরপরই এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।

উচ্চ আদালতে এ ধরনের মামলার আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ার পর অনুমোদনের জন্য মামলাটি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। তবে এ সময় পেপার বুক বা মামলার বৃত্তান্ত প্রস্তুত করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়, যার কারণে চূড়ান্ত রায় পেতে বিলম্ব হয়। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়াটি কীভাবে আরও দ্রুত ও সহজ করা যায়, সে বিষয়ে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে।

শিশু সুরক্ষায় প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা ‘অতি জরুরি’ - ইউনিসেফ : ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় বিচার চেয়ে ক্ষোভণ্ডবিক্ষোভের মধ্যে সারাদেশে শিশু সুরক্ষায় প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও জোরদারের তাগিদ এসেছে ইউনিসেফের তরফে। বাংলাদেশে জাতিসংঘ শিশু তহবিল-ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেছেন, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত শিশুদের বিরুদ্ধে নির্মম ও যৌন সহিংসতার ঘটনা যে হারে বেড়েছে তাতে সারাদেশে শিশু সুরক্ষায় প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা ‘অতি জরুরি’ হয়ে পড়েছে। গতকাল শনিবার ‘শিশুদের ওপর বর্বরতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে’ এমন আহ্বান জানিয়ে এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ‘২০২৬ সালে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে নির্মম ও যৌন সহিংসতার ঘটনার যে হারে বাড়ছে তাতে সারাদেশে দ্রুত শিশু সুরক্ষা ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। ‘অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।’ গত মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে আট বছর বয়সী শিশু রামিসার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ বলেছে, ওইদিন সকালে পাশের ফ্লাটের বাসিন্দা ৩২ বছরের সোহেল শিশুটিকে গলাকেটে হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এরপর ফ্ল্যাটের সাবলেট এই ভাড়াটে গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন। পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনার পর সারাদেশ তোলপাড় হয়ে পড়ে এবং দেশের বিভিন্ন মহল থেকে বিচার চাওয়া হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া এলাকায় এক শিশুকে ‘ধর্ষণের’ সন্দেহভাজনকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যেতে চাইলে স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই তাকে ‘শাস্তি’ দেওয়ার কথা বলেন। তারা পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সংঘর্ষে ৪০ জন আহত হয়। এ ঘটনা ছাড়াও চট্টগ্রাম নগরীতে আরও দুই শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় শিশুর সুরক্ষায় প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও জোর করার আহ্বান জানিয়ে এ বিবৃতি দিল ইউনিসেফ। শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতার মতো অপরাধ বন্ধে ইউনিসেফের প্রতিনিধি বলেন, ‘একই সঙ্গে প্রতিরোধ, অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের, প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা, শিশুবান্ধব পুলিশ ও বিচারব্যবস্থা, কমিউনিটি সুরক্ষা এবং সামাজিক সেবাগুলোর মধ্যে বিদ্যমান ঘাটতিগুলো দূর করতে হবে। ‘নারী ও শিশুদের জন্য মনোসামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্কুল, মাদ্রাসা, কর্মক্ষেত্র, পাড়া-মহল্লা ও শিশুযত্ন কেন্দ্রগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়াতে হবে।’

রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুদের ওপর সাম্প্রতিক ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনায় ইউনিসেফ গভীরভাবে মর্মাহত ও স্তম্ভিত। এর মধ্যে রয়েছে ছেলে ও মেয়ে শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যার মতো ঘটনা। ‘অথচ যেসব জায়গায় তাদের নিরাপদ থাকার কথা ছিল, সেখানেই এসব সহিংসতার শিকার হয়েছে তারা। ভুক্তভোগী সব পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে ইউনিসেফ।’ তিনি বলেন, ‘সমাজে নীরবতা বজায় থাকলে সহিংসতা আরও ছড়িয়ে পড়ে। ইউনিসেফ শিশু, নারী, পরিবার, কমিউনিটি ও সমাজের মানুষকে যেকোনো সহিংসতা বা নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানাচ্ছে। এজন্য প্রয়োজনে আপনারা চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮-এ যোগাযোগ করুন, যা ভুক্তভোগী শিশুদের তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সেবা দিয়ে থাকে।’

‘নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের মর্যাদার প্রতি সম্মান জানানো উচিত’, এর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বাংলাদেশে ইউনিসেফের এই প্রতিনিধি বলেন, ‘তাদের ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা একধরনের নতুন নির্যাতন। যারা এগুলো শেয়ার করেন, তারা মূলত ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের মানসিক কষ্ট আরও বাড়িয়ে দেন এবং ভুক্তভোগীদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করেন।’

‘ইউনিসেফ সর্বসাধারণ, গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে যেন তারা ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকারকে সম্মান দেখান এবং এ ধরনের ছবি, ভিডিও বা তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকেন। এর বদলে অপরাধীদের শাস্তি থেকে দায়মুক্তি দেওয়ার অবসান ঘটানো ও মানুষের নিরাপত্তা জোরদার করার দাবিতে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।’

শিশু রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে রাঙ্গামাটিতে মানববন্ধন : গতকাল শনিবার সকালে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন দ্বাদশ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস বকুল, ইসরাত জাহান, হাসনা হেনা নুপুর, আয়েশা তুন্ন নাফরা এবং প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিনা সুলতানা প্রমুখ। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা শিশু রামিসা হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির দ্রুত বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা দেশের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রামিসার মতো শিশুরাও নিরাপদ নয়। এ দায় রাষ্ট্র এড়াতে পারে না। শিক্ষার্থীরা আরও বলেন ধর্ষণ ও হত্যার মতো অপরাধের দ্রুত বিচার, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

শিক্ষার্থীরা জানান, অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত না হলে অপরাধী প্রশ্রয় পাবে, সমাজে নিরাপত্তাহীনতা বাড়বে। তাই সরকারের কাছে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ঢাকায় শিশু রামিসা হত্যার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং বিচার নিশ্চিতের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে সড়ক অবরোধ : জামালপুরে সারা দেশে নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতাণ্ডনিপীড়ন প্রতিরোধ এবং শিশু রামিসা হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছে ‘হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্ক ও জেলা শিশু সুরক্ষা অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্ক’। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় শহরের দয়াময়ী মোড়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা দয়াময়ী মোড়ে ১০ মিনিট সড়ক অবরোধ করেন।

জেলা শিশু সুরক্ষা অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্ক ও হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্কের সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিমের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী ইমাম দুলাল, আইনজীবী শামীম আরা, জেলা শিশু সুরক্ষা অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক বিমল জেমস কস্তা এবং মনিমেলা খেলাঘর আসরের সভাপতি সিদ্ধার্থ শংকর রায়সহ অন্যরা।

বক্তারা বলেন, ‘দেশে নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান বক্তারা। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

রামিসার ডিএনএ টেস্ট সম্পন্ন, চার্জশিট রবিবার : রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীর আলোচিত আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। ফলে আজ রবিবারের মধ্যেই এ মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে দাখিল করা হতে পারে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান শনিবার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘ডিএনএ টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। আজ রিপোর্ট হাতে পেলে মামলার চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে। আশা করছি, আগামীকালই আদালতে চার্জশিট জমা দিতে পারবো।’ এদিকে এ মামলায় গত বুধবার গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন। ওইদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। জবানবন্দিতে সোহেল জানান, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যান। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করেন সোহেল। এর মধ্যে শিশু রামিসার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। তিনি আরও জানান, এ সময় সোহেল তাকে গলাকেটে হত্যা করেন। লাশ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করেন তিনি। এরপর দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে লাশ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখেন। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে তার পূর্ব কোনও শত্রুতা ছিল না।

মামলা সূত্রে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেন। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন লাশ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ওইদিন দুপুরে তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এরপর আদালতে পৃথক দুটি আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এর মধ্যে একটি আবেদন আসামি সোহেলের স্বীকারোক্তি মলক জবানবন্দি রেকর্ড করার ও অপর আবেদনে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে কারাগারে আটক রাখার আরজি জানানো হয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত