
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের দুই নারীসহ ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল মঙ্গলবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দীন সামি।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তাররা হলেন- তুলিয়া আক্তার ওরফে সুমি, দুলালী ওরফে মীম, মো. ওমর ফারুক, মো. শফিকুল ইসলাম শান্ত, সজল তালুকদার, ইয়াছিন, মো. নাছির খান, সাদ্দাম, মেহেদী হাসান শাহরিয়া, আজিজুল হাকিম টুটুল, মো. কামরুল ইসলাম ও মো. রাব্বি।
অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ
ডিসি মল্লিক আহসান বলেন, ১১ জানুয়ারি ভোরে সায়েদাবাদ জনপদ মোড় এলাকা থেকে চক্রের সদস্যরা দুই ব্যক্তিকে অপহরণ করে যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল কবরস্থান রোডের একটি বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তাদের মারধর করে দুই নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তোলেন এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নগদ ৪৮ হাজার টাকা, দুই ভরি ওজনের রুপার চেইন, একটি হিরার আংটি এবং বিকাশ ও ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে এটিএম বুথ থেকে মোট ৫ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ১৩ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
সামাজিক মাধ্যমে ফাঁদ
অন্য ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলি আক্তার সুমির সঙ্গে এক ব্যক্তির পরিচয় হয়। ১৫ ডিসেম্বর ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার হোসেন প্লাজার সামনে দেখা করার পর সুমি তাকে বাসায় নিয়ে যান। পুলিশ জানায়, বাসায় প্রবেশের কিছুক্ষণ পর ৬-৭ জন ব্যক্তি ওই ব্যক্তিকে মারধর করে ৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে তার কাছ থেকে নগদ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা, এক ভরি ওজনের দুটি স্বর্ণের আংটি এবং পরিবারের কাছ থেকে বিকাশে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ডেমরা থানায় মামলা হয়।
একই চক্রের সদস্য সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পৃথক দুই ঘটনার তদন্তে গ্রেপ্তাররা একই চক্রের সদস্য বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দীন সামি আরও বলেন, চক্রের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি করে টার্গেট ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলে নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নিতেন।