
একটি নতুন অ্যানড্রয়েড ফোন কেনার পর সেটআপ প্রক্রিয়ার শুরুতেই যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়, তা হলো- একটি গুগল বা জিমেইল অ্যাকাউন্ট। ফোনটি কেবল চালু করতেই নয়, বরং এর প্রতিটি ফিচার সঠিকভাবে ব্যবহারের জন্য জিমেইলকে বলা হয় অ্যানড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের ‘ডিজিটাল পাসপোর্ট’। গুগলের উদ্ভাবিত এই ইকোসিস্টেমটি জিমেইল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আপনার ফোনকে একটি সাধারণ যোগাযোগ যন্ত্র থেকে শক্তিশালী স্মার্ট ডিভাইসে রূপান্তর করে।
অ্যানড্রয়েড ফোনের প্রাণ হলো এর বিভিন্ন অ্যাপ। ফেসবুক, ইউটিউব কিংবা ব্যাংকিং অ্যাপ- সবই ডাউনলোড করতে হয় গুগল প্লে-স্টোর থেকে। একটি জিমেইল অ্যাকাউন্ট ছাড়া প্লে-স্টোর ব্যবহার করা অসম্ভব। এছাড়া আপনার ব্যবহৃত অ্যাপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নিয়মিত আপডেট পেতে এই অ্যাকাউন্টটি ডিজিটাল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে।
ফোন হারিয়ে যাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। কিন্তু যদি আপনার জিমেইল অ্যাকাউন্টটি ফোনে সচল থাকে, তবে আপনার কন্টাক্ট লিস্ট, ক্যালেন্ডার ইভেন্ট, এমনকি গুগল ফটোজ-এ থাকা সব ছবিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্লাউডে জমা থাকে। নতুন ফোন হাতে পাওয়ার পর কেবল জিমেইল দিয়ে লগইন করলেই মুহূর্তের মধ্যে আপনার পুরনো সব ডেটা ফিরে পাওয়া সম্ভব।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে জিমেইল অ্যাকাউন্ট অনন্য ভূমিকা পালন করে। ফোনটি চুরি হয়ে গেলে ‘ফাইন্ড মাই ডিভাইস’ ফিচারের মাধ্যমে এর অবস্থান শনাক্ত করতে বা দূর থেকে ফোনের সব তথ্য মুছে দিতে জিমেইল অ্যাকাউন্টের প্রয়োজন হয়। এছাড়া ‘ফ্যাক্টরি রিসেট প্রোটেকশন’ (FRP) এর মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করা হয় যে, আপনার জিমেইল পাসওয়ার্ড ছাড়া অন্য কেউ ফোনটি ফরম্যাট করে ব্যবহার করতে পারবে না।
গুগল ম্যাপসে আপনার প্রিয় জায়গাগুলো সেভ রাখা, ইউটিউবে আপনার পছন্দের ভিডিও সাজেস্ট করা কিংবা গুগল ড্রাইভের ফাইলগুলো সব ডিভাইসে একসাথে পাওয়া- এই সবকিছুর কেন্দ্রে থাকে আপনার জিমেইল আইডি। এটি আপনার ব্রাউজিং হিস্ট্রি এবং পছন্দগুলোকে মনে রেখে ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ ও ব্যক্তিগত করে তোলে।