
শস্যভাণ্ডারখ্যাত পাবনার চাটমোহরসহ চলনবিলে সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে সরিষা ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকের চোখে মুখে এখন হাসির ঝিলিক বইছে। কৃষকের বাড়ির উঠানে উঠানে চলছে কাটা ও মাড়াই উৎসব। কৃষকরা জানিয়েছেন, এ অঞ্চলে টরি-৭ জাতের সরিষা, বারী-৯, ১১, ১৪ ও ১৫ জাতের সরিষা চাষাবাদ হয়েছে। চলনবিলে মাঠে প্রায় সব এলাকাতেই সরিষার আবাদ হলেও উত্তরাংশের নিমাইচড়া ও হান্ডিয়াল ইউনিয়নের বিলগুলোর নয়নাভিরাম সরিষা ক্ষেত সবার দৃষ্টি কেড়েছে।
চাটমোহর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম জানায়, উপজেলাতে ৮ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। এ থেকে উৎপাদন হবে প্রায় ১০ হাজার ৫০০ টন।
মির্জাপুর গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম জানায়, ৫ বিঘা জমিতে স্বেতী সরিষা আবাদ করেছি। বিঘায় সাড়ে ৪ থেকে ৫ মণ হারে ফলন হচ্ছে। বাজারে প্রতিমণ সরিষার মূল্য এখন ৩ হাজার ১০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা। তিনি জানান, ১ বিঘা জমিতে সরিষা উৎপাদনে চাষ বাবদ ১ হাজার টাকা, বীজ বাবদ ২০০ টাকা, ডিএপি পটাশ ইউরিয়া সার মিলে ৩ হাজার, উঠানো খরচ বিঘাপ্রতি ১ হাজার ৫০০ টাকা হিসেবে মোট প্রায় ৫ হাজার ৭০০ টাকা খরচ হয়। ৩ হাজার ১০০ টাকা করে দরে বিঘাপ্রতি ৪ মণ সরিষা বাজার মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে ১২ হাজার ৪০০ টাকা। এতে বিঘাপ্রতি কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন প্রায় ৬ হাজার ৭০০ টাকা। এব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কুন্তলা রানী ঘোষ জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে সরিষা ভালো ফলন হয়েছে। তাছাড়া কৃষক সরিষা বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।