ঢাকা রোববার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

আজ সোনারা ও শিববাটি মেলা

আজ সোনারা ও শিববাটি মেলা

আজ রোববার সরকারি অনুমোদন ও ইজারা না থাকা সত্ত্বেও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় ঐতিহাসিক সোনারা এবং শিববাটি মেলা বসছে। প্রতি বছর বাংলা জৈষ্ঠ্য মাসের দ্বিতীয় রোববার পৃথক দুই স্থানে এ দুই মেলা বসে থাকে। আদমদীঘি উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের শাওইল ঘোড়াদহ গ্রামের একটি বড় পুকুরপাড়ে সোনারা এবং কুন্দগ্রাম ইউনিয়নের শিববাটি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বৃহৎ মেলা দুটি বসে। মেলা দুটিকে ঘিরে আদমদীঘি, দুপচাঁচিয়া, আক্কেলপুর, রানীনগর, কাহালু নন্দীগ্রাম উপজেলাসহ আশপাশের এলাকার গ্রামগঞ্জে ৭ দিন আগে থেকে সাজ সাজ রব পড়ে। মেয়ে, জামাইসহ দীর্ঘ দিনের পুরাতন আত্মীয় স্বজনদের দাওয়াতের মাধ্যম নিয়ে আসা হয় বাড়ী বাড়ী। মেলায় আত্মীয় স্বজনদের আগমনে গ্রাম গুলোতে ধুম পড়ে যায়। ঐতিহাসিক ও প্রসিদ্ধ মেলা দুটি প্রায় ১৭৪ বছর ধরে চিরাচরিত নিয়মে হয়ে আসছে বলে স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিরা জানায়। এবার এই মেলা বসানো সরকারি অনুমোদন কিংবা ইজারা দেওয়া হয়নি। ফলে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়েও শংকিত সাধারণ মানুষ।

এই মেলা দুটিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার পুরুষ ও নারীদের সমাগম ঘটে। পান খাওয়া চুনের জন্য বিখ্যাত এই মেলায় নাগরদোলা, পুতুলনাচ, সার্কাস, বড়বড় মাছ, রসগোল্লা, মাংস, ষ্টিলের ও কাঠের আসবাবপত্র, হাতের চুরি ফিতাসহ প্রভৃতি দ্রব্যের প্রচুর বেচাকেনা চলে। সরকারীভাবে মেলার দু’টির ইজারা এক দিনের হলেও মুলত: মেলা চলে ৪/৫ দিন ধরে। দ্বিতীয় দিনে বৌ মেলা অনুষ্টিত হয়। প্রতি বছর মেলা সরকারিভাবে ইজারা দেওয়া হলেও এবার সরকারিভাবে মেলা ইজারা দেওয়া হয়নি। তবে মেলায় বসানো দোকানপাট থেকে একটি মহল অলিখিতভাবে হাছিল বা টোলের টাকা উত্তোলন করে থাকে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান। মেলা’তে যাতায়াতের জন্য বিশেষ বাস, টেম্পু, রিক্সা, ভ্যানসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। মেলা অনুষ্ঠানের দিনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে মূষলধারে বৃষ্টিপাতসহ ঝড় বয়ে যাওয়া। এই প্রথা চিরাচরিত দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃতির খেয়ালেই হয়ে আসছে। মেলা দুটিতে আইনশৃংখলা যেন বিঘ্ন না ঘটে এজন্য পুলিশ বাহিনী সার্বক্ষনিক ডিউটিতে রাখা হলেও এবার বিশৃংখলা ঘটতে পারে বলে আশংকা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম জানান, সরকারিভাবে মেলা বসানো অনুমতি কিংবা ইজারা ও ডাক দেওয়া হয়নি। তারপরও মেলা বসানো স্থানীয় চেয়াম্যান বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত