ঢাকা রোববার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ঈদের আগে টানা ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার

ঈদের আগে টানা ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার

বিক্রির চাপ কমায় ঈদের আগে দেশের শেয়ারবাজারে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। নিয়মিত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে মূল্যসূচক। সেইসঙ্গে বাড়ছে লেনদেনের গতি। গতকাল শনিবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে সবকটি মূল্যসূচক। এর মাধ্যমে টানা চার কার্যদিবস শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলো।

ঈদ কেন্দ্রিক শেয়ার বিক্রির চাপ কমায় শেয়ারবাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের অনেকেই ঈদের খরচের টাকার জন্য শেয়ার বিক্রি করেন। এ কারণে ঈদ আগে বাজারে এক ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। এবারও ঈদ কেন্দ্রিক বিক্রির চাপ থাকায় কিছুদিন আগে শেয়ারবাজারে টানা দরপতন হয়েছে। এখন বিক্রির চাপ কমায় বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে ডিএসইর এক সদস্য বলেন, বর্তমান সরকার শেয়ারবাজারের বিষয়ে খুবই আন্তরিক। অর্থমন্ত্রীর প্রায় তার বক্তব্যে শেয়ারবাজারের প্রসঙ্গ তুলছেন। সুতরাং এই সরকার শেয়ারবাজার ভালো করতে চাই এই বার্ত এখন স্পষ্ট। তবে প্রতিবছর ঈদের আগে শেয়ার বিক্রির একটা চাপ থাকে। এবারও সেটা ছিল। সে কারণে কিছুদিন আগে বাজারে টানা দরপতন হয়। তবে এখন বিক্রির চাপ কমেছে। ফলে বাজারও ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে।

তিনি বলেন, শেয়ারবাজার দীর্ঘদিন ধরে মন্দার মধ্যে রয়েছে। ফলে অনেক ভালো ভালো কোম্পানির শেয়ার এখন বিনিয়োগ উপযুক্ত অবস্থায় রয়েছে। তবে মন্দার মধ্যেও কিছু কোম্পানির শেয়ার দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। তাই বিনিয়োগকারীদের সতর্কতার সঙ্গে বিনিয়োগ করা উচিত। বিনিয়োগকারীদের মনে রাখা উচিত শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ সব সময় ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে সঠিক সময়ে সঠিক শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারলে ভালো মুনাফা পাওয়া যায়। আবার ভুল সময়ে ভুল শেয়ারে বিনিয়োগ করলে বড় লোকসানেও পড়তে হবে। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, শনিবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দাম বাড়ার তালিকাও বড় হয়। ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক বড় উত্থান দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২১৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১১৭টির এবং ৬০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১২৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৪৬টির দাম কমেছে এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩৫টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩১টির এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৫৭টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪০টির এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৫টির দাম কমেছে এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৬৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩২৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত